স্বহীহ মুসলিমের ভূমিকা এবং সালাফী অনুপ্রেরণা

1200x630bbস্বহীহ মুসলিমের ভূমিকা এবং সালাফী অনুপ্রেরণা

লেখক: শাইখ আব্দুর রাকীব (মাদানী)

প্রভাষক ও দাঈ, জামেয়াতুল ইমাম আল বুখারী, কিশনগঞ্জ, ভারত

আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ স্বালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ আম্মাবাদঃ

স্বহীহ মুসলিম হাদীস গ্রন্থের মধ্যে একটি বিখ্যাত ও সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ। সাধারণতঃ মুহাদ্দেসীনে কেরাম তাদের গ্রন্থের প্রারম্ভে বর্তমান নিয়মে বিশেষ কোনো ভূমিকা লেখেন না কিংবা তাদের গ্রন্থের প্রথম অধ্যায় ও অনুচ্ছেদকেই ভূমিকা স্বরূপ গণনা করা হয়। কিন্তু ইমাম মুসলিম তাঁর স্বহীতে একটি বহুমুখী জ্ঞান সম্বলিত অতি মূল্যবান ভূমিকা প্রদান করেছেন। বর্তমানে মহান আল্লাহ আমাকে জামিয়াতুল ইমাম আল বুখারী কিশনগঞ্জে স্বহীহ মুসলিম পড়ানোর সুযোগ করে দেন। সেই সুবাদে আমি যখন ছাত্রদের ভূমিকাটি পড়াচ্ছিলাম তখন আমার অন্তরে সেই মূল্যবান ভূমিকার একটি দিক বার বার দৃষ্টি আকর্ষন করছিল। সেটি ছিল সালাফ ও সালাফী মানহাজের কিছু আদর্শ কিছু নীতি, যা তিনি তাঁর এই ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। এ কালের সালাফীদের জন্য সেই তথ্যগুলি হতে পারে অনুপ্রেরণার কারণ, হতে পারে অন্তর প্রশান্তির খোরাক, হতে পারে মার্গদর্শক, তাই আপনাদের সম্মুখে সেই তথ্য ভান্ডারের কিছুটা আলোকপাত করার প্রয়াস করছি মাত্র। আল্লাহ যেন আমাদের সঠিক জ্ঞান ও আদর্শ দান করেন এবং সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করার তাউফীক দেন আমীন।

সালাফ সালাফী নামের প্রামাণিকতাঃ ইমাম মুসলিম বলেনঃ

و قال محمد : سمعت علي بن شقيق يقول: سمعت عبدَ الله بن المبارك يقول على رؤوس الناس: دَعوا حديثَ عمرو بن ثابت، فإنه كان يسبُّ السلف. (مقدمة صحيح مسلم مع شرح النووي 1/49

অর্থঃ “মুহাম্মদ বলেছেনঃ আমি আলী বিন শাক্বীককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ বিন মুবারকের নিকট শুনেছি তিনি জনসম্মুখে বলেনঃ তোমরা আমর বিন সাবিতের হাদীস প্রত্যাখ্যান করো; কারণ সে সালাফদের গালি দিত”। [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম নাওয়াভীর শারাহ সহ-১/৪৯]

আজ আমাদের সমাজে বহু মুসলিম ভাই আছেন যারা সালাফ বা সালাফী নাম শুনলেই আঁতকে উঠেন এবং বড্ড গলায় বলেনঃ সালাফী বলে কনো কিছু নেই এটা নতুন নাম এরা নতুন সম্প্রদায়; অন্যদিকে তারা বেমালুম ভুলে যায় তাদের নামের অপ্রমাণিত রহস্য। তারা এমনও বলেঃ এরা সালাফী নয় বরং এরা খালাফী যা, থেকে হয়তঃ আপনারা অনেকে অবগত; অথচ ইমাম মুসলিমের মত তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস তাঁর স্বহীহ গ্রন্থের ভূমিকায় সালাফ শব্দটি উল্লেখ করছেন।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে যে, সালাফ শব্দটি নয় পাওয়া গেল কিন্তু সালাফী কি ভাবে প্রমাণিত হবে? এর সহজ উত্তর হচ্ছে, যারা সালাফের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তারাই সালাফী। প্রকাশ থাকে যে, সালাফ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে পূর্বসূরী। পূর্বসূরী বলতে কাদের বুঝায় এ নিয়ে উলামাগণের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাহবাদের সালাফ বলা হয়।

উল্লেখ থাকে যে, একজন মুসলিম কিতাব ও সুন্নাহ মানতে আদিষ্ট এবং কোনো শারঈ বিষয়ে উভয়ের অবর্তমানে সেই দুই উৎসের আলোকে গবেষক উলামাদের সিদ্ধান্ত ও গ্রহণীয়। কিন্তু কিতাব ও সুন্নাহ বুঝার ক্ষেত্রে এবং প্রকৃত স্বচ্ছ খাঁটি ঝকঝকে ইসলাম জানতে, বুঝতে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সালাফগণই উত্তম আদর্শ ও প্রকৃত নমূনা।

এখানে আরও উল্লেখ করা ভাল মনে করছি যে, আজ-কাল মুসলিম সমাজের কিছু সম্প্রদায় সালাফ পরিভাষার বদলে ‘আকাবির ও বুযুর্গ’ নামী পরিভাষা আবিষ্কার করেছে এবং সালাফগণকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ না করে বর্তমান যুগের আকাবীর, বুযুর্গ এবং পীর মাশায়েখদের আদর্শ মনে করছে।

সালাফদের গালি দেওয়াঃ

উপরোক্ত বর্ণনায় যেমন সালাফ শব্দটির সাথে পরিচিতি লাভ হয়, তেমন একথাও স্পষ্টরূপে বুঝা যায় যে, সালাফদের গলি-মন্দ করা নিষেধ আর যারা এমন করে তাদের হাদীস অগ্রহণীয়। বর্তমান যুগেও সালাফীগণ এই নীতিতে অবিচল যে, সাহাবীদের গালি দেওয়া ও তাদের দোষত্রুটি খোঁজা নিষেধ এবং যারা স্বয়ং গালি দেয়না কিন্তু গালিদাতাদের কোনো না কোনোরূপে সাহায্য করে তাদের সমর্থন করে তাদের থেকে সালাফীরা দূরে অবস্থান করে এবং তাদের থেকে দ্বীন গ্রহণ করা নিষেধ মনে করে। আর এটাই হচ্ছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আক্বীদা তথা বিশ্বাস।

ইমাম ত্বাহাবী বলেনঃ “আমরা আল্লাহর রাসূলের সাথীদের ভালবাসি, তাদের কারো ভালবাসায় সীমালংঘন করি না, আর না তাদের কারো থেকে নিজের সম্পর্কচ্ছেদ করি, তাদের যারা অপছন্দ মনে করে এবং তাদের কল্যাণ বর্ণনা করে না, আমরা তাদের অপছন্দ মনে করি, আমরা তাদের বর্ণনা কেবল উত্তমের সহিত করে থাকি। তাদের ভালবাসা দ্বীন, ঈমান ও ইহসানের অংশ এবং তাদের ভাল না বাসা কুফর মুনাফেকী ও সীমালংঘনের পরিচয়।” [শারহুল আক্বীদা আত ত্বাহাবিয়্যাহ ১/৪৬৭]

নবী (সাঃ) বলেনঃ “তোমরা আমার সাথীদের গালি দিও না, তোমরা আমার সাথীদের গালি দিও না, আল্লাহর কসম যার হাতে আমার জীবন আছে! তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় বরাবর সোনা খরচ করে দেয় তবুও সে আমার সাহাবীর এক অঞ্জলি বা আধা অঞ্জলী খরচ করার সমান হতে পারে না”। [স্বহীহ মিুসলিম, অধ্যায় ফাযাইলে সাহাবা  নং ২৫৪০]

তাই বর্তমান যুগের শিয়া সম্প্রদায় ও তাদের যারা আদর্শ মনে করে কিংবা শিয়া সমপ্রদায়ের আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠণ তৈরি করে তাদের সালাফীরা সমর্থন করে না আর না আদর্শ মনে করে। কারণ সালাফদের গালি দিলে যদি তার হাদীস অগ্রহণীয় হয়, তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়, যেমন এই বর্ণনায় প্রমাণিত; তাহলে তাদের থেকে দ্বীন শিক্ষা কি ভাবে বৈধ হতে পারে? আর কি ভাবেই বা তারা মুসলিমদের আদর্শ হতে পারে?

উল্লেখ থাকে যে, বর্তমান শিয়া সম্প্রদায় খলীফা আবু বাকর, উমার, উসমান, আয়েশা (রাযিঃ) সহ প্রায় সকল সাহাবাদের প্রকাশ্যেই গালি দেয়, অভিষাপ দেয়, সম্পর্কচ্ছেদ (বরাআত) ঘোষনা করে; বরং এমন করাটাই তারা তাদের দ্বীনের অংশ মনে করে। অন্যদিকে কিছু নামধারী আহলুস সুন্নাহ তাদের ভালবাসে, তাদের সাফাই গায় এবং তাদের মড্যেল মনে করে।

 হাদীস স্বহীহ যয়ীফ হওয়ার বাস্তবতা এবং যয়ীফ বর্ণনা থেকে সতর্কতাঃ

সালাফীদের এটি একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য যে, তারা আহলুল হাদীসের নিয়মানুযায়ী হাদীসকে স্বহীহ ও যয়ীফে বিভক্ত মনে করেন এবং নিজ আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে স্বহীহাইন ছাড়া অন্য সূত্রে বর্ণিত হাদীস পৌঁছালে তা যাঁচাই বাছাই এর আওতায় মনে করেন ; কারণ হাদীস স্বহীহ হয় আবার দূর্বলও হয়। তারা অজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে এমন মন্তব্য করেন না যে, আবু হুরাইরা (রাযিঃ) এর হাদীস কি ভাবে দূর্বল হয়? ইবনুমাজাহ ও তিরিমিযীর হাদীস কি ভাবে যয়ীফ হয়? কিংবা এমন অজ্ঞতাপূর্ণ অযৌক্তিক মন্তব্য করেন না যে, আমরাই বড় আহলে হাদীস; কারণ আমরা স্বহীহ হাদীস মানি, হাসান হাদীসও মানি, মুরসাল হাদীসও মানি, মুনক্বাত্বা ও মুআল্লাক হাদীসও মানি। এমন মন্তব্য তাঁরাই করতে পারে, যারা হাদীসের তাস্বহীহ ও তাযয়ীফের জ্ঞান থেকে অজ্ঞ কিংবা মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম, গভীর এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টার বিনিময়ে অর্জিত স্বহীহ হাদীসের ভান্ডারকে হীন দৃষ্টিতে দেখে এবং তা যয়ীফ বর্ণনার সাথে মিশ্রিত করে সুকৌশলে যয়ীফ ও দূর্বল হাদীসকে মুসলিম উম্মার মাঝে ছাড়িয়ে দিতে চায়। যারা জ্ঞাত বা অজ্ঞতা স্বরূপ এমন করে তাদের জন্য ইমাম মুসলিমের এই মুকাদ্দামা থেকে জ্ঞান নেওয়া উচিৎ এবং স্বহীহ ও যয়ীফ বর্ণনার মাঝে পার্থক্য করা আর স্বহীহ বর্ণনাকে আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দূর্বল বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করার নীতি শেখা উচিৎ।

ইমাম মুসলিম স্বীয় সনদে তাবেয়ী ইবনু সীরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ

“إنّ هذا العلمَ دينٌ، فانظروا عمن تأخذون دينكم”

“এই জ্ঞান (হাদীসের সূত্রের জ্ঞান) হচ্ছে দ্বীন, তাই তোমারা চিন্তা করো কার থেকে দ্বীন গ্রহণ করছো? [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম, ইমাম নবভীর শারহ সহ ১/৪৪]

অর্থাৎ যার তার থেকে হাদীস বর্ণনা করা যাবে না; বরং জেনে বুঝে সৎ বর্ণনাকারী কর্তৃক হাদীস বর্ণনা করা কাম্য। সৎ হলে গ্রহণীয় নচেৎ নয়।

ইমাম মালেক (রাহেঃ) বলেনঃ চার প্রকার লোক থেকে ইলম গ্রহণ অবৈধঃ বোকা যার বোকামি স্পষ্ট, নিজ প্রবৃত্তির দিকে আহব্বায়ক, যে আপসের কথা-বার্তায় মিথ্যা বলে যদিও সে হাদীসের ব্যাপারে মিথ্যুক না হয় এবং এমন সম্মানিত সৎ পরহেযগার ব্যক্তি যে নিজে বুঝে না যা সে বলে।

ইবনু সীরীনের বরাতে ইমাম মুলিম আরও বলেনঃ “ইতিপূর্বে লোকেরা হাদীসের সনদ/সূত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন না কিন্তু যখন ফিতনা প্রকাশ পেল, তখন তারা বলতেনঃ  তোমরা তোমাদের হাদীসের সূত্রের বর্ণনা দাও (কার থেকে শুনেছো) অতঃপর দেখা হত, বর্ণনাকারী যদি সে আহলুস সুন্নার অন্তর্ভুক্ত হত, তাহলে তার হাদীস নেওয়া হত। আর যদি সে বিদআতপন্থী হত, তাহলে তার হাদীস গ্রহণ করা হত না।” [ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম ১/৪৪]

বুঝা গেল, হাদীসের সনদ যাঁচাই-বাছাই এর আওতায় এবং আহলুল বিদআর হাদীস প্রত্যাখ্যাত।

ইমাম মুসলিম আরও বলেনঃ “আর যা এমন সম্প্রদায় থেকে বর্ণিত যারা আহলুল হাদীসদের নিকট অভিযুক্ত কিংবা অধিকাংশ মুহাদ্দেসের নিকট অভিযুক্ত আমরা তাদের হাদীস লিপিবদ্ধ করবো না, যেমন আব্দুল্লাহ বিন জাফর, আমর বিন খালিদ, আব্দুল কুদ্দুস শামী … … এবং যারা এই প্রকৃতির রাভী এবং হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত। অনুরূপ ঐ সকল লোকেরও হাদীস গ্রহণ করবো না, যাদের অধিকাংশ হাদীস মুনকার কিংবা ভুল-ভ্রান্তিকর”। [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম, নাওয়াভীর শারহ সহ ১/১৬-১৭]

বুঝা গেল, জাল, মুনকার এবং যয়ীফ হাদীস অগ্রহণীয়।

ইমাম মুসলিম তাঁর সুপ্রিয় ও সুযোগ্য ছাত্রকে সম্বোধন করে বলেনঃ “এবং জেনে রেখো – আল্লাহ তোমাকে তাওফীক দিন –এটা প্রত্যেক এমন ব্যক্তির উপর জরূরী, যে স্বহীহ ও যয়ীফ বর্ণনার মাঝে পার্থক্য বুঝে এবং সৎ ও অসৎ বর্ণনাকারী চেনে, সে যেন কেবল তার থেকেই হাদীস বর্ণনা করে যার উৎস সঠিক যার রাভী অভিযুক্ত নয় এবং যারা অভিযুক্ত আহলে বিদআতের অন্তর্ভুক্ত তাদের থেকে দূরে থাকে। [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম ১/১৯-২০]

ইমাম মুসলিম আরও বলেনঃ “বর্ণনাকারী যদি সৎ ও আমানতদার না হয় অতঃপর কেউ এটা জানার পরেও তার থেকে হাদীস বণনা করে এবং যারা তার সম্বন্ধে অজ্ঞ তাদের সেই দোষ সম্বন্ধে না বলে, তাহলে তার এমন করাটা গুনাহ হবে, মুসলিম জনসাধারণেদের প্রতারিত করা হবে; কারণ সেই সমস্ত হাদীসের অনেকটাই বা সমস্তটাই নিভরযোগ্য না হওয়ার কারণে আমলযোগ্য নয়। বরং সবগুলিই বা অধিকাংশই মিথ্যা যার কোনো ভিত্তি নেই”। [মুকাদ্দামাহ স্বহীহ মুসলিম ১/৮২-৮৩]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

كفى بالمرء كذبا أن يحدث بكل ما سمع “

অর্থঃ “মানুষের মিথ্যা হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বলে”।[ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম ১/৩২]

তিনি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরোও বলেনঃ

“শেষ যুগে আমার উম্মতে এমন কিছু লোক হবে যারা তোমাদের এমন হাদীস শোনাবে যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষেরা ইতিপূর্বে শুননি।” তোমরা তাদের থেকে সাবধানে থেকো। [ভূমিকা মুসলিম ১/৩৬]

ইমাম মুসলিম ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সূত্রে একই অর্থের কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করতঃ বলেছেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ “আমরা আল্লাহর রাসূল হতে হাদীস বর্ণনা করতাম যখন তাঁর প্রতি মিথ্যারোপ করা হত না কিন্তু লোকেরা যখন ভাল-মন্দ (সঠিক ও মিথ্যার) আশ্রয় নিতে শুরু করল, তখন আমরা বিরত থাকলাম।” [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম ১/৩৮]

উপরের তথ্যানুযায়ী আশা করি আমাদের বুঝতে কোনো অসুবিধা নেই যে, হাদীস স্বহীহ ও যয়ীফে বিভক্ত এবং দূর্বল বর্ণনা অগ্রহণীয় প্রত্যাখ্যাত। কিন্তু তার পরেও যদি কেউ এমন মন্তব্য করে যে, আমরা বড় হাদীস মান্যকারী কারণ আমরা সহীহ হাদীসও মানি যয়ীফও মানি! কিংবা বলেঃ হাদীস কি যয়ীফ হয়? তাহলে তাদের বুঝাবে কে? জানি না এটা তাদের অজ্ঞতা না এর পিছনে রহস্য অন্য কিছু?

শিয়াদের আক্বীদা (রাজআত/প্রত্যাবর্তন) এর খন্ডন এবং অহীর দরজা বন্ধ হওয়ার পর পুনরায় আকাশ থেকে গায়বী আওয়াজ আসার সংশয় নিরসণঃ

শিয়া সম্প্রদায়ের একটি অন্যতম আক্বীদা হচ্ছে রাজআতের প্রতি বিশ্বাস। আর এই আক্বীদার সারাংশ হচ্ছে মৃত্যুর পর পূনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসা প্রত্যাবতন করা। শিয়া পন্ডিত মুফীদ বলেনঃ ১২ ইমামে বিশ্বাসী শিয়াদের ঐক্যমত রয়েছে যে, বহু মৃতের পুনরায় ফিরে আসা জরূরী।[আওয়াইলুল মাক্বালাত পৃঃ ৫১]

অবশ্য শিয়া সম্প্রদায়ের রাজআতের এই আক্বীদাটি প্রথম রাজআতের আক্বীদার বর্ধিত ফলস্বরূপ আক্বীদা; নচেৎ তাদের প্রথম যুগের রাজআতের আক্বীদা একটু ভিন্ন। তাদের প্রথম যুগের প্রত্যাবতনের আক্বীদার বর্ণনা ও খন্ডনই ইমাম মুসলিমের ভূমিকায় উল্লেখ হয়েছে। তারা আলী (রাযিঃ) এর মৃত্যুর পর এই বিশ্বাস রাখতো যে, তিনি আকাশের মেঘে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে তিনি প্রয়োজনে আওয়াজ দিতে সক্ষম। ইমাম নবভী তাদের এই আক্বীদার কথা উল্লেখ করার সময় বলেনঃ “এটা তাদের বাতিল এবং মহামূর্খতার একটি বিষয় যা, তাদের নিবোধ ও বেকুফ জ্ঞানকেই মানায়।” [আল্ মিনহাজ,১/৬১]

ইমাম মুসলিম রাজআতে বিশ্বাসী জাবির যু’ফী নামক এক শিয়া রাভীর বরাতে উল্লেখ করেনঃ সুফইয়ান বলেনঃ আমি এক ব্যক্তিকে শুনলাম সে জাবিরকে আল্লাহ তাআলার এই আয়াত সম্বন্ধে (ব্যাখ্যা) জিজ্ঞাসা করলঃ

(فلن أبرحَ الأرضَ حتى يأذنَ لي أبي أو يحكم الله لي و هو خير الحاكمين ) سورة يوسف/80

অর্থঃ ( আমি এই স্থান থেকে সরবো না যতক্ষণে আমার পিতা আমাকে অনুমতি না দেন কিংবা আমার সম্বন্ধে আল্লাহ ফয়সালা না করেন এবং তিনিই সর্ব্বোত্তম বিচারক।) [সূরা ইউসুফ/৮০] জাবির উত্তরে বললঃ এর ব্যাখ্যা এখনও আসে নি। সুফইয়ান বললেনঃ সে মিথ্যা বলেছে। তখন আমরা সুফইয়ানকে বললামঃ এই কথা (এর ব্যাখ্যা এখনও আসে নি) দ্বারা সে কি বুঝাতে চেয়েছে?  সুফইয়ান বললেনঃ রাফেযীরা (শিয়ারা) বলে যে, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু মেঘের মধ্যে আছেন, তাই আমরা তাদের সাথে বের হব না যারা তার সন্তানের সাথে বের হবে যতক্ষণে আকাশ থেকে আওয়াজদাতা আওয়াজ না দেয়। তারা এ থেকে আলীকে বুঝাতে চেয়েছে তিনি নাকি আকাশ থেকে ডাক দিয়ে বলবেনঃ তোমরা অমুকের সাথে বের হও। জাবির বলতে চায় এটাই এই আয়াতের ব্যাখ্যা। সে মিথ্যা বলেছে, মূলতঃ এটি  ইউসুফ (আঃ) এর ভাইদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। [ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম ১/৬২]

উক্ত হাদীসে ইমাম মুসলিম (রাহেঃ) হাদীস বণনাকারী জাবির যু’ফী যে একজন অভিযুক্ত শিয়া বিদআতী রাভী তা উল্লেখ করতে চেয়েছেন কিন্তু সাথে সাথে তার সেই আক্বীদা ও তফসীরের এই বলে খন্ডন হয়েছে যে, রাভী সুফইয়ান তার এমন ব্যাখ্যাকে সে মিথ্য বলেছে বলে উল্লেখ করেছেন। তাই জাবির যেমন প্রত্যাখ্যাত তার রাজআতের বিশ্বাসও প্রত্যাখ্যাত।

গায়বী আওয়াজঃ

সালাফীগণ এটা বিশ্বাস রাখেন যে, মহান আল্লাহ কেবল মূসা (আঃ) এর সাথে সরাসরি কথপোকথন করেছেন [সূরা নিসা ১৬৪] তাই তাঁর উপাধি হচ্ছে কালীমুল্লাহ। আল্লাহর সাথে সরাসরি কথপোকথনকারী। তাছাড়া মহান আল্লাহ সমস্ত নবীগনের সাথে অহীর মাধ্যমে সম্বোধন করেন। আর জিবরীল (আঃ) সেই অহী নবীদের পৌঁছে দেন। মহান আল্লাহ বলেনঃ (এটা অসম্ভব যে, আল্লাহ (সরাসরি) কোনো মানুষের সাথে কথা বলবেন! কিন্তু অহীর মাধ্যমে কিংবা পর্দার আড়ালে কিংবা ফেরেশতা প্রেরণ করার মাধ্যমে। অতঃপর আল্লাহর আদেশে সে যা চায় অহী করে।) [সূরা শুরা ৫১]

অতঃপর সালাফীগণ বিশ্বাস রাখেন যে, শেষ নবী মুহাম্মদ স্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর সাথে সাথে অহীর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। ফেরেশতা জিবরীল (আঃ) আর কোনো মানুষের নিকট অহী নিয়ে আসবেন না। আর না মহান আল্লাহ আকাশ থেকে আওয়াজ দিয়ে মানুষকে সম্বোধন করবেন; কারণ এমনটির কোনো দলীল কিতাব ও সুন্নতে আসেনী। আর যেহেতু বিষয়টির সম্পর্ক আক্বীদার সাথে তাই তা অবশ্যই সহীহ দলীলের উপর ভিত্তিশীল। তাই বর্তমান যুগে মানুষ কোনো অহীর আশা করতে পারে না আর না কোনো গায়বী আওয়াজের প্রতি ভরসা করতে পারে কিংবা তা শরীয়ার দলীল বা উপদলীল মনে করতে পারে। তবে যেমন আহলুল বিদআহ শিয়া সম্প্রদায় এমন ঐশী আওয়াজে বিশ্বাস রাখে তথা ঐ আওয়াজের অপেক্ষা করে তেমন কিছু আহলুস সুন্নার মধ্যেও এই গায়বী আওয়াজের কথা পাওয়া যায়। মনে হয় শিয়াদের সেই রাজআতের আক্বীদার রেশ ধরেই এর সূত্রপাত ঘটেছে (আল্লাহই ভাল জানেন)।

আশ্চর্য হবেন না যদি আমি উপমহাদেশে প্রচলিত প্রসিদ্ধ মাযহাবের একটি প্রসিদ্ধ বইয়ের ভূমিকা থেকে এমন গায়বী আওয়াজের উল্লেখ করি। তাতে সন্মানিত ইমামের ফযীলতে একটি স্বপ্নের উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর বিশেষ ইবাদত ও রিয়াযতের সময় এমন গায়বী আওয়াজ আসে। শব্দগুলি এমনঃ

 فَهَتَفَ هَاتِفٌ مِنْ جَانِبِ الْبَيْتِ: يَا أَبَا حَنِيفَةَ قَدْ عَرَفْتَنَا حَقَّ الْمَعْرِفَةِ وَخَدَمْتَنَا فَأَحْسَنْتَ الْخِدْمَةَ، قَدْ غَفَرْنَا لَك وَلِمَنْ اتَّبَعَك مِمَّنْ كَانَ عَلَى مَذْهَبِك إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

অথঃ “ অতঃপর কাবার দিক থেকে আওয়াজদাতা আওয়াজ দিলঃ হে আবু হানীফা! তুমি সত্যিকারে আমাদের মারিফাত হাসিল করেছ (চিনতে পেরেছো) এবং আমাদের উত্তমরূপে খিদমত করেছ। আমরা তোমাকে ক্ষমা করলাম এবং কিয়ামত পযন্ত যারা তোমার মাযহাবে থেকে তোমার অনুসরণ করবে। [আদ্দুর আল মুখতার এবং হাশিয়া ইবনু আবিদীন (রাদ্দুল মুহতার) ১/৫২]

এধরনের বহু আওয়াজের কিচ্ছা আমরা আরো কিছু মুসলিম ভাইর মুখে তথা বইপুস্তকে পাই। কোথাও কবর থেকে আওয়ায আসে কোথাও মাযার থেকে কোথাও আকাশ থেকে আর কোথাও জায়নামায থেকে।

প্রশ্ন হল, অহী বন্ধ হওয়ার পর এই আওয়াজদাতা কে? এবং এই আওয়াজকে শরীয়ায় কি আখ্যা দেওয়া হবে? অহী না অন্য কিছু? আর যাদের নিকট এই আওয়াজ আসে তাদের কি আখ্যা দেওয়া হবে? নবী না অন্য কিছু কারণ; অহী তো কেবল নবীগণের প্রতি আসে। মহান আল্লাহ তো সরাসরি মানুষকে সম্বোধন করেন না যেমন ইতিপূবে উল্লেখ হয়েছে। তাহলে বাকী থাকল অহীর মাধ্যম। আর অহী তার প্রতি হয় যিনি নবী কিংবা রাসূল হন আর তারা তো নবী বা রাসূল না। সত্যিকারে এই আওয়াজদাতা ও আওয়াজ প্রাপ্তের রহস্য আজব! আর নাহলে বলতেই হয় সেই শিয়া সম্প্রদায়ের রাজআতের আক্বীদার কিয়দাংশের বহিঃপ্রকাশ, যা প্রত্যাখ্যাত।

শরীয়তের জ্ঞান কিতাব সুন্নাতে বিদ্যমান গোপন/বাতেনি জ্ঞান বলে কিছু নেইঃ

পীর-ফকীর ও সূফী সম্প্রদায়ের একটি দাবী হচ্ছে, তাদের পীর-অলীদের নিকট নাকি গোপন এলেম-জ্ঞান রয়েছে যা অন্য সম্প্রদায়ের নিকট নেই।  তারা কুরআন ও সুন্নতের জ্ঞানকে যাহিরি জ্ঞান বা শরীয়তী জ্ঞান বা কিতাবি জ্ঞান মনে করে আর তাদের পীরদের নিকট বিদ্যমান সেই রহস্যময় কল্পিত জ্ঞানকে বাতেনী জ্ঞান বা মারেফতী জ্ঞান কিংবা ভেদে মারেফতের জ্ঞান বলে থাকে। সেই জ্ঞান নাকি ৭০% ভাগ।  আর কুরআন সুন্নাহ এবং এই দুই মূল উৎস থেকে উৎপন্ন জ্ঞান নাকি কেবল ৩০% ভাগ। অর্থাৎ ইসলামের ১০০% ভাগ ইলমের মধ্যে তাদের সেই গোপন এলেম হচ্ছে ৭০% ভাগ আর বাকি কুরআন, হাদীস, ফিকহ, তাফসীর, আক্বীদা ইত্যাদি মিলে মাত্র ৩০% ভাগ।

যদি তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়, ইলমের এত বড় ভান্ডার তাদের কে দিয়েছেন এবং এটা তারা কি ভাবে পেয়েছে? অর্থাৎ সেই গোপন জ্ঞানের সূত্র কি? তাহলে তারা বলে: এই জ্ঞান নবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাস করে আলী (রাযি:) কে দিয়েছিলেন আর তিনি তা হাসান বাস্বরীকে দিয়েছিলেন আর তার থেকে সূফী মাশাইখগণ সিনা বসিনা পরম্পরাগতভাবে পেয়েছেন।  অর্থাৎ আধ্যাত্বিকরূপে হাসান বস্বরীর বক্ষ থেকে পীর-বুযুর্গদের বক্ষে ট্রান্সফার হয়েছে।

সূফীদের এই দাবীর খন্ডন স্বহীহ মুসলিমের ভূমিকায় উল্লেখ হয়েছে, কাতাদা (রাহে:) আবু দাঊদ আল্ আ’মা নামক জনৈক রাভীর একটি বিশেষ দাবীর খন্ডনকালে বলেছেন:

فوالله ما حدثنا الحسن عن بدري مشافهة

অর্থ: {আল্লাহর কসম! হাসান (বস্বরী) কোনো বদরী সাহাবী হতে সরাসরি হাদীস বর্ণনা করেন নি।} কাতাদাহ রাহেমাহুল্লাহর এই উক্তি একটি স্পষ্ট উক্তি যে, হাসান বস্বরী (রাহে:) কনো বদরী সাহাবী হতে সরাসরি হাদীস বর্ণনা করেন নি ; অথচ আলী (রাযি:) বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাই সূফী ও পীরদের বাতেনী গোপন জ্ঞান ভান্ডারের সূত্র একটি মিথ্যা সূত্র এবং তাদের সেই জ্ঞানের সূত্রের দাবীত্ত মিথ্যা দাবী। ফলস্বরূপ বলা যেতে পারে, তাদের সেই বাতেনী মারেফতী ইলম ভান্ডার কোনো শারঈ ইলম নয় এবং তা মানা ও বিশ্বাস করাত্ত ভন্ডতা ও ভ্রষ্টতা যা, নিছক একটি কল্পিত ভুয়া ও মানব রচিত মিথ্যা রহস্যকর জ্ঞানের ধারনা ও প্রতারনা।

(উল্লেখ্য, এই গোপন বাতেনী জ্ঞানের দাবী শিয়ারাত্ত করে থাকে। তারা বলে থাকে আলী (রাযি:) আল্লাহর অস্বী বা তিনি আল্লাহ কর্তৃক অসিয়তকৃত। আর তার নিকট রয়েছে বিশেষ জ্ঞান যা অন্য কারো কাছে নেই। আর সেই জ্ঞান তিনি দিয়ে গেছেন তাঁর সন্তান হাসান ও হুসাইন (রাযি:) কে। অত:পর তার থেকে ট্রান্সফার হয়েছে শিয়াদের বারো ইমামদের বক্ষে। সূফীদের বাতেনী জ্ঞান আর শিয়াদের অসিয়তকৃত জ্ঞানের মাঝে মিল লক্ষ্যনীয়!)

৬- বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে মুসলিমদের আহলুস্ সুন্নাহ ও আহলুল বিদআহ নামকরণ বৈধ:

বর্তমান যুগে এমন কিছু মুসলিম ভাই আছেন যারা মনে করেন যে, মুসলিমকে হানাফী, শাফেঈ, সালাফী, আহলুল হাদীস ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষিত করা যাবে না। যারা এমন পরিচয় দেয় তাদের তারা খুবই মন্দ মনে করেন। এমন সংশয়ের উত্তরো স্বহীহ মুসলিমের ভূমিকায় রয়েছে। ইমাম মুসলিম তাবেঈ ইবনু সীরীনের বরাতে উল্লেখ করেছেন:

لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الْإِسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ، قَالُوا: سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ، فَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ، وَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ فَلَا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُم

“ইতিপূর্বে লোকেরা হাদীসের সনদ/সূত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করত না কিন্তু যখন ফিতনা প্রকাশ পেল, তখন তারা বলল: তোমরা তোমাদের হাদীসের সূত্রের বর্ণনা দাও (কার থেকে শুনেছো) অতঃপর দেখা হত, বর্ণনাকারী যদি আহলুস সুন্নার অন্তর্ভুক্ত হত, তাহলে তার হাদীস নেওয়া হত। আর যদি সে বিদআতপন্থী হত, তাহলে তার হাদীস গ্রহণ করা হত না।” [ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম ১/৪৪]

এখানে লক্ষ্যণীয় হচ্ছে, তাবেঈদের যুগে এবং হাদীস সংকলনের স্বর্ণযুগে মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি নাম আবির্ভাব হয়; একটি আহলুস সুন্নাহ বা সুন্নার অনুসারী অন্যটি আহলুল বিদআহ বা বিদআত পন্থী।  যেই সময় বড় বড় তাবেঈ তথা সাহাবাগণের সন্তান জীবিত এবং  মুহাদ্দেসীনদের একটি বিশাল জামাআত সহ ফুকাহায়ে কেরামের সুযোগ্য দল বিদ্যমান।  তারা মুসলিম জামাআতের উপরোক্ত দুটি নাম হোয়ায় কি আপত্তি তুলেছিলেন, উম্মতকে সতর্ক করেছিলেন বা এ বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, মুসলিমদের কেবল একটিই নাম হবে আর তা হচ্ছে মুসলেমূন বা মুসলিম? আহলুস্ সুন্নাহ এবং আহলুল বিদআহ বলা যাবে না।  তাই খাঁটি মুসলিমদের দলে যদি ভেজাল মুসলিম অবস্থান করে এবং ইসলামের নামে এমন কাজ-কর্ম এবং বিশ্বাস রাখে যা ইসলাম বহির্ভুত, এমন সময় তাদের ভিন্ন নামকরণ করা বৈধই নয় বরং জরূরী যেন আসল হতে নকলের তফাৎ হয়, খাঁটিঁ এবং ভেজালের মধ্যে পার্থক্য করা যায়।

৭- হাদীস বর্ণনাকারীর দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা গীবত নয়:

ইমাম মুসলিম (রাহে:) বলেন: আমাকে আমর বিন আলী ও হাসান আল্ হুলোয়ানী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে আফ্ফান বিন মুসলিম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা ইসমাঈল বিন উলাইয়্যার নিকট ছিলাম। সেই সময় এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি হতে হাদীস বর্ণনা করলো। তখন আমি বললাম: সে সৎ নয়। তখন এক ব্যক্তি (আমার কথা শুনে বলল) তুমি তার গীবত (পরনিন্দা) করলে। তখন ইসমাঈল বিন উলাইয়্যা বললেন: সে তার গীবত করেনি বরং সে বিচার করেছে যে, সে সৎ বর্ণনাকারী নয়। [ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম/৭৭]

এখানে আফ্ফান বিন মুসলিম হাদীস বর্ণনাকারীকে অসৎ বললে আর এক ব্যক্তি এটাকে গীবত মনে করে কিন্তু হাদীসের বিখ্যাত ইমাম, ফকীহ ও মুফতী [সিয়ারু আলামিন্নুবালা, নবম খন্ড ইবনু উলাইয়্যাহ] ইসমাঈল বিন উলাইয়্যা এটাকে গীবত মনে করছেন না।

ইমাম মুসলিম বলেন: আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর বিন আলী আবু হাফস। তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদের কাছে শুনেছি। তিনি বলেন: আমি সুফইয়ান সাউরী, শুবা, মালিক এবং ইবনু উআইনাকে সেই ব্যক্তির সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছি যে হাদীসের ক্ষেত্রে সৎ বর্ণনাকারী নয়; আর মানুষ আমাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে? (আমি কি তার অসততা তাদের বলে দিব?) তাঁরা সকলে বলেন: তার সম্পর্কে বলে দাত্ত সে সৎ নয়। [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম ১/৫১]

হাদীস বর্ণনা করার মূল উদ্দেশ্য হল, নবী স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের যেই বিধান প্রদান করেছেন তার প্রচার-প্রসার তথা তাবলীগ। তাই প্রশ্ন আসে আজো যারা বিভিন্নরূপে দ্বীনের প্রচার ও দাত্তয়াত তাবলীগে নিয়েজিত। যেমন দাঈ, বক্তা, লেখক, বিভিন্ন দাত্তয়াতি দল, জামাআত ও সংগঠন। তাদের মধ্যে যারা অসৎ এবং যারা ভুল-ত্রুটি ও অপব্যাখ্যাকারী এমনকি যারা শিরক ও বিদআতের আহব্বায়ক, তাদের ভুল-ত্রুটি উল্লেখ করা গীবত হবে কি? আজ এই নীতি অবলম্বন সঠিক হবে কি যে সবাই যেহেতেু ভাল উদ্দেশ্যে কাজ করছে, তাহলে করতে দিন ভুল-ত্রুটি ধরার প্রয়োজন নেই!

আজ সমাজে সালাফীগণই অসৎ দাঈ, মুবাল্লিগ ও দল ও সংগঠনের ত্রুটি উল্লেখে অগ্রনী ভূমিকা রাখে এবং এ কারণে তারা অনেকের নিকট নিন্দনীয় কিন্তু এই নিয়ম সুফইয়ান সাউরী, শুবা, মালিক এবং ইবনু উআইনাহ সহ সালাফদের সিদ্ধান্ত দ্বারা সমর্থিত। তবে ভুল-ত্রুটি বর্ণনার করারত্ত একটি নিয়ম আছে, যা খেয়াল রাখা আবশ্যক।

৮- মানুষ পাপ করলে ঈমান থেকে বের হয়ে যায় এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী হয়ে যায় তবে তাকে কাফের বলা যাবে না বরং সে ফাসেক চির জাহান্নামী।  এমন বিদআতী মুতাযিলী বিশ্বাসের খন্ডন:

মু’তাযিলা একটি প্রাচীন ভ্রান্ত ফেরকা। তাদের আক্বীদা হল, ইহজগতে কেউ পাপ করলে সেই পাপী ঈমান থেকে বের হয়ে যায় কিন্তু তাকে কাফের বলা যাবে না কিন্তু সে সবসময়ের জন্য জাহান্নামে থাকবে। [শারহু মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম, নভবী ১/৬৮] অনেকে এই মন্তব্যকে দুই স্তরের মাঝের স্তর বলে থাকে (মানযিলাতুন বাইনাল মানযিলাতাঈন) । কারণ তাদের বিশ্বাসানুযায়ী সে না তো মুমিন আর না কাফের; বরং উভয়ের মাঝে অবস্থানকারী। এই আক্বীদা সালাফদের নয়। সালাফগণের বিশ্বাস হচ্ছে, শিরক, কুফরী এবং বিশ্বাসগত নিফাক ব্যতীত পাপ করার ফলে কোনো ব্যক্তি ঈমান থেকে বের হয় না। সেই পাপী মৃত্যুর পূর্বে তাত্তবা করলে এবং তার তাত্তবা কবূল হলে সে পাপমুক্ত হয়ে কিয়ামতে উঠবে। নচেৎ সে তার পাপানুযায়ী শাস্তি পাবে অত:পর জান্নাতে যাবে কিন্তু চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না। যেমনটা মু’তাযেলা সম্প্রদায় মনে করে।

স্বহীহ মুসলিমের ভূমিকায় এমন মু’তাযেলি রাভীদের হাদীস গ্রহণ করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এরা সহীহ হাদীস নিজ বিশ্বাসের পক্ষে যেভাবে ব্যাবহার করত তারো উদাহারণ পেশ হয়েছে।

ইমাম মুসলিম বলেন: আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছে আমর বিন আলী আবু হাফস। তিনি বলেন: আমি মুআয বিন মুআযের কাছে শুনেছি তিনি বলেন: আমি আউফ বিন আবী জামীলাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আমর বিন উবাইদ আমাদের হাসান থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর রাসূল বলেন: ‍ যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উঠাবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়”।  আউফ বলেন: আল্লাহর কসম! আমর মিথ্যা বলেছে। সে এ দ্বারা তার খবীস মত (মুতাযেলি বিশ্বাস) সাব্যস্ত করতে চায়। [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম/৬৮]

ইমাম নভবী উক্ত বর্ণনার ব্যাখ্যায় বলেন: যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উঠাবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়”।  এই বর্ণনাটি স্বহীহ এবং তা বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত।  ইমাম মুসলিম উক্ত হাদীসকে এই অধ্যায়ের পর বর্ণনা করেছেন।  জ্ঞানীদের নিকট উক্ত হাদীসের অর্থ হল: সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের তরীকা/পন্থা, ইলম ও আমলের অনুসরণকারী।  এই হাদীসের ব্যাখ্যার উপমা হচ্ছে, যেমন কেউ তার সন্তানকে ঐ সময় ধিক্কার স্বরূপ বলে, যখন সেই সন্তানের কাজ তাকে অপছন্দ হয়: তুমি আমার সন্তান না।  এই হাদীসের শব্দের মত যাবতীয় হাদীসের এই একই ব্যাক্ষা প্রযোজ্য হবে।  যেমন এই হাদীস (যে ধোকা দিবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়)।  [ব্যাখ্যা, ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম/৬৮]

ইমাম নভবীর উপরোক্ত ব্যাখ্যার সারাংশ হল, যাবতীয় এমন হাদীস যাতে এই শব্দ থাকবে যে, ( যে এমন করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় কিংবা দলভুক্ত নয়) তার অর্থ এটা নয় যে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়, কাফের হয়ে যায়; বরং ঐসব হাদীসের অর্থ হবে: ঐরূপ কাজ করা আমার তরীকা নয় কিংবা আমার নিয়ম নয়, কিংবা আমাদের কাজ নয়।  কিন্তু মুতাযেলীদের বিশ্বাস যেহেতু এই যে, পাপ করলে সে ঈমান থেকে বের হয়ে যায় তাই তাদের নিকট এমন হাদীসের অর্থ হবে, সে ঈমান থেকে বের হয়ে যায় আর সে মুমিন থাকে না।  উপরোক্ত বর্ণনায় হাদীস বর্ণনাকারী আউফ আমর বিন উবাইদকে এ কারণে মিথ্যুক বলেনি যে, এই হাদীসটি অপ্রমাণিত; বরং তার মিথ্যুক বলার কারণ হচ্ছে সে হাসানের নিকট এই হাদীস না শোনার পরেত্ত হাসান থেকে বর্ণনা করেছে এবং যেহেতু তার আক্বীদা হল, পাপ করলে পাপী ঈমান থেকে বের হয়ে যায় এবং চিরজাহান্নামী হয়ে যায়, তাই সে এই হাদীস দ্বারা নিজের আক্বীদা সাব্যস্ত করত: মুসলিমের উপর উত্তোলনকারীকে কাফের বলতে চায়, যা সালাফ তথা আহলে সুন্নতের বিশ্বাস নয়; বরং বিদআতী মুতাযেলীদের বিশ্বাস।  [শারহু স্বহীহ মুসলিম ১/৬৮]

এই মুতাযেলী সম্প্রদায় থেকে দ্বীন শেখা বৈধ নয় তাই সালাফগণ তাদের থেকে সতর্ক করতেন।  হাদীসের পন্ডিত আইয়্যূব সাখতিআনী একদা জানতে পারেন যে, সাল্লাম বিন আবী মুত্বী মুতাযেলী আমরের কাছে যাত্তয়া আসা করে, তখন তিনি সাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন: যে ব্যক্তির দ্বীন সম্বন্ধে তুমি আশংকামুক্ত নত্ত, তার হাদীস কি নিরাপদের হতে পারে? [ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম/৬৯]

এ যুগেত্ত মুতাযেলি আক্বীদা ও মুতাযেলীদের বই পুস্তক পড়া থেকে সালাফীগণ অন্যদের সতর্ক করে থাকেন আর এটা সালাফদের নীতি কিন্তু আমাদের সমাজে এমনো লোক পাত্তয়া যায় যারা নির্দ্বিধায় মুতাযেলী আক্বীদা পোষণকারী লেখকের বই পুস্তক পড়ে থাকে বরং সে সকল তফসীর ও কিতাবাদী তাদের নিকট প্রিয় ও সমাদৃত! আমরা বলবো: যে ব্যক্তির দ্বীন সম্বন্ধে আপনি আশংকামুক্ত নন, তার বই-পুস্তক কি নিরাপদের হতে পারে?

 কেচ্ছা-কাহিনি বর্ণনাকারী থেকে সতর্ক থাকা:

প্রায় হাদীস সংকলনের যুগ থেকে এক দল লোকের আবির্ভাব ঘটে। গল্প-কাহিনি বলা তাদের পেশা ছিল। এই সম্প্রদায়ের লোকেরা শ্রোতাকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে, তাদের হাসাতে এবং কাঁদাতে গল্প আবিষ্কার করতো এবং তা রাসূল স্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্পর্কিত করে হাদীস বলে চালিয়ে দিত। অর্থাৎ জাল কাহিনি হাদীস হিসাবে প্রচার করতো। [আস সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা, সিবাঈ ১/৮৫]

এমন সম্প্রদায় থেকে সালাফগণ লোকদের সতর্ক করতেন যেন তাদের থেকে কেউ হাদীস গ্রহণ না করে। এখনো সালাফীদের দাত্তয়াতী নীয়মে কেচ্ছা-কাহিনি বলে তাবলীগ করার নিয়ম নেই; যদিত্ত প্রয়োজনে কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত কাহিনি এবং সত্য কাহিন বলার ইসলামে অবকাশ রয়েছে কিন্তু কিতাব-সুন্নাহকে দ্বিতীয় স্তরে রেখে কেচ্ছা-কাহিনিকে প্রাধান্য দেত্তয়া কিংবা এমন বলা যে, সাধারণ মানুষদের জন্য কেচ্ছা বেশী উপকারী তারা বেশী আকৃষ্ট হয় তাই তাদের কেচ্ছা-কাহিনির মাধ্যমে তাবলীগ হোয়া উচিৎ এটা সালাফগণের নীতি নয়। যেমনটা আমরা আশে-পাশে কিছু তাবলীগকারীকে দেখে থাকি তারা জেনে বুঝেই কিতাব ো সুন্নাহকে প্রাধান্য না দিয়ে গল্পকে প্রাধান্য দেয় এমনকি বানোয়াট কেচ্ছারো আশ্রয় নেয়।

ইমাম মুসলিম তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন, ইবনু যাইদ বলেন: আমাদের আসিম হাদীস বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: আমরা আব্দুর রাহমান আস্ সুলামীর নিকট আসতাম সেই সময় আমরা যুবক বয়সী ছিলাম। তিনি আমাদের বলতেন: আবুল আহত্তয়াস ছাড়া অন্য গল্পকারদের নিকট যেয়ো না এবং শাক্বীক থেকেও দূরে থাকিও। [মুকাদ্দামা স্বহীহ মুসলিম/৬০]

যেই শাকীক থেকে সতর্ক করা হয়েছে সে সম্পর্কে কাযী আয়ায বলেন: তিনি হচ্ছেন গল্পকার শাক্বীক আয যাব্বী আল কূফী। [ব্যাখ্যা ভূমিকা স্বহীহ মুসলিম ১/৬০]

১০- সৎ জ্ঞানী ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করা এবং বিনা ইলমে ফতোয়া প্রদান না করা:

ইমাম মুসলিম তাঁর স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন আবু আক্বীল বলেন: আমি কাসিম বিন উবাইদুল্লাহ এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদের নিকট বসে ছিলাম। ইয়াহইয়া কাসিমকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু মুহাম্মদ! আপনার মত লোকের ক্ষেত্রে এটা মন্দ যে, আপনাকে দ্বীনের কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে আর আপনার সে বিষয়ে কোনো জ্ঞান থাকবে না কোনো সমাধান থাকবে না! বর্ণনাকারী বলেন: তখন কাসিম তাকে বললেন: এমনটা কেন? কারণ আপনি হিদায়েত প্রাপ্ত দুই ইমামের সুপুত্র আবু বকর ও উমারের পুত্র। (কাসিমের বংশ পরম্পরা পিতার দিক দিয়ে উমার রাযি: এর কাছে পৌছায় এবং মাতার দিক দিয়ে আবু বকর রাযি: এর নিকট তাই তিনি হিদায়েত প্রাপ্ত দুই ইমামের সুপুত্র বলে সম্বোধন করেছেন।) বর্ণনাকারী বলেন: এমন শোনার পর কাসিম তাকে বললেন: আল্লাহর কসম! যে আল্লাহ সম্বন্ধে অবগত তার নিকট এর চাইতে মন্দ হচ্ছে যে, আমি এমন কিছু বলবো যার জ্ঞান আমার নিকট নেই কিংবা সৎ বর্ণনাকারী ছাড়া অন্যের কাছ থেকে কিছু বর্ণনা করবো। রাভী বলেন: প্রশ্নকারী চুপ হয়ে গেল কোনো উত্তর করল না। [শারহু মুকাদ্দামা মুসলিম ১/৫০]

উক্ত বর্ণনায় দুটি বড় নীতি পাত্তয়া যায়। প্রথমটি হল, দ্বীনের কোনো বিষয়ে জ্ঞান ছাড়াই সমাধান না দেত্তয়া। আর দ্বিতীয়টি হল, অসৎ প্রকৃতির লোক থেকে হাদীস বর্ণনা না করা তার থেকে জ্ঞান অর্জন না করা। এই দুটি নীতিই সালাফীগণের মাঝে বিদ্যমান। তারা শরিয়তের জ্ঞান ছাড়া ফতোয়া দেন না এবং দলীল-প্রমাণের অবর্তমানে নিজ রায় কিয়াসের আশ্রয় নেন না। অনুরূপ যাঁচাই-বাছাই ছাড়া হাদীস প্রচার করেন না; বরং হাদীস বর্ণনার পূর্বে তা স্বহীহ না যয়ীফ এবিষয়ে সতর্ক হয়েই তা প্রচার-প্রসার করেন।

ইমাম মুসলিমের মূল্যবান ভূমিকায় সালাফগণের বিভিন্ন বিষয়ে যে নীতি-নিয়ম ও পথ-পদ্ধতির বর্ণনা হয়েছে যে সবের সম্পর্ক বিশেষ করে আক্বীদার সাথে রয়েছে এ অধম তারই সামান্য কিছু আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে যেন সালাফী ভাইগণ এ সবের মাধ্যমে উৎসাহ পান নিজ আক্বীদা ও আমলের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা পান এবং কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই ভবিষ্যতে তা দৃঢ় ভাবে ধরে থাকার মানসিকতা রাখেন। আর যা সত্য তা আল্লাহই ভাল জানেন।

و صلى الله على نبينا و سلم

ওয়েব ইডিট: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।
আরও পড়ুন:

সালাফী মতাদর্শ কী?

https://salafibd.wordpress.com/category/%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B8-%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A7%80/

This Post Has One Comment

  1. যারা সিরাতাল্মুস্তাকিমের পথে চলা শুরু করেছেন তাদের জন্যে শায়েখের এ লিখা অনেক উপকারী টেবলেট হিসেবে কাজ করবে ইন্সাআল্লাহ ।

Leave a Reply