দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ যে নারী

ewqদাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ যে নারী

লিখেছেন: প্রফেসর আমীনা মাসআদ আল হারবী
সহকারী প্রফেসর, কিং আবদুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদী আরব।
দাম্পত্য, পরিবার ও সমাজ বিষয়ক পরামর্শদাতা
অনুবাদ করেছেন: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী

🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘🔘

এককথায় একগুঁয়ে ও জেদী নারীরাই দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ এবং এমনকি আত্মীয়দের সাথেও সুসস্পর্ক গড়তে ব্যর্থ। যে নারী সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে আবেগ-ভালোবাসা আর নমনীয়তার বিচক্ষণতা হারিয়েছে আর নিজের মতামত ও জিদকে প্রাধান্য দিয়েছে, সেই দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বেশী ব্যর্থ হয়েছে।
কিন্তু কেন?
➰ (১) কেননা তখন সে স্বামীর সাথে টানাটানি ও ঠেলাঠেলিতে প্রবেশ করবে। বিজয়ের জন্য নিজের আমিত্বকে জাহির করতে চাইবে। আর তখনই সে স্বামীর জিদের সামনে পরাজিত হবে। এমনকি তার বিরুদ্ধে নিকটস্থ ব্যক্তিরাও জেদী হয়ে উঠবে। কেননা পুরুষরা জেদী স্ত্রী বা একগুঁয়ে বোনের সামনে আরো বেশী কঠোর ও জেদপ্রবণ হয়ে উঠে। কিন্তু নমনীয় নারীর সামনে তারা হয় কোমল।
➰ (২) জেদী নারী ধারণা করে, সে যদি নিজের মতামতের উপর দৃঢ় থাকে এবং দ্বন্দ্বের ঝড়ে অটল থাকতে পারে, তবে সে বিজয়ী হবে। কিন্তু একথা ভুলে যায় যে, নিজের মতের ক্ষেত্রে জিদ করে যদি একটা বিজয় পেয়েও যায় কিন্তু বিপরীত দিকে সে এমন একটি হৃদয় হারাবে যে তাকে ভালোবাসতো।
➰ (৩) অধিকাংশ ঘটনায় পণ্ডিতগণ সহজ-সরল নম্র ও আবেগপ্রবণ স্বামীভক্ত নারীদের প্রশংসা করেছেন। যে নারী নম্রতার সাথে স্বামীকে সঙ্গ দেয় ও তার ভালোবাসা আদায় করার কৌশল বুঝে, তাকেই স্বামী অধিকভালোবাসে ও তাকে আঁকড়ে রাখে।
➰(৪) ঝড় উঠলে তা চলে যাওয়ার জন্য যে নারী মাথা নামিয়ে নুয়ে পড়ে, সেই বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী, তার পক্ষেই সংসারকে চিরকাল আঁকড়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু যে নারী শুকনো গাছের মত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, সে মচকে যায় বা এমনভাবে ভেঙ্গে যায়- যা আর জোড়া লাগে না।
➰ (৫) নিজের মতের উপর অটল জেদী নারীর বিশ্বাস হচ্ছে, আমিই বিজয়ী হব, তুমি পরাজিত হবে। এ নারী মূলত: অন্যকে ধ্বংস করার পূর্বে নিজেকেই ধ্বংস করে। সর্বদা আফসোসের জীবন অতিবাহিত করে। যার তিক্ততা সে ভোগ করে দুনিয়া ও আখেরাতে।
➰ (৬) পারিবারিক কনসালটেন্সি বিভাগে কাজ করে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হচ্ছে:
একগুঁয়ে ও জেদী নারীদের পরিণাম শেষ হয় তালাকের মাধ্যমে। ফলে তারা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে হয় ব্যর্থ।
➰ (৭) এক বেদুঈন নারী তার কন্যার বিদায়ের দিন যে উপদেশ দিয়েছিল তা অত্যন্ত চমৎকার প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা এবং পরিক্ষীত সত্য। সফল স্ত্রীরা এর বাস্তবতাকে প্রমাণ করেছেন। উপদেশটি হচ্ছে:
“ তুমি স্বামীর সামনে নিজেকে একজন দাসীতে পরিণত কর। দেখতে পাবে অচিরেই সে তোমার দাসে পরিণত হয়ে যাবে। ”
ভালো পুরুষরা ধৈর্যশীল ও উদার হয়ে থাকে, কিন্তু নির্বোধ ও একগুঁয়ে-জেদী নারীরা তাদেরকে শত্রুতে পরিণত করে।
আরও পড়ুন:

This Post Has 5 Comments

  1. মানতে পারলাম না ! এটা একটা ধারণা থেকে বললে কি হবে ? এমন অনেক স্ত্রী আছেন ! আপনাদের তথাকথিত ভাষায় যেমন বললেন তবুও তারা সংসার পায়নি এটা আসলে একজনের ক্ষেত্রে বলা মুশকিল সমাজে এতো প্রকারের লোক আর এতো প্রকারের ভিন্নতা দেখা যায় কল্পনার অতীত একেক জনের কাহিনী একেক রকম ! একটা নিয়ম দিয়ে সমাধান ভাবা বোকামি !

  2. কথাগুলো অনেক মুল্যবান ও যথেষ্ট যৌক্তিক মনে হয়েছে।। ধন্যবাদ সুন্দর লেখার জন্য।।

  3. আলহামদুলিল্লাহ ।আমি খুবই উপকৃত আপনাদের পোস্ট গুলো পড়ে।আল্লাহ আপনাদের আরও বেশি বেশি ইসলামের খেদমত করার তাওফীক দিন-আমীন।আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আরও বিভিন্ন বই এর অনুবাদ প্রকাশ করুন আপনাদের সাইটে।যেমন বিশেষ করে –
    শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায
    শায়খ সালেহ ফাওযান আল-ফাওযান
    শায়েখ নাসির উদ্দিন আলবানি
    শায়েখ মুহাম্মদ সালেহ আল উসাইমীন
    -ইনাদের লেখা যত বই আছে।ইন্টারনেটে হয় তো পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রায়ই স্ক্যানকৃত করা , ফলে পড়তে অসুবিধা হয়।

  4. মাস্আল্লাহ খুব সুন্দর উপদেশ,
    যাযা কুমুল্লাহ।

Leave a Reply