আমরা কিভাবে রমযানকে স্বাগত জানাব ?


আমরা কিভাবে রমযানকে স্বাগত জানাব?

  – আ ব দু ল্লা হি ল হা দী মু. ই উ সু ফ

ভূমিকাঃ প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আল্লাহর নির্ধারণকৃত নিয়মে পবিত্র রমযান আমাদের মাঝে আসতে যাচেছ, মুমেন বান্দার জন্য এই মাস পরকালের পাথেয় সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিরাট সহায়ক মাস, যেন মুমেন বান্দার নেকীর পাল্লাকে ভারি করার নিমিত্বেই প্রতিবছর এই মাস বার বার আসছে। তাই সালাফে সালেহীনগণ রোযা আসার ছয়মাস আগে থেকে এই মাস পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকত। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমরা এই মাস পেতে যাচ্ছি।

তাহলে আমরা কিভাবে এই মাসকে স্বাগতম জানাতে পারি এ বিষয়ে নিম্নে কয়েকটি পয়েন্ট উপস্থাপন করা হল:

১. দোয়া:  এই মাস আগমনের পূর্বেই আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠভাবে দোয়া করা যেন তিনি আমাদেরকে এই তাওফিক দেন  যে, আমরা এমাস পেতে পারি এবং যথাযথভাবে ইবাদত করতে পারি। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

الدعاء هو العبادة

“দোয়াই হল ইবাদত”। (সহীহ আবুদাউদ-১৩২৯)

২. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা  এবং প্রশংসা জ্ঞাপন করাঃ এই মাস পেতে পারায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা এবং প্রশংসা জ্ঞাপন করা, কারণ গতবছর যারা রোযা রেখেছিল তাদের অনেকেই আজ নেই, ইমাম নবূবী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবুল আযকারে বলেছেনঃ

“জেনে রেখ আল্লাহ্ যাকে পুনরায় কোন নে’মত দান করেন বা তার কোন বিপদ দূর করেন  তার উচিত আল্লাহর নিকট সিজদা শুকর আদায় করা, অথবা আল্লাহর জন্য তাঁর উপযুক্ত প্রশংসা করা”।

৩. নিয়তের পরিশুদ্ধিতাঃ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের উদ্দেশ্যে এই রোযা রাখা, কোন মানুষ বা কোন সমাজকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নয়।আল্লাহর বাণীঃ

يوم لاينفع مال ولا بنون الا من اتى الله بقلب سليم

 “ যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না, সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহর নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে। (সূরা শুআরা-৮৮-৮৯)

৪. আনন্দ এবং সন্তুষ্টি প্রকাশঃ রমাযানের আগমন উপলক্ষে বন্ধু বান্দবদের সাথে এই আনন্দ বার্তা আদান প্রদান করা এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করা। কারণ রমযানের আগমন উপলক্ষে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবাগণকে সুসংবাদ দিতেন তিনি বলতেনঃ

جاءكم شهر رمضان، شهر رمضان شهر مبارك كتب الله عليكم صيامه فيه تفتح ابواب الجنان وتغلق فيه ابواب الجحيم … الحديث (احمد)

“ তোমাদের মাঝে রমযানের আগমন ঘটেছে, রমযান মাস বরকতের মাস, এই মাসে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য  রোযা রাখা ফরয করেছেন, এই মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ রাখাহয়। (আহমদ)

৫.রমযানের বিধি-বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনঃ  মুমেনের উচিত জেনে বুঝে আল্লাহর ইবাদত করা, কেননা ফরয ইবাদতগুলোর ব্যাপারে অজ্ঞতা গ্রহণ যোগ্য নয়, আর সেই ফরয ইবাদতসমূহের মধ্যে রোযা একটি ফরয ইবাদত, তাই রমাযানের আগমনের পূর্বেই ইসলামী বই পুস্তক পড়ে অথবা আলেম ওলামাগণকে জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে রোযা সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে জেনে নেয়া জরুরী। যাতে করে তার ইবাদত এবং রোযা আল্লাহর নিকট গ্রহণ যোগ্য হয়। আল্লাহর বাণীঃ

فاسئلوا اهل الذكر ان كنتم لاتعلمون

“তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর”। (সূরা আম্বীয়া-৭)

৬.তাওবাঃ  আল্লাহর নিকট তাওবা করার মাধ্যমে নিজের পাপসমূহ ক্ষমা করিয়ে নেয়া এবং সমস্ত পাপ পরিহার করার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে এই মাস বরণ করা। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

رَغِمَ أنفُ امرئٍ أدركَ شهرَ رمضانَ ثم انسلَخَ عنه ولم يُغفَر له

“ ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধুলন্ঠিত হোক যে রমযান মাস পেল  আর তা বিদায় হয়েগেল অথচ তার পাপসমূহ ক্ষমা করা হয়নাই”। ( নাসায়ী ও হাকেম)

৭. আত্ম শুদ্ধি বা অন্তকরণকে পরিষ্কার করাঃ মানুষের অন্তুরে যে হিংসা-বিদ্বেষ থাকে তা থেকে অন্তরকে পরিষ্কার করা। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

صومُ شهرِ الصَّبرِ وثلاثةِ أيَّامٍ من كلِّ شهرٍ يذهبنَ وحرَ الصَّدرِ

“  ধৈর্যের মাসে (রমযান মাসের) রোযা রাখা এবং প্রতি (আরবী মাসের) তিন দিন (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে) রোযা রাখা অন্তর থেকে হিংসা বিদ্বেষ দূর করে দেয়”। (মোসনাদ-২২৯৬৫)

আল্লাহ তায়ালা র নিকট দুয়া করি, তিনি যেন আমাদেরকে মাহে রামাযানে উপণিত করে তাতে অধিক পরিমাণে নেকীর কাজ করে দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবী দান করেন। আমীন।

উৎস: বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস

Leave a Reply