রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চরিত্র

hd-solid-color-wallpaper-620x388রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চরিত্র

💠 ১) নম্র স্বভাব ও কোমল হৃদয়ের এক মহান পুুরুষ
আল্লাহ বলেন:

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ

“আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন। যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয়ের হতেন তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে পালিয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অতঃপর কোন কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে আল্লাহর উপর ভরসা করুন। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে তিনি তাদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান: ৫৯)

💠 ২) আসমান থেকে চারিত্রিক সনদ
আল্লাহ আরও বলেন:

وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ

“আর অবশ্যই আপনি মহৎ চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা কলম: ৪)

💠 ৩) কুরআনের বাস্তব উদাহরণ
আয়েশা রা. বলেন: “তাঁর চরিত্র ছিল আল কুরআন।” (মুসলিম)
💠 ৪) সবচেয়ে ঘৃণিত চরিত্র মিথ্যা বলা:
“তিনি সব চেয়ে বেশি যে জিনিসটিকে ঘৃণা করতেন তা হল, মিথ্যা বলা।” (বায়হাকী-সনদ সহীহ)
💠 ৫) অশ্লীলতা, নোংরামী ও অভিশাপ দেয়া ঘৃণিত স্বভাব:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লার অশ্লীল ভাষী, নোংরা স্বভাবের ও অভিসম্পাতকারী ছিলেন না। তিনি বলতেন, ”তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সবচেয়ে ভালো যার চরিত্র সব চেয়ে সুন্দর।” (বুখারী ও মুসলিম)
💠 ৬) সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী:
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারা যেমন ছিল সবচেয়ে সুন্দর তেমনি চরিত্রও ছিল সব চেয়ে সুন্দর।”(সহীহ বুখারী)
💠 ৭) দয়ার মূর্ত প্রতীক
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, মুশরিকদের উপর বদ দুআ করুন।
তিনি বললেন: “আমি অভিশাপকারী হিসেবে প্রেরিত হই নি বরং প্রেরিত হয়েছি রহমত স্বরূপ।” (সহীহ মুসলিম)
💠 ৮) আশাবাদী ও কল্যাণ প্রত্যাশী
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় কল্যাণ আশা করতেন। কখনই কোন কিছুকে অশুভ বা অমঙ্গলজনক ভাবতেন না। আর তিনি সুন্দর নাম পছন্দ করতেন। (আহমদ-সনদ সহীহ)
💠 ৯) ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিশোধ পরায়নতা
আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও নিজ হাতে কাউকে আঘাত করেন নি; কোন স্ত্রীকেও নয়; চাকরকেও নয়। অবশ্য আল্লাহর পথে জিহাদের কথা ভিন্ন।
কেউ কথা বা কাজের মাধ্যমে তাঁকে কষ্ট দিলে তিনি কখনও তার প্রতিশোধ নেন নি। অবশ্য আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করা হলে তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার প্রতিশোধ নিতেন। (সহীহ মুসলিম)
💠 ১০) সেবকের পক্ষ থেকে মনিবের ব্যাপারে সাক্ষ্য
আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সব চেয়ে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী।
একদিন তিনি আমাকে বিশেষ দরকারে এক জায়গায় যেতে বললেন। আমি বললাম, আল্লাহর কসম আমি যাব না। কিন্তু মনের মধ্যে ছিল, আল্লাহর নবী যেখানে যেতে বলেছেন আমি অবশ্যই সেখানে যাব।
যাহোক, আমি বাড়ী থেকে বের হলাম। পথিমধ্যে দেখলাম, একদল শিশু বাজারে খেলা-ধুলা করছে। (আমি দাঁড়িয়ে তাদের খেলা দেখতে লাগলাম)। হঠাৎ দেখি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেছন থেকে আমার কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন।
তিনি বললেন: এই পিচ্চি আনাস, আমি তোমাকে যেখানে যেতে বলেছিলাম সেখানে কি গিয়েছিলে?
আমি বললাম: আমি যাব, হে আল্লাহর রাসূল।
আনাস বলেন: আমি দীর্ঘ নয় বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সেবা করেছি। কিন্তু আমার জানা নাই যে, কোন কাজ করে ফেললে কোন দিন তিনি আমাকে বলেছেন: কেন তুমি এ কাজটি করেছো? অথবা কখনও আমার কাজের দোষ ধরেছেন বা আমাকে কষ্টদায়ক কোন শব্দ বলেছেন।” (সহীহ মুসলিম)
💠 ১১) সুমামা রা. এর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী:
সাহাবীগণ আরবের এক সরদারকে বন্দি করে আনলেন। তার নাম সুমামা। তারা তাকে মসজিদে (মসজিদে নববী) বেঁধে রাখলেন। খবর পেয়ে রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে এসে বললেন:
: সুমামা, তোমার কী খবর ?
সে বলল: মুহাম্মদ, আমার খবর ভালো। যদি আমাকে হত্যা কর তবে তো একটি প্রাণ হরণ করলে। আর যদি ছেড়ে দাও তবে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তিকে মুক্ত করলে। আর যদি অর্থ চাও তবে যা চাও তাই তোমাকে দেয়া হবে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমরা সুমামাকে ছেড়ে দাও।
তাকে ছেড়ে দেয়া হলে সে চলে গেল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সে গোসল করে আবার মসজিদে ফিরে আসল। এসেই বলল: আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল।”
তারপর বলল: হে মুহাম্মদ, আল্লাহর কসম করে বলছি: আমার কাছে দুনিয়াতে আপনার চেয়ে ঘৃণিত আর কেউ ছিল না আর এখন আপনি আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি। দুনিয়াতে আমার কাছে আপনার ধর্মের চেয়ে ঘৃণিত ধর্ম আর একটিও ছিলনা। এখন আপনার ধর্ম আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। দুনিয়াতে আমার নিকট আপনার শহরের চেয়ে ঘৃণিত শহর আর একটিও ছিলনা এখন আপনার শহর আমার কাছে সব চেয়ে প্রিয়।
অত:পর যখন সে মক্কায় আসল তখন কেউ এসে বলল: তুমি কি ধর্মত্যাগী হয়ে গেছো?
সে বলল: না। আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি।
(বুখারী ও মুসলিম- উল্লেখিত হাদীসের শব্দগুলো সহীহ মুসলিম থেকে নেয়া হয়েছে কিছুটা সংক্ষেপ করে)।

💠💠💠💠💠
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

আরও পড়ুন: 

Leave a Reply