সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে যে কয়েকটা জিনিস শেখানো উচিৎ

সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে

যে কয়েকটা জিনিস শেখানো উচিৎ

একজন বাবা মা হিসেবে আপনার সন্তান যেন আত্ম বিশ্বাসী হয়ে উঠে এর জন্য আপনাকেই তার দিকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে ।
আত্মবিশ্বাস একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি বাতাস এর মতই অত্যন্ত জরুরি এবং তাঁর মানব সত্তার জন্য অপরিহার্য। যুগ যুগ ধরে যে সকল মানুষের মহৎ অবদানে আজকের মানবজাতি,তাঁদের প্রত্যেকেরই ছিল অসীম আত্মবিশ্বাস। আর একজন মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার জন্য শিশুকালের চেয়ে বোধ করি আর কোন ভাল সময় নেই। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে গড়ে তুলবেন আপনার শিশুকে আত্মবিশ্বাসী। এর জন্য কি কোন কোচিং সেন্টার আছে? আছে কোন প্রাইভেট টিউটর?

উত্তরটা খুব সহজ। আছে, আর সেটা হল মা এবং বাবা।

আপনার শিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে আপনার চেয়ে আর কোন বড় প্রতিষ্ঠান এ জগতে নেই।

আসুন দেখি নিচের ছোট ছোট কাজগুলো কি আসলেই খুব কঠিন হবে আপনার সন্তানের জন্য করার—–

• আপনার শিশুর স্কুলের প্রথম বছরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে যদি আপনার শিশুকে তাঁর নিজের জু্তার ফিতে বাঁধা শিখিয়ে দিতে পারেন তাহলে তাঁর যে মানুষিক দৃঢ়তা তৈরি হবে তা হয়তো আপনি বা আমরা কেউই কল্পনাও করতে পারব না। একবার ভাবতে পারেন স্কুলে কখনো তার জুতার ফিতে খুলে গেলে সে যদি আর দশটা শিশুর সামনে নিজে নিজেই তার ফিতে বাঁধতে পারে তাহলে তার নিজের উপরআত্মবিশ্বাস কোথায় গিয়ে ঠেকবে।

• স্কুলের পড়ার ব্যাগ আপনি নিজে না গুছিয়ে আপনার শিশুকে করতে দিন। আপনি শুধু খেয়াল রাখুন সে ঠিক ঠাক বই খাতা নিচ্ছে কি না এতে ছোটবেলা থেকেই মানসিকভাবে গোছানো হয়ে গড়ে উঠবে।

• ক্লাসে ফার্স্ট বা সেকেন্ড হলো কি না সেটা আসলে শিশুর জন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার না, তাই সে ক্লাসে কি পারলো আর কি পারল না সেটা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন না হয়ে সে তার স্কুল্টা উপভোগ করছে কিনা সে দিকে নজর দেওয়া তার শারীরিক এবং মানসিক উভয়ের জন্যই ভালো।

• বাচ্চারা তার খেলনা নষ্ট করবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য তাকে বকাঝকা না করে বোঝানোর চেষ্টা করুন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি তার ভিতরে খেলনাগুলোর যত্ন নেওয়ার বোধ সৃষ্টি করা যায়। খেলার পরে তার খেলনাগুলো আপনি বা কাজের লোককে দিয়ে না গুছিয়ে তাকে দিয়েই খেলার ছলে গুছিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। প্রথমদিক হয়তো কাজ হবে না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আপনার শিশুটি দেখবেন দায়িত্ববান হয়ে উঠেছে।
• স্বামী স্ত্রী এর মধ্যে দাম্পত্যে কলহ হবে এটাই স্বাভাবিক তবে লক্ষ্য রাখবেন আপনার শিশুটি যেন এর বলি না হয়। তার বাবা-মা এর মধ্যকার সম্পর্ক সে যেন সব সময় উপলব্ধি করে মধুর,যা তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিগত জীবনে সুখের ছায়া ফেলবে।

• ভিক্ষুক বা কোথাও কোন কিছু দান করার সময় যতটা পারেন আপনার শিশুকে সাথে রাখতে, এতে তার মন উদার হবে। পৃথিবীকে সে আরও বেশী ভালবাসতে শিখবে।

• আপনার শিশুর মতামতকে তার সামনে তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করে এমনভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন যেন সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এতে তার আত্মশ্রদ্ধা বাড়বে।

• সপ্তাহে অন্তত একটি দিন এবং ছুটির দিনগুলোতে আপনার শিশুকে একটু প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যান। তাকে ছেড়ে দিন খোলা হাওয়ায়,স্পর্শ করান মাটিকে।ধরতে দিন ফুলের উপর বসা রঙ্গিন প্রজাপ্রতিটি। দৌড় দিতে দিন, দিতে দিন ঝাঁপ।দেখবেন প্রকৃতির সান্নিধ্য আপনার শিশুর মাঝে এক অপূর্ব ভালো লাগার স্নিগ্ধতার ছাপ ফেলে যাবে যা আপনি হাজার বা লক্ষ টাকা খরচ করেও কোন সুপার সপে পাবেন না।

• মোটামুটি পড়তে এবং লিখতে পারলে তাকে তার ব্যক্তিগত ডায়েরি লেখার বা আঁকার ব্যাপারে উৎসাহিত করুন।এতে সে নিজেকে নিয়ে ভাবতে শিখবে,অনুভব করতে শিখবে। নিজের কাছে আত্মসমালোচনার দ্বার হবে উন্মুক্ত।

• যেহুতু তারা বসে থাকার চেয়ে বেশী করে হাত পা নাড়াচাড়া করতে পছন্দ করে তাই তাদের বেশী উদ্দীপনার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিশুকেদৌড়ানো বা সাঁতার কাটার মতো শারীরিক শ্রমযুক্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা করে তাদের উদ্দীপনা বাড়ানো যায় ।

• নিজের কাজ গুলি নিজে করার আগ্রহ গড়ে তোলার জন্য কাজ গুলিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিয়ে ক্যালেন্ডারে লিখে রেখে সেই ক্যালেন্ডার কিভাবে অনুসরণ করতে হবে তাকে শিখিয়ে দিন। রুটিন তৈরি করে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। স্কুলের পরে ও যাওয়ার আগে এবং ছুটির দিনগুলোতে রুটিন ফলো করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বাচ্চাদেরকে ছোটবেলা থেকে যে অভ্যাসে গড়ে তোলা হয় পরবর্তিতে সেটিই অনুসরণ করে। যেমন রাত ৮ টায় ঘুমাতে যাওয়ার সময় ঠিক করা থাকলে তখনি বিছানায় পাঠাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর আপনার শিশুটিকে কিছু বলা লাগবে না, সে এমনিতেই ৮টার মধ্যে ঘুমিয়ে পরবে। আর যদি তাকে সময় না বেঁধে দেয়া হয়, যখন খুশি সে ঘুমাবে যা পরে তার বদঅভ্যাসে পরিণত করবে।

• আপনার শিশুকে আত্ন বিশ্বাসী করে তুলতে হলে তার সাথে কথা বলার সময় বা কোন কিছু বোঝানোর সময় খেয়াল রাখবেন জটিল ভাষা পরিহার করে সরল ভাষায় বলার ।তাতে তারা অন্যের প্রতি নম্র ভাবে কথা বলা শিখবে এবং এটাও তাদের মনে ধারনা হবে যে নম্র ও সুন্দর সহজ করে কথা বললে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় ও তাদের মনোযোগ পাওয়া যায় ।

• শিশুরা পড়ার সময় মনোযোগ একেবারেই বসাতে চায় না। তাই তাদের পড়ার সময় আশেপাশের জিনিসগুলো সরিয়ে রাখতে হবে ও পড়তে বসার আগে কোনরকম শব্দ যেন কোনোমতেই সেখানে গিয়ে না পোঁছায় সেইদিকেও খেয়াল রাখতে হবে ।এতে করে তাদের পড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়বে এবং তাদের এটাও বুঝাতে হবে জীবনে সাফল্য লাভ করতে হলে জ্ঞান অর্জন করা জরুরী এক্ষেত্রে তাদের শুনাতে পারেন তাদের পসন্দের কোন মানুষ হতে পারে সে আপনাদের পরিবারের কোন সদস্য সাফল্যের গল্প তাতে তাদের মধ্যে জ্ঞান লাভের একটা আকর্ষণ বাড়বে ,বাড়বে আত্মবিশ্বাস ।

• এ ছাড়াও পাঠ্যপুস্তকের বাইরে মজার মজার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন । বড় বড় ইসলামী ব্যক্তিত্বদের জীবনী পড়ে শুনাতে পারেন তাতে সে পুরো পৃথিবী নতুন করে চিনতে শিখবে।জীবনের উদ্দেশ্য জানতে পারবে, নিজেকে সেভাবে গড়ে তোলার মন –মানসিকতা গড়ে উঠবে ।
আপনার শিশু আপনারই অস্তিত্ব, আপনার সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আপনার এই অংশটি যেন আগামী দিনে নিজের,সমাজের,পরিবারের, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার মত মানসিক এবং শারীরিক দিক থেকে সামর্থ্য থাকে এবং নিজেকে সৎ ভাবে গড়ে উঠতে পারে সেটার দায়িত্ব একান্ত আপনার।

(সংগৃহীত)

Leave a Reply