ইমাম ও ইমামতি (পর্ব-২)

ইমাম ও ইমামতি (পর্ব-২)
লেখক: আব্দুর রাকীব মাদানী
দাঈ, দাওয়াহ সেন্টার খাফজী (সউদী আরব)

১-যার অবস্থা অজ্ঞাত, এমন ইমামের পিছনে নামাযঃ
কোথাও অপরিচিত ইমামের পিছনে নামায আদায় করার সময় মুসাল্লীকে ইমামের দ্বীনী অবস্থা সম্পর্কে জানা বা খোঁজ নেওয়া জরূরী নয়; বরং তার বাহ্যিক অবস্থাই গ্রহণীয়। আবুল্ ইয্ শারহু আক্বীদাতিত্ ত্বাহাবিয়ায় বলেনঃ ‘মুক্তাদীর জন্য ইমামের আক্বীদা জানা শর্ত নয় আর না তাকে পরীক্ষা করবে এই বলে যে, তোমার আক্বীদা কি? বরং সে অবস্থা অজ্ঞাত এমন ইমামের পিছনে নামায আদায় করবে’। [শারহুল্ আক্বীদা আত্ ত্বাহাবিয়্যাহ,২/৫৬৮]
সউদী স্থায়ী উলামা পরিষদকে জিজ্ঞাসা করা হয়, যে ব্যক্তি কোন শহরে বা গ্রামে অবস্থান করে, তার উপর জরূরী কি যে, সে নামায আদায়ের পূর্বে তার ইমামের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে?
উত্তরে পরিষদ বলেনঃ ‘তার উপর এটা জরূরী নয় এবং অজ্ঞাত ইমামের পিছনে তার নামায পড়া বৈধ কিন্তু যদি তার মধ্যে এমন কিছু দেখে যা দ্বীনে মন্দ। কারণ মুসলিমের অবস্থা সম্পর্কে নীতি হল, তাদের সম্পর্কে সুধারণা রাখা, যতক্ষণে এর বিপরীত প্রকাশ না পায়’। [ফাতাওয়াল্ লাজনা,৭/৩৬৩]
২-শির্ককারী ইমামের পিছনে নামাযঃ
মুসলিম হিসাবে পরিচিত কিন্তু সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট দুআ-প্রার্থনা করে, নবী, অলী ও সৎ লোকদের আল্লাহর নৈকট্যকারী মনে করে, মৃত কথিত অলীদের উদ্দেশ্যে কুরবানী করে, মানত করে, কবরস্থ সৎ দরগাহ বাসীকে কল্যাণকারী বা ক্ষতি সাধনকারী বিশ্বাস করে, এমন ইমামের পিছনে নামায বৈধ কি? এ বিষয়ে উপরোক্ত সউদী ফাতাওয়া বোর্ডকে জিজ্ঞাসা করা হলে, তারা তার পিছনে নামায অবৈধ বলেছেন। কারণ এসব ইবাদত বা এর কোন অংশ আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য করা শির্ক, যা মানুষকে ইসলামের গোণ্ডী থেকে বের করে দেয়। [দেখুন, ফাতাওয়াল্ লাজনা আদ্দায়িমাহ,৭/৩৫৩-৩৫৯, বিষয়ঃ মুশরিকের পিছনে নামায]
৩-ফাসেক এবং বিদআতী ইমামের পিছনে নামাযঃ [ফাসেক, বড় গুনাহকারী বা বারংবার ছোট গুনাহকারী ব্যক্তি। আর এখানে বিদআতী বলতে ঐ বিদআতকে বুঝানো হয়েছে যা, কুফর নয়।]
ক-উপরোক্ত মন্দ গুণের অধিকারী ইমামের পিছনে নামায সহীহ। বিশেষ করে সেই ইমাম যদি রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নির্ধারিত হয় এবং তাকে অপসারণ করার ক্ষমতা না থাকে কিংবা তাকে সরাতে গিয়ে যদি ফেতনা-ফাসাদের আশংকা থাকে, তাহলে তার পিছনে নামায শুদ্ধ। এটা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একটি আক্বীদাও। ইমাম ত্বাহাবী বলেনঃ ‘আমরা আহলে কিবলার প্রত্যেক পরহেযগার এবং গুনাহগার ব্যক্তির পিছনে নামায জায়েয মনে করি’। [শারহুল আক্বীদা আত্ ত্বাহাবিয়া,২/৫৬৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “লোকদের ইমামতি করবে, তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অধিক পাঠকারী” ।
[মুসলিম, নং (৬৭৩)] এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ আম/ব্যাপক।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক প্রকার ইমামের সম্পর্কে বলেনঃ “তারা (ইমামেরা) তোমাদের নামায পড়াবে, যদি তারা সঠিক করে, তাহলে তোমাদের নামাযের সওয়াব তোমাদের জন্যে আর যদি সে ভুল করে তাহলে তোমাদের সওয়াব তোমাদের জন্যে এবং তাদের ভুল তাদের জন্যে”। [বুখারী, আযান অধ্যায়, নং ৬৯৪]
সাহাবাগণের মধ্যে ইবনে উমার যিনি সুন্নতের প্রতি সদা আগ্রহী হিসাবে পরিচিত, তিনি অত্যাচারী গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসেূফের পিছনে নামায সম্পাদন করতেন। [বুখারী, হজ্জ অধ্যায়, নং ১৬৬০]
ইমাম আহমদ সহ তাঁর যুগের উলামাগণ মুতাযেলীর পিছনে জুমআ ও ঈদের নামাযে হাজির হতেন। [মুগনী, ইবনু কুদামাহ,৩/২২]
সউদী স্থায়ী উলামা পরীষদের ফাতওয়ায় বিদআতী ইমামের পিছনে নামায সম্পর্কে বলা হয়, যদি বিদআত কুফর ও শির্ক পর্যায়ের হয়, তাহলে তার পিছনে নামায অশুদ্ধ আর বিদআতকারীর বিদআত যদি কুফরী পর্যায়ের না হয়, যেমন মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পড়া, তাহলে তার নিজের নামায শুদ্ধ এবং তার পিছনে নামায আদায়কারীর নামাযও শুদ্ধ। [ফাতওয়া নং (১২০৮৭),৭/৩৬৪-৩৬৫]
এ বিষয়ে একটি মূলনীতি হচ্ছে, ‘যার নিজের নামায শুদ্ধ তার ইমামতীও শুদ্ধ’। [আশ্ শারহুল্ মুমতি, ইবনে উসাইমীন, ৪/২১৭]
এসব বিধান ও নিয়মের মূল কারণ হচ্ছে, ইসলামী ঐক্য ও সংহতি রক্ষা। ইসলাম সদা ঐক্যের আদেশ দেয় এবং মতভেদ থেকে সতর্ক করে। তাই দেখা যায়, যেখানে মানুষ ইমামদের সাধারণ ভুল-ত্রুটি নিয়ে মতভেদ করে, সেখানে লোকেরা দলে দলে বিভক্ত হয়, এক পর্যায় একাধিক মসজিদ তৈরি হয়, এমনকি গ্রাম ও মহল্লা ভেঙ্গে আপসে ঘোর শত্রুতায় লিপ্ত হয়।
কিন্তু বিদআতী ও ফাসেক ইমামের বর্তমানে যদি মুআহ্হিদ ও মুত্তাকী ইমামের পিছনে নামায পড়া সম্ভব হয়, তাহলে পরহেযগার ও সহীহ আক্বীদা পোষণকারী ইমামের পিছনে নামায পড়া উত্তম। কারণ, অবশ্যই ফাসেক থেকে মুত্তাক্বী উত্তম এবং বিদআত থেকে সুন্নত উত্তম। আল্লাহ বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই বেশী সম্মানীয় যে ব্যক্তি বেশী মুত্তাক্বী।” [সূরা হুজুরাত/১৩]
উদাহারণ স্বরূপ যদি কারো বাড়ির পার্শে দুটি মসজিদ থাকে, একটির ইমাম সুন্নাহ ও তাক্বওয়ার অধিকারী আর অপরটির ইমাম বিদআত ও ফিসকে লিপ্ত, তাহলে সে প্রথমটির পিছনে নামায আদায় করবে; যদিও সেই মসজিদটি দূরে অবস্থিত হয়।
৪-নাবালেগের ইমামতীঃ
বালেগ এর বিপরীত নাবালেগ। শরীয়ার দৃষ্টিতে নিম্নের তিনটি বিষয়ের যে কোন একটির প্রকাশ পাওয়া বালেগ হওয়া বুঝায়।

  • ১-পনের বছর বয়স পূরণ হওয়া।
  • ২-গুপ্তাঙ্গের চতুর্পার্শে লোম উদগত হওয়া।
  • ৩-যৌন চেতনার সাথে জাগ্রত বা নিদ্রাবস্থায় বীর্যপাত হওয়া।

আর মহিলাদের ক্ষেত্রে আর একটি বিষয় যোগ হবে, তা হচ্ছে মাসিক স্রাব আসা। মাসিক স্রাব প্রকাশ মহিলাদের বালেগা হওয়ার আলামত। [শারহুল্ মুমতি, ইবনে উসায়মীন,৪/২২৪]
ছয়-সাত বছরের নাবালেগ ছেলে যদি নামাযীদের মধ্যে অধিক কুরআন মুখস্থকারী হয়, তাহলে তার ইমামতি সিদ্ধ। আমর বিন সালামাহ বলেনঃ আমাকে তারা (গোত্রের সাহাবারা) ইমাম বানিয়ে দেয়। সেই সময় আমার বয়স ছয় কিংবা সাত বছর ছিল। কারণ তারা নিজেদের মাঝে খোঁজে দেখে যে, আমারই সর্বাধিক কুরআন মুখস্থ রয়েছে। [বুখারী, অধ্যায়, মাগাযী, অনুচ্ছেদ নং ৫৩, হাদীস নং ৪৩০২]
৫-অন্ধ ব্যক্তি ও দাসের ইমামতিঃ
অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি নিঃসন্দেহে বৈধ। আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে মাকতূমের পূত্রকে মদীনায় দুইবার স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। তিনি তাদের ইমামতি করতেন এবং তিনি অন্ধ ছিলেন। [আবু দাঊদ, সালাত অধ্যায়, নং৫৯৫/আহমাদ,৩/১৯২]
ইবনে উমার থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পূর্বে মদীনার কুবার নিকট হিজরতকারীদের আবু হুযায়ফার (রাযিঃ) দাস সালেম ইমামতি করতেন কারণ তিনি বেশী কুরআন মুখস্থকারী ছিলেন। [বুখারী, অধ্যায়ঃ আযান, নং৬৯২]
ইমাম বুখারী উক্ত হাদীসের অনুচ্ছেদ যেই শিরোনামে রচনা করেন, তা হলঃ ‘দাস ও স্বাধীনকৃত দাসের ইমামতি’।
আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, তারঁ জনৈক দাস তাঁর ইমামতি করতো। [মুগনী,৩/২৬]
৬-বোবা ও বধির ব্যক্তির ইমামতিঃ
বোবা ব্যক্তি, সে জন্মগত বোবা হোক কিংবা পরে কোন কারণে বোবা হোক, তার ইমামতি জায়েয নয়; কারণ সে নামাযের রুকন ও ওয়াজিব উচ্চারণ করতে অক্ষম। যেমন তকবীরে তাহরীমা বলা, সূরা ফাতিহা পাঠ করা, তাশাহ্হুদ পাঠ করা ইত্যাদি। তবে তার নিজের নামায সহীহ। [মুগনী,৩/২৯,শারহুল মুমতি,৪/২২৬-২২৭]
বধির ব্যক্তির ইমামতির সম্পর্কে কিছু উলামা বলেনঃ যেহেতু তার মাধ্যমে নামাযের কাজ ও শর্ত সমূহের ব্যাঘাত ঘটে না, তাই তার অবস্থা অন্ধ ব্যক্তির ন্যায়। আর যেমন অন্ধের ইমামতি জায়েয তেমন তারও জায়েয। কিন্তু কিছু উলামা এই বলে বধির ব্যক্তির ইমামতি অশুদ্ধ বলেছেন যে, যেহেতু সে ভুল করলে তাকে সুবহানাল্লাহ বলে ভুলের সংকেত দেওয়া অনর্থক, তাই তার ইমামতি সিদ্ধ নয়। [মুগনী,৩/২৯]
মূলতঃ বোবা ও বধির ব্যক্তির ইমামতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোন দলীল বর্ণিত হয় নি, তাই উলামাগণের মধ্যে এই মতভেদ।
৭-মহিলার ইমামতিঃ
মহিলার জন্য মহিলার ইমামতি বৈধ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মু অরাকা (রাযিঃ) কে আদেশ করেন, তিনি যেন তার বাড়ির সদস্যদের ইমামতি করেন। [আবু দাঊদ, সালাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদঃ মহিলার ইমামতি,নং ৫৯১, ইবনু খুযায়মা বর্ণনাটিকে সহীহ বলেছেন]
আয়েশা (রাযিঃ) হতে প্রমাণিত, তিনি মহিলাদের ইমামতি করতেন এবং লাইনের মাঝে দাঁড়াতেন। [মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক,নং৫০৭৬, দারাকুত্বনী/বায়হাক্বী]
তবে তারা ইমামতির সময় পুরুষের মত লাইন থেকে আগে বেড়ে পৃথক স্থানে দাঁড়াবে না; বরং লাইনের মাঝেই অবস্থান করতঃ ইমামতি করবে। এটা কিছু সাহাবিয়ার আমল দ্বারা প্রমাণিত। [আর রাওদা আন নাদিয়্যাহ, সিদ্দীক হাসান খাঁন,১/৩২২]
কিন্তু মহিলার জন্য বৈধ নয় যে, তারা পুরুষের ইমামতি করবে। [প্রাগুক্ত,৩১২-৩১৩] এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আমল, খুলাফায়ে রাশেদীনের আমল এবং ধারাবাহিক মুসলিম উম্মার আমলই বড় প্রমাণ, যে তাঁরা কেউ মহিলাকে পুরুষের ইমাম নিযুক্ত করেন নি আর না তাদের যুগে এমন কোন নজীর ছিল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘ঐ সম্প্রদায় কখনো সফলকাম হতে পারে না, যারা কোন মহিলাকে তাদের বিষয়াদির নেতা নিযুক্ত করে”। [বুখারী, অধ্যায়ঃ মাগাযী, নং৪৪২৫] যেহেতু ইমামতি এক প্রকারের নেতৃত্ব, তাই তাদের এ পদে নিযুক্ত করা অবৈধ। [দেখুন শারহুল মুমতি,৪/২২২]
৮-রুকু, সাজদা, কিয়াম, কুঊদ করতে অপারগ ব্যক্তির ইমামতিঃ
সাধারণতঃ রুকু, সাজদা, কিয়াম, কুঊদ সহ নামাযের অন্যান্য রুকন পালন করতে অক্ষম ব্যক্তি এ সব পালনে সক্ষম ব্যক্তির ইমামতি করতে পারে না। কারণ এ ক্ষেত্রে ইমামের অবস্থা মুক্তাদী অপেক্ষা দুর্বল, যা ইমামের জন্য বাঞ্ছনীয় নয়। তবে মসজিদের নির্ধারিত সবল ইমাম যদি কোন কারণে নামায পড়ানোর সময় কিয়াম করতে (দাঁড়াতে) অক্ষম হয়ে পড়ে কিংবা অসুস্থতার কারণে শুরু থেকেই দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে অক্ষম হয়, তাহলে সেই ইমাম বসে নামায পড়াতে পারেন। কিন্তু এই সময় দাঁড়াতে সক্ষম মুক্তাদীগণ বসে নামায পড়বে না দাঁড়িয়ে? এ বিষয়ে উত্তম মত হল, ইমাম যদি প্রথমে দাঁড়ানো অবস্থায় নামায শুরু করে থাকেন আর মাঝে বসে পড়ান, তাহলে মুক্তাদীগণ দাঁড়িয়ে নামায সম্পাদন করবেন। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর পূর্বে অসুস্থকালে আবু বকর (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে নামায শুরু করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বাম পার্শে বসে ইমামতি করেন আর আবু বকর সহ অন্যান্য সাহাবাগণ দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে থাকেন। কারণ এখানে প্রথমে আবু বকর (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে ইমামতি শুরু করেছিলেন। আর যদি ইমাম শুরু থেকেই বসে নামায পড়ান, তাহলে মুক্তাদীরাও বসে নামায পড়বেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যখন ইমাম বসে নামায পড়াবে তখন তোমরাও বসে নামায পড়বে”। [বুখারী, আযান অধ্যায়ঃ নং৬৮৯/ মুসলিম, সালাত অধ্যায়, নং৪১১/ বিস্তারিত দেখুন, শারহুল্ মুমতি,৪/২২৮-২৩৬]
৯-উম্মী তথা অজ্ঞ ব্যক্তির পিছনে নামাযঃ
এখানে উম্মী বা অজ্ঞ বলতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যে সূরা ফাতেহা ভাল করে পড়তে পারে না; যদিও সে অন্য সূরা ভাল করে পড়তে সক্ষম হয়। যেমন ‘রা’ কে ‘লা’ পড়ে কিংবা হরকত ভুল পড়ে যেমন, যেরের স্থানে যবার পড়ে বা যবারের স্থানে যের বা পেশ পড়ে, যার ফলে শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ (ইহ্ দিনা) অর্থ আমাদের সঠিক পথ দেখাও এর স্থানে পড়ে (আহ্ দিনা) অর্থ আমাদের হাদিয়া-উপহার দাও কিংবা (আন্‌ আম্ তা) অর্থ তুমি অনুগ্রহ করেছো এর স্থানে পড়ে (আন্ আম্ তু) অর্থ আমি অনুগ্রহ করেছি। তাহলে এমন উম্মী ইমামের পিছনে শুদ্ধ সূরা ফাতিহা পাঠকারীর নামায বৈধ নয়। তবে উপস্থিত সকল লোক যদি সূরা ফাতিহা অশুদ্ধ পাঠকারী হয়, তাহলে তাদের একে অপরের ইমামতি বৈধ। কারণ আল্লাহ তাআ’লা সাধ্যের অতিরিক্ত জরূরী করেন না। কিছু উলামার মতে সূরা ফাতিহা অশুদ্ধ পাঠকারীর পিছনে শুদ্ধ সূরা পাঠকারীর নামায বৈধ কিন্তু এটা উচিৎ নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অধিক পাঠকারী”। [মুসলিম, অধ্যায়ঃ মাসাজিদ, নং ৬৭৩ এবং ২৯০, আরো দেখুন, আল্ মুগনী,৩/২৯-৩০, শারহুর্ মুমতি,৪/২৪৫-২৪৯, ফতাওয়াল লাজনা,৭/৩৪৮]
১০-কিছু আনুসাঙ্গিক বিষয়ঃ
ক-ইমামতির জন্য বিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। [সউদী স্থায়ী ফাতাওয়া পরিষদ,৭/৩৮২]
খ-ব্যভিচারীর সন্তানের ইমামতি অন্য মানুষের ন্যায়। তার মায়ের পাপের কারণে তার ইমামতি প্রভাবিত হবে না। [প্রাগুক্ত ফাতাওয়া পরিষদ,৭/৩৮৮]
গ-ইমামতির সময় অযু নষ্ট হলে অন্য কোন মুক্তাদীকে ইমাম নিযুক্ত করা বৈধ। [প্রাগুক্ত,৭/৩৯৫]

চলবে ইনশাআল্লাহ

আরও পড়ুন:

ইমাম ও ইমামতি-১ম পর্ব

This Post Has 2 Comments

  1. “(1)আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট দুআ-প্রার্থনা করে, (2) নবী, অলী ও সৎ লোকদের আল্লাহর নৈকট্যকারী মনে করে, (3) মৃত কথিত অলীদের উদ্দেশ্যে কুরবানী করে, মানত করে, কবরস্থ সৎ দরগাহ বাসীকে কল্যাণকারী বা ক্ষতি সাধনকারী বিশ্বাস করে,” – আমার প্রশ্ন (২) নবী, অলী ও সৎ লোকদের আল্লাহর নৈকট্যকারী মনে করে, – এটা কি শিরক? তাহলে আমরা হক্কানি আলিমের নিকট যাব কেন?? আল্লাহর নৈকট্যকারী আমলের জন্য নয় কি? যদি আপনি বলেন – তিনি নৈকট্যকারী আমলের শিক্ষা দেন, কিন্তু নিজে নৈকট্যকারী নন, তবে তো আপনি বলছেন, তিনি এলেম অনুযায়ী আমল করছেন না?

  2. কিভাবে মেম্বার হব?

Leave a Reply