সূর্য ঘুরে না পৃথিবী?

প্রশ্নঃসূর্য কি পৃথিবীর চার দিকে ঘুরে?

(ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম-আল্লামা উসাইমীন রাহ)

উত্তরঃ- মান্যবর শায়খ উত্তরে বলেন যে, শরীয়তের প্রকাশ্য দলীলগুলো প্রমাণ করে যে, সূর্যই পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘুরে। এই ঘুরার কারণেই পৃথিবীতে দিবা-রাত্রির আগমণ ঘটে। আমাদের হাতে এই দলীলগুলোর চেয়ে বেশী শক্তিশালী এমন কোন দলীল নাই, যার মাধ্যমে আমরা সূর্য ঘূরার দলীলগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারি। সূর্য ঘুরার দলীলগুলো হলঃ আল্লাহ তাআ’লা বলেন,

  

فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنْ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنْ الْمَغْرِبِ
 

“আল্লাহ তাআ’লা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” (সূরা বাকারাঃ ২৫৮) সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলীল পাওয়া যায় যে, সূর্য পৃথিবীর উপর পরিভ্রমণ করে।
২) আল্লাহ বলেনঃ

 

فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَذَا رَبِّي هَذَا أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَاقَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ    

 “অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অব্সথায় উঠতে দেখলেন তখন বললেনঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত।” (সূরা আনআ’মঃ ৭৮) এখানে নির্ধারণ হয়ে গেল যে, সূর্য অদৃশ্য হয়ে যায়। একথা বলা হয়নি যে, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেল। পৃথিবী যদি ঘূরত তাহলে অবশ্যই তা বলা হত।
৩) আল্লাহ বলেনঃ

وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَتَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ 

“তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস- যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায়।” (সূরা কাহাফঃ ১৭) পাশ কেটে ডান দিকে বা বাম দিকে চলে যাওয়া প্রমাণ করে যে, নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে। পৃথিবী যদিনড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলতেন সূর্য থেকে গুহা পাশ কেটে যায়। উদয় হওয়া এবং  অস্ত যাওয়াকে সূর্যের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা থেকে বুঝা যায় যে, সূর্যই ঘুরে। পৃথিবী নয়।
৪) আল্লাহ বলেনঃ

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ                                                                         

“এবং তিনিই দিবা-নিশি এবং চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। সবাই আপন আপন কক্ষ পথে বিচরণ করে।” (সূরা আমবীয়াঃ ৩৩) ইবনে আব্বাস বলেন, লাটিম যেমন তার কেন্দ্র বিন্দুর চার দিকে ঘুরতে থাকে, সূর্যও তেমনিভাবে ঘুরে।
৫) আল্লাহ বলেনঃ

يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا                                                  

“তিনি রাতকে আচ্ছাদিত করেন দিনের মাধ্যমে, দিন দৌড়ে দৌড়ে রাতের পিছনে আসে।” (সূরা আ’রাফঃ ৫৪) আয়াতে রাতকে দিনের অনুসন্ধানকারী বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুসন্ধানকারী পিছনে পিছনে দ্রুত অনুসন্ধান করে থাকে। এটা জানা কথা যে, দিবা-রাত্রি সূর্যের অনুসারী।
৬) আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ

 
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّار         

অর্থঃ “তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।” (সূরা যুমারঃ ৫) আয়াতের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, পৃথিবীর উপরে দিবা-রাত্রি চলমান রয়েছে। পৃথিবী যদি ঘুরতো তাহলে তিনি বলতেন, দিবা-রাত্রির উপর পৃথিবীকে ঘূরান। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “সূর্য এবং চন্দ্রের প্রত্যেকেই চলমান”। এই সমস- দলীলের মাধ্যমে জানা গেল যে, সুস্পষ্টভাবেই সূর্য ও চন্দ্র এক স্থান থেকে অন্য স্থান চলাচল করছে। এ কথা সুস্পষ্ট যে, চলমান বস’কে বশীভুত করা এবং কাজে লাগানো একস্থানে অবস্থানকারী বস্তুকে কাজে লাগানোর চেয়ে অধিক যুক্তিসঙ্গত।
৭) আল্লাহ বলেনঃ

 

وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَالْقَمَرِ إِذَا تَلَاهَا      

“শপথ সূর্যের ও তার কিরণের, শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে।” (সূরা আশ্‌-শামসঃ ১-২) এখানে বলা হয়েছে যে, চন্দ্র সূর্যের পরে আসে। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সূর্য এবং চন্দ্র চলাচল করে এবং পৃথিবীর উপর ঘুরে। পৃথিবী যদি চন্দ্র বা সূর্যের চার দিকে ঘুরত, তাহলে চন্দ্র সূর্যকে অনুসরণ করতনা।  বরং চন্দ্র একবার সূর্যকে, আর একবার সূর্য চন্দ্রকে অনুসরণ করত। কেননা সূর্য চন্দ্রের অনেক উপরে। এই আয়াত দিয়ে পৃথিবী স্থীর থাকার ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করার ভিতরে চিন্তা-ভাবনার বিষয় রয়েছে।
৮) মহান আল্লাহ বলেনঃ

وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ, وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ, لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ                                                     

“সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নির্ধারণ। চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূর্যের পক্ষে চন্দ্রকে নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। রাতের পক্ষেও দিনের অগ্রবতী হওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে।” (সূরা ইয়াসীনঃ ৩৮-৪০) সূর্যের চলা এবং এই চলাকে মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর নির্ধারণ বলে ব্যাখ্যা করা এটাই প্রমাণ করে যে, সূর্য প্রকৃতভাবেই চলমান। আর এই চলাচলের কারণেই দিবা-রাত্রি এবং ঋতুর পরিবর্তন হয়। চন্দ্রের জন্য মনযিল নির্ধারণ করার অর্থ এই যে, সে তার মনযিলসমূহে স’ানান-রিত হয়। যদি পৃথিবী ঘুরত, তাহলে পৃথিবীর জন্য মনযিল নির্ধারণ করা হত। চন্দ্রের জন্য নয়। সূর্য কর্তৃক চন্দ্রকে ধরতে না পারা এবং দিনের অগ্রে রাত থাকা সূর্য, চন্দ্র, দিন এবং রাতের চলাচলের প্রমাণ বহন করে।
৯) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আবু যরকে বলেছেনঃ

 

أَتَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنُ لَهَا وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا وَتَسْتَأْذِنَ فَلَا يُؤْذَنَ لَهَا يُقَالُ لَهَا ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا

“হে আবু যর! তুমি কি জান সূর্য যখন অস- যায় তখন কোথায় যায়?  আবু যার বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সূর্য অস- যাওয়ার সময় আরশের নীচে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। অতঃপর তাকে অনুমতি দেয়া হয়। সে দিন বেশী দূরে নয়, যে দিন অনুমতি চাবে কিন’ তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে যেখান থেকে এসেছ, সেখানে ফেরত যাও। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে।” এটি হবে কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে। আল্লাহ সূর্যকে বলবেন, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফেরত যাও, অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সূর্য পৃথিবীর উপরে ঘুরছে এবং তার এই ঘুরার মাধ্যমেই উদয়-অস- সংঘটিত হচ্ছে।
১০) অসংখ্য হাদীছের মাধ্যমে জানা যায় যে, উদয় হওয়া, অস- যাওয়া এবং ঢলে যাওয়া এই কাজগুলো সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো সূর্য থেকে প্রকাশিত হওয়া খুবই সুস্পষ্ট। পৃথিবী হতে নয়।
   হয়তো এ ব্যাপারে আরো দলীল-প্রমাণ রয়েছে। সেগুলো আমার এই মুহূর্তে মনে আসছেনা। তবে আমি যা উল্লেখ করলাম, এই বিষয়টির দ্বার উম্মুক্ত করবে এবং আমি যা উদ্দেশ্য করেছি, তা পূরণে যথেষ্ট হবে। আল্লাহর তাওফীক চাচ্ছি!

This Post Has 13 Comments

  1. “সূর্যই পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘুরে”
    ভাই এই কথা এই যুগে কইলে কেমনে হইব? চোখ কান একটু খোলেন। কয়দিন পরেতো পোষ্ট দিবেন পৃথিবী সমতল।

    ভাল থাকবেন।

    1. ধন্যবাদ আপনাকে। ভাই, আপনি কি মনযোগ সহকারে পুরো পোষ্টটি পড়েছেন? পড়ে থাকলে সেখানে দেখবেন, এ কথার পেছনে সন্মানিত শাইশ সরাসরি কুরআন, হাদীস থেকে অনেকগুলো প্রমাণ উলেলখ করেছেন। তাতে কারো ব্যক্তিগত মতামত উলেলখ করেন নি। কিন’ এর বিপরীত কোন দলীল পাওয়া যায় না।
      আর বিজ্ঞানীদের কথা বলছেন? এ ব্যাপারটি নিয়ে বিজ্ঞানীগণ যুগে যুগে মতবিরোধ করে এসেছেন। তাদের কাছে কখনো সূর্য ঘুরে কখনো পৃথবী ঘুরে আবার কখনো উভয়টাই ঘুরে। এটা আপনার অজানা নয় আশা করি। সুতরাং যে আল্‌লাহ আসমান যমিন, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নিপুঞ্জ সব কিছুর একছত্র সৃষ্টিকর্তা তিনি কি ভাল জানেন না আসলে কি ঘুরে আর কী স্থীর থাকে?
      সুতরাং কুরআন-সুন্নাহ যদি বলে থাকে সূর্য ঘুরে, পৃথিবী স’ীর তাহলে তাই সঠিক হবে। এ ছাড়া যা কিছুই বলা হোক তা হবে মিথ্যা। আর এ কথা মনে রাখতে হবে কোরআন প্রদত্ব কোন তথ্যই সঠিকভাবে প্রমাণিত বৈজ্ঞাণিক তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বরং কুরআন-সুন্নাহই চিরকাল বিজ্ঞান চর্চার মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।
      যদি বাহ্যিকভাবে কোনটা সাংঘর্ষিক মনে হয় তবে কুরআনের তথ্যকে নির্ভূল মনে করতে হবে। কেননা, বিজ্ঞাণীদের তথ্য কখনো ভূল হয় কখনো সঠিক হয় যা বহু ঘটনায় প্রমাণিত এবং বৈজ্ঞাণীক এমন অনেক তথ্য রয়েছে যার ব্যাপারে সকল বিজ্ঞাণী একমত নন। বরং একেক বিজ্ঞাণী একেক রোকম বক্তব্য দেন।
      আর কোন ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর বিপরীত কোন বিষয়ে বিজ্ঞানীদের ঐক্যবদ্ধ মত পাওয়া গেলে আমরা বলব, সময়ের ব্যাবধানে কুরআন-সুন্নাহর তথ্যই সঠিক হবে এবং বিজ্ঞাণীদের তথ্য ভূল প্রমাণিত হবে। আল্‌লাহ আমাদের সহায় হোন।

      1. মানলাম ভাই আপনার কথা, কিন্তু ব্যাখ্যা যিনি করেছেন তিনিও তো ভুল করতে পারেন? তাইনা??
        জাকির নায়েকের বিজ্ঞানের আলোকে কুর’আন ও বাইবেল পড়ার অনুরোধ থাকল।
        যারা যেই বিষয়ে পারদর্শি তাদের পরামর্শ শুনার কথা বলব।

        কোন রিপ্লে দিলে ভাই কষ্ট করে আমার ইমেইলে দিয়েন। [email protected]

    2. ভাই বাংলা কুরআন পরেন।

  2. এই ব্যাপারে ডাঃ নুরুল ইসলামের ‘পৃথিবী না সুর্য ঘোরে’ বই থেকে কিছু বিজ্ঞানীদের রেফারেন্স দিলে ভালো হত। লেখাটার জন্য ধন্যবাদ।

  3. “আমাদের হাতে এই দলীলগুলোর চেয়ে বেশী শক্তিশালী এমন কোন দলীল নাই, যার মাধ্যমে আমরা সূর্য ঘূরার দলীলগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারি।” – শায়খের এই কথা থেকেই আমরা বলতে পারি যে তাঁর জানা ছিল না যে বিষয়টি প্রমাণিত, অথবা তার সময়ে বিষয়টি অকাট্য ভাবে প্রমাণিত হয় নি। বর্তমানে তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত, সুতরাং কুরআন-হাদীসে সূর্যের গতিবিধি সম্পর্কে যে সকল ক্রিয়া এসেছে, যাতে মনে হয় যে সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তার ব্যাখ্যা এই যে তা মানুষের দেখার সাপেক্ষে। অর্থাৎ কুরআন-হাদীসে সেভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে যেমনটি মানুষ দেখতে পায়, ঠিক যেমন আজও বাংলা ভাষায় আমরা বলি যে “সূর্য ওঠে”, অথচ আমরা জানি যে পৃথিবীর আবর্তনের কারণে দিন-রাত্রি হয়।

  4. সূর্য পৃথিবীর চার দিকে ঘুরে– এ কথা এখন বিশ্বাসিরা এড়িয়ে যেতে চায়।। তারা বলে কোরআনে এমন কথা বলা হয়নি। এরসব বলতে পারে ।

  5. ভাই একটু সময় করে নীলক্ষেত, ঢাকা থেকে একটি বই কিনুন।
    “সূর্য ঘুরে না পৃথিবী ঘুরে” লেখক নুরুল ইসলাম।

  6. আমি রায়হান
    কুরআন কি বলে যে ‘সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে’’ ?

    কুরআনের বৈজ্ঞানিক তথ্য নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন আছে তার মধ্যে মনে হয় এ প্রশ্নটি সবচেয়ে পুরনো। কুরআন কি আসলেই পৃথিবীর চারদিকে সূর্যের ঘূর্ণনের কথা বলছে? কোরআন কি বলছে পৃথিবী স্থির? বাংলাদেশের তথাকথিত প্রগতিশীল(?) লেখিকা তসলিমা নাসরিন এ প্রশ্নটি প্রায়ই তার বইয়ে এনেছে। এরই সূত্র ধরে তাদের উত্তরসূরী মুক্তমনারা এ প্রশ্নটি প্রায়ই করে থাকেন। আসুন কুরআনের দিকে আমাদের দৃষ্টিটা একটু নিব্‌ন্ধ করি।

    তারা মূলত যে দুটি আয়াত তাদের বক্তব্যের সমর্থনে ব্যবহার করে তা হল-

    তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? সূরা লোকমান ৩১:২৯,

    তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে। সূরা আম্বিয়া ২১:৩৩

    আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই দুই আয়াতে কোথায় বলা হল সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে ? বরং এখানে এমন একটি বৈজ্ঞানিক সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যা সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে। এ আয়াতে বৈজ্ঞানিক কোন সত্যের দিকে ইংগিত করা হয়েছে সে বিষয়ে যাওয়ার আগে আমি ওই সকল উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত ব্যাখ্যার ধরন পাঠকদের অনুধাবনের জন্য একটি উদাহরন দিতে চাই।

    মনির সাহেব বললেন, “ভোরে মোরগের ডাক শুনেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিছুক্ষন বিছানায় এপাশ ওপাশ করার পর বাইরে বের হয়ে দেখি পূর্ব দিগন্তে মিষ্টি সোনালী সূর্য আস্তে আস্তে নিজের সম্পূর্ন সৌন্দর্য বিলিয়ে উদিত হচ্ছে”।

    নাস্তিক মুক্তমনার আঁতেল সম্প্রদায় এখানেও বৈজ্ঞানিক ভুল বের করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। তাদের জিলাপীর প্যাঁচসম কথাবার্তায় তারা প্রমান করে বসে যে মনির সাহেব বলেছেন “ মোরগের ডাকের কারনে সূর্য উদিত হয়”।

    Absurd! Absurd! সোজাসাপ্টা কথাকে উর্বর মস্তিষ্কের কসরতের মাধমে যে পর্যায়ে নিয়ে যায় তাতে যথার্থই তাদের আঁতলামি প্রতিভা প্রকাশিত হয়।

    কুরআন এখানে পরিষ্কার ভাবেই চন্দ্র এবং সূর্যের একটি নিদিষ্ট অরবিটে ঘূর্ণনের কথা বলেছে। চন্দ্র সম্পর্কে আমরা জানি এটি পৃথিবীর সাপেক্ষে ২৭.৩ দিনে একবার আবর্তিত হয়। পৃথিবীও সূর্যের চারদিকে ঘুরে বলে এসময় কিছুটা বেড়ে গিয়ে ২৯.৫ দিন হয়। অর্থাৎ চন্দ্র তার নিজ কক্ষপথে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে আসতে ২৯.৫ দিন সময় লাগে।

    অপরদিকে সূর্যের নিজ অক্ষে ঘুর্ণন এবং নিজস্ব অরবিটে গ্যালাক্সীর চারদিকে আবর্তন একটি সাম্প্রতিক আবিষ্কার। ১৫১২ সালে দেয়া কোপার্নিকাসের “Heliocentric theory” এর মতে সূর্য স্থির। ১৬০৯ সালে কেপলারের “Astronomia Nova ” নামক বইতে সব গ্রহের নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুর্ণনের কোন কথা বলা হয় নি। সাম্প্রতিক গবেষনায় দেখা গেছে সূর্য ২৫ দিনে নিজ অক্ষে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। অতি সাম্প্রতিক গবেষনায় আমরা এর চেয়ে বিস্ময়কর তথ্য পাই। সূর্য 251km/s বেগে স্পেসের মধ্যদিয়ে 225-250 মিলিয়ন বছরে milkyway Galaxy এর কেন্দ্রের চারদিকে আবর্তিত হয়। অর্থাৎ বর্তমানে বিজ্ঞানের ঘোষনা sun rotates and revolves.

    ঠিক এ ঘোষনাই কোরআন ১৪০০ বছর আগে দিয়েছে। সূরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে যে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল ‘ইয়াসবাহুন’। ‘সাবাহা’ শব্দটি থেকে এ শব্দটি এসেছে। এ শব্দটি কোন মাটিতে চলা লোকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে বুঝতে হবে সে হাঁটছে অথবা দৌঁড়াচ্ছে। এ শব্দটি পানিতে থাকা কোন লোকের ক্ষেত্রে বলা হলে এর অর্থ এই না যে লোকটি ভাসছে, বরং বুঝতে হবে লোকটি সাঁতার কাটছে। এ শব্দটি কোন মহাজাগতিক বস্তুর (Celestial body) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ করতে হবে এটা নিজ অক্ষে ঘুরছে সাথে সাথে কোন কিছুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।

    অতএব দেখা যাচ্ছে কোরআনের এ আয়াতগুলোতে কোন বৈজ্ঞানিক অসংগতি নেই বরং এখানে এমন কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্যের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে যা অতি সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে।

    1. জাজাকাল্লাহু খইর। মুসলিমদের এমন উত্তর এজাতীয় যেকোন ওয়েবসাইটের science রিলেটেড প্রশ্নে দেয়া উচিত।

  7. এখানে কিছু মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, কোরানের কোথাও স্পষ্ট করে বলা নাই যে সূর্য পৃথিবীর চার দিকে ঘুরে

  8. ইসলামে বহু বিষয় আছে যা বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। সেসব বিষয় এমন আলেমের কাছে জিজ্ঞেস করবেন যারা বিজ্ঞান বুঝে। বিজ্ঞানে চুরান্ত পর্যায়ে অজ্ঞ, যারা বিজ্ঞান সম্পর্কে হাস্যকর হাস্যকর ধারনা রাখে তাদের কাছে সেসব ফতুয়া জিজ্ঞেস করবেন না যা বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত। তাদের ফতুয়া অন্ধভাবে গ্রহনও করবেন না। তাছাড়া একজন আলেম একটি ফতুয়া দিলেই তা অকাট্য সত্য ধরে নেয়াটাও আমাদের মূর্খতা।

Leave a Reply