কোয়ান্টাম মেথড: এক ভয়াবহ শিরকী ফেতনার নাম!

কোয়ান্টাম মেথড:- এক ভয়াবহ শিরকী ফেতনার নাম!!

এই ফেতনা বাংলাদেশের হাজারও মুসলমানকে শিরক্ কুফরী আর বিদ’আত করতে বাধ্য করছে! মেডিটেশনের আড়ালে ভন্ড গুরুজীর রমরমা ব্যবসা!!

“আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন বা জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করলাম।” [সূরা আল মায়েদাহ:-৩]

“সত্যতম বাণী আল্লাহর কিতাব, সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদের আদর্শ, সবচেয়ে খারাপ বিষয় হল নতুন উদ্ভাবিত বিষয়। প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।” [সহীহ্ মসলিম:- ২/৫৯৩]

“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুকে দ্বীন হিসাবে তালাশ করবে, তার নিকট থেকে তা কবুল করা হবেনা। আর আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
[সূরা আলে ইমরান:-৮৫]

আল্লাহর বানী এত্ত স্পষ্ট হওয়ার পরেও এক জন মুসলমানের জীবনে শান্তি খুজতে কোয়ান্টাম মেথড এর সাহাজ্য নিতে হয় কেন এবং কোন সাহসে!??

কোয়ান্টাম মেথড : একটি শয়তানী ফাঁদ
———————————————–
মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে ফিরিয়ে কথিত অন্তর্গুরুর ইবাদতে লিপ্ত করার অভিনব প্রতারণার নাম হ’ল কোয়ান্টাম মেথড। হাযার বছর পূর্বে ফেলে আসা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান পাদ্রী ও যোগী-সন্ন্যাসীদের যোগ-সাধনার আধুনিক কলা-কৌশলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেডিটেশন’।
হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সাময়িক প্রশান্তির সাগরে ভাসিয়ে এক কল্পিত দেহভ্রমণের নাম দেওয়া হয়েছে Science of Living বা জীবন-যাপনের বিজ্ঞান। আকর্ষণীয় কথার ফুলঝুরিতে ভুলে টাকাওয়ালা সাধারণ শিক্ষিত মানুষেরা এদের প্রতারণার ফাঁদে নিজেদেরকে সঁপে দিচ্ছেন অবলীলাক্রমে। ব্যয় করছেন কথিত ধ্যানের পিছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঢেলে দিচ্ছেন হাযার হাযার টাকা। অথচ একটা রঙিন স্বপ্ন ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই জুটছে না। অন্যদিকে মুসলমান যারা এদের দলে ভিড়ছে, তারা শিরকের মহাপাতকে লিপ্ত হয়ে দুনিয়া ও আখেরাত দু’টিই হারাচ্ছে। নিম্নে আমরা এদের আক্বীদা-বিশ্বাস ও কর্মনীতি যাচাই করব।- কোয়ান্টামের পঞ্চসূত্র হ’ল, প্রশান্তি, সুস্বাস্থ্য, প্রাচুর্য, সুখী পরিবার ও ধ্যান। বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম প্রত্যেকের ধর্মবিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে। সুখী মানুষের সবটুকু প্রয়োজন পূরণের প্রক্রিয়াই রয়েছে কোয়ান্টামে। তাই কোয়ান্টামই হচ্ছে নতুন সহস্রাব্দে আধুনিক মানুষের জীবন যাপনের বিজ্ঞান’।
অন্যান্য ডিগ্রীর ন্যায় এখানকার ধ্যান সাধনায় যারা উত্তীর্ণ হয়, তাদেরকে ‘কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট’ বলে শ্রুতিমধুর একটা ডিগ্রী দেওয়া হয়। তাদের প্রচার অনুযায়ী বাংলাদেশে ফলিত মনোবিজ্ঞানের পথিকৃৎ এবং আত্মউন্নয়নে ধ্যান পদ্ধতির প্রবর্তক প্রফেসর এম.ইউ. আহমাদ নাকি ক্লিনিক্যালি ডেড হওয়ার পরেও পুনরায় জীবন লাভ করেন শুধু ‘তাঁকে বাঁচতে হবে, তিনি ছাড়া দেশে নির্ভরযোগ্য মনোচিকিৎসক নেই’ তাঁর এই দৃঢ় বিশ্বাসের জোরে’ (মহাজাতক, কোয়ান্টাম টেক্সট বুক, জানু. ২০০০, পৃঃ ২২-২৪)।
অর্থাৎ হায়াত-মউতের মালিক তিনি নিজেই।
প্রথমে বলে রাখি, মানবরচিত প্রত্যেক ধর্মেই স্ব স্ব নিয়মে ধ্যান পদ্ধতি আছে। হিন্দু-বৌদ্ধ যোগী-সন্ন্যাসীদের সাধন-ভজন সম্বন্ধে আমরা কিছুটা জানি। আল্লাহ প্রেরিত ঈসায়ী ধর্মে সর্বপ্রথম সন্ন্যাসবাদের উদ্ভব হয়। যে বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আর সন্ন্যাসবাদ, সেটাতো তারা নিজেরাই প্রবর্তন করেছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। আমরা তাদেরকে এ বিধান দেই নি। অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করে নি। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল, তাদেরকে আমরা পুরস্কার দিয়েছিলাম। আর তাদের অধিকাংশ ছিল পাপাচারী’ (হাদীদ ৫৭/২৭)।
এখানে আল্লাহ তাদেরকে দুইভাবে নিন্দা করেছেন।

  • ১. তারা আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আত অর্থাৎ নতুন রীতির উদ্ভাবন করেছিল।
  • ২. তারা নিজেরা যেটাকে আল্লাহর নৈকট্য মনে করে আবিষ্কার করেছিল, সেটার উপরেও তারা টিকে থাকতে পারেনি। ইসলামের স্বর্ণযুগের পরে ভ্রষ্টতার যুগে মা‘রেফতের নামে বিদ‘আতী পীর-ফকীররা নানাবিধ ধ্যান পদ্ধতি আবিষ্কার করে। অতঃপর কথিত ইশক্বের উচ্চ মার্গে পৌঁছে হুয়া হু করতে করতে যখন চক্ষু ছানাবড়া হয়ে ‘কাশফ’ বা ‘হাল’ হয়, তখন নাকি তাদের আত্মা পরমাত্মার মধ্যে লীন হয়ে যায়। একে তাদের পরিভাষায় ফানা ফিল্লাহ বা বাক্বা বিল্লাহ বলে। এরাই ছূফী ও পীর-মাশায়েখ নামে এদেশে পরিচিত। অথচ এইসব মা‘রেফতী তরীকার কোন অনুমোদন ইসলামে নেই। ধ্যানকে কোয়ান্টামের পরিভাষায় বলা হয় ‘মেডিটেশন’ (Medetation)। যার প্রথম ধাপ হ’ল ‘শিথিলায়ন’ যা মনের মধ্যে ধ্যানাবস্থা সৃষ্টি করে। আর শেষ ধাপ হ’ল মহা চৈতন্য (Super Consciousness)। যখন তারা বস্ত্তগত সীমা অতিক্রম করে মহা প্রশান্তির মধ্যে লীন হয়ে যায়। যদিও এর কোন সংজ্ঞা তাদের বইতে সুস্পষ্টভাবে নেই। এক্ষণে কোয়ান্টামের সাথে অন্যদের পার্থক্য এই যে, অন্যেরা স্ব স্ব ধর্মের মধ্যে বিদ‘আত সৃষ্টি করেছে ও স্ব স্ব ধর্মের নামেই পরিচিতি পেয়েছে। পক্ষান্তরে কোয়ান্টাম মেথড সকল ধর্ম ও বর্ণের লোকদের নতুন ধ্যানরীতিতে জমা করেছে। খানিকটা সম্রাট আকবরের দ্বীনে এলাহীর মত। তখন আবুল ফযল ও ফৈযীর মত সেকালের সেরা পণ্ডিতবর্গের মাধ্যমে সেটা চালু হয়েছিল মূলতঃ রাজনৈতিক কারণে। আর এ যুগে কিছু উচ্চ শিক্ষিত সুচতুর লোকদের মাধ্যমে এটা চালু হয়েছে ইসলাম থেকে মানুষকে সরিয়ে নেবার জন্যে এবং শিক্ষিত শ্রেণীকে বিশ্বাসে ও কর্মে পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ বানাবার জন্যে। যাতে ভবিষ্যতে এদেশ তার ইসলামী পরিচিতি হারিয়ে সেক্যুলার দেশে পরিণত হয়। মুনি-ঋষিরা ধ্যান করে তাদের ঈশ্বরের নৈকট্য লাভের জন্য। পক্ষান্তরে কোয়ান্টামে ধ্যান করা হয় স্ব স্ব ‘অন্তর্গুরু’কে পাওয়ার জন্য। যেমন বলা হচ্ছে, ‘অন্তর্গুরুকে পাওয়ার আকাংখা যত তীব্র হবে, তত সহজে আপনি তার দর্শন লাভ করবেন। এ ব্যাপারে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা হয়েছে কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েটদের’ (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৪৭)। যেমন একটি ঘটনা বলা হয়েছে, ‘ছেলে কোলকাতায় গিয়েছে। দু’দিন কোন খবর নেই। বাবা কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট। মাগরিবের নামাজ পড়ে মেডিটেশন কমান্ড সেন্টারে গিয়ে ছেলের বর্তমান অবস্থা দেখার চেষ্টা করতেই কোলকাতার একটি সিনেমা হলের গেট ভেসে এল। ছেলে সিনেমা হলের গেটে ঢুকছে। বাবা ছেলেকে তার উদ্বেগের কথা জানালেন। বললেন শিগগীর ফোন করতে’ (পূর্বোক্ত, পৃঃ ২৪১)।এমনিতরো উদ্ভট বহু গল্প তারা প্রচার করেছেন।

এক্ষণে আমরা দেখব ইসলামের সাথে এর সম্পর্ক :-

১. এটি তাওহীদ বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং পরিষ্কারভাবে শিরক। তাওহীদ বিশ্বাস সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ কেন্দ্রিক। ইসলামের সকল ইবাদতের লক্ষ্য হ’ল আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল (ছাঃ)-এর আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা ও পরকালে মুক্তি লাভ করা। পক্ষান্তরে কোয়ান্টামের ধ্যান সাধনার লক্ষ্য হ’ল অন্তর্গুরুকে পাওয়া। যা আল্লাহ থেকে সরিয়ে মানুষকে তার প্রবৃত্তির দাসত্বে আবদ্ধ করে। এদেরকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ বলেন, ‘আপনি কি দেখেছেন ঐ ব্যক্তিকে, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়েছে? আপনি কি তার যিম্মাদার হবেন’? ‘আপনি কি ভেবেছেন ওদের অধিকাংশ শুনে বা বুঝে? ওরা তো পশুর মত বা তার চাইতে পথভ্রষ্ট’ (ফুরক্বান ২৫/৪৩-৪৪)।
মূলতঃ ঐ অন্তর্গুরুটা হ’ল শয়তান। সে সর্বদা তাকে রঙিন স্বপ্নের মাধ্যমে তার দিকে প্রলুব্ধ করে।

  • ২. তারা বলেন, মনকে প্রশান্ত করার মতো নামাজ যাতে আপনি পড়তে পারেন সেজন্যই মেডিটেশন দরকার। কেননা নামাজের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হুযুরিল ক্বালব, একাগ্রচিত্ততা। এটা কিভাবে অর্জিত হয়, তা এখানে এলে শেখা যায়’ (প্রশ্নোত্তর ১৪২৭)।

জবাব : এটার জন্য সর্বোত্তম পন্থা হ’ল ছালাত। এর বাইরে কোন কিছুর অনুমোদন ইসলামে নেই।

  • আল্লাহ বলেন, তুমি ছালাত কায়েম কর আমাকে স্মরণ করার জন্য’ (ত্বোয়াহা ১৪)।
  • রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন সংকটে পড়তেন তখন ছালাতে রত হ’তেন (আবুদাঊদ হা/১৩১৯)।
  • তিনি বলেছেন, তোমরা ছালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে দেখছ’ (বুখারী হা/৬৩১)।
  • যারা খুশু-খুযুর সাথে ফরয, নফল ও তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিতভাবে আদায় করে, তাদেরকেই আল্লাহ সফলকাম মুমিন বলেছেন (মুমিনূন ১-২)।
  • আর ছালাতে ধ্যান করা হয় না। বরং একমনে বান্দা তার সৃষ্টিকর্তার সাথে একান্তে আলাপ করে (বুখারী হা/৫৩১)।

সর্বোচ্চ শক্তির কাছে নিজের দুর্বলতা ও নিজের কামনা-বাসনা পেশ করে সে হৃদয়ে সর্বোচ্চ প্রশান্তি লাভ করে এবং নিশ্চিত আশাবাদী হয়। অথচ মেডিটেশনের কথিত অন্তর্গুরুর কোন ক্ষমতা নেই। তার সাধনায় নিশ্চিত আশাবাদের কোন প্রশ্নই ওঠে না। কেননা ওটা তো স্রেফ কল্পনা মাত্র। ছালাতে আল্লাহর ইবাদত করা হয়। পক্ষান্তরে মেডিটেশনে অন্তর্গুরুর ইবাদত করা হয়। একটি তাওহীদ, অপরটি শিরক। দু’টিকে এক বলা দিন ও রাতকে এক বলার সমান। যা চরম ধৃষ্টতার নামান্তর।

  • ৩. তারা বলেন, কোয়ান্টাম মেডিটেশনের জন্য ধর্ম বিশ্বাস কোন যরূরী বিষয় নয়। ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মের সাথে এর কোন বিরোধ নেই। তাদের কার্যাবলীতে এর প্রমাণ রয়েছে। যেমন, ‘এখন কোয়ান্টাম শিশু কাননে রয়েছে ১৫টি জাতিগোষ্ঠীর চার শতাধিক শিশু। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্রামা, খ্রিষ্টান, প্রকৃতিপূজারী সকল ধর্মের শিশুরাই যার যার ধর্ম পালন করছে। আর এক সাথে গড়ে উঠছে আলোকিত মানুষ হিসাবে’ (শিশু কানন)।

জবাব : মানুষকে সকল ধর্ম থেকে বের করে এনে কোয়ান্টামের নতুন ধর্মে দীক্ষা নেবার ও কোয়ান্টাম নেতাদের গোলাম বানানোর চমৎকার যুক্তি এগুলি। কেননা অন্তর্গুরুর ব্যাখ্যায় তারা বলেছেন, আধ্যাত্মিকতার পথে অগ্রসর হতে গেলে একজন আলোকিত গুরুর কাছে বায়াত বা দীক্ষা নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া আধ্যাত্মিকতার সাধনা এক পিচ্ছিল পথ। যেকোন সময়ই পা পিছলে পাহাড় থেকে একেবারে গিরিখাদে পড়ে যেতে পারেন’ (টেক্সটবুক, পৃঃ ২৪৭)। অর্থাৎ এরা ‘আলোকিত মানুষ’ বানাচ্ছে না। বরং ইসলামের আলো থেকে বের করে এক অজানা অন্ধকারে বন্দী করছে। যার পরিণাম জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন তালাশ করবে, তা কবুল করা হবে না। ঐ ব্যক্তি আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে ইমরান ৮৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমি তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে এসেছি’ (আহমাদ, মিশকাত হা/১৭৭)।অতএব
ইসলামের প্রকৃত অনুসারীরাই কেবল আলোকিত মানুষ। বাকী সবাই অন্ধকারের অধিবাসী।

  • ৪. তারা বলেন, বহু আলেম আমাদের মেডিটেশন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং তারা এর সাথে ইসলামের কোন বিরোধ নেই বলেছেন।

জবাব : অল্প জ্ঞানী অথবা কপট বিশ্বাসী ও দুনিয়াপূজারী লোকেরাই চিরকাল ইসলামের ক্ষতি করেছে। আজও করছে। ওমর (রাঃ) বলেন, ইসলামকে ধ্বংস করে তিনটি বস্ত্ত :

  • (১) আলেমদের পদস্খলন
  • (২) আল্লাহর কিতাবে মুনাফিকদের ঝগড়া এবং
  • (৩) পথভ্রষ্ট নেতাদের শাসন’ (দারেমী)।

মনে রাখা আবশ্যক যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবদ্দশায় ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছে। অতএব যা তাঁর ও তাঁর ছাহাবীগণের আমলে দ্বীন হিসাবে গৃহীত ছিল, কেবলমাত্র সেটাই দ্বীন হিসাবে গৃহীত হবে। তার বাইরে কোন কিছুই দ্বীন নয়।

  • ৫. মেডিটেশন পদ্ধতি নিজের উপরে তাওয়াক্কুল করতে বলে এবং শিখানো হয় যে, ‘তুমি চাইলেই সব করতে পার’। এরা হাতে মূল্যবান ‘কোয়ান্টাম বালা’ পরে ও তার উপরে ভরসা করে।

জবাব : ইসলাম মানুষকে মহাশক্তিধর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে শিখায় এবং আল্লাহ যা চান তাই হয়। এর মাধ্যমে মুমিন নিশ্চিন্ত জীবন লাভ করে ও পূর্ণ আত্মশক্তি ফিরে পায়। আর ইসলামে এ ধরনের ‘বালা’ পরা ও তাবীয ঝুলানো শিরক (ছহীহাহ হা/৪৯২)।

  • ৬. তারা বলেন, শিথিলায়ন প্রক্রিয়ায় মানুষের মধ্যে এমন এক ক্ষমতা তৈরী হয়, যার দ্বারা সে নিজেই নিজের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে পারে। এজন্য একটা গল্প বর্ণনা করা হয়েছে যে, এক ইঞ্জিনিয়ার সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করার মনছবি দেখতে লাগল। ফলে সে ডিভি ভিসা পেয়ে গেল। তারপর সেখানে ভাল একটা চাকুরীর জন্য মনছবি দেখতে লাগল। ফলে সেখানে যাওয়ার দেড় মাসের মধ্যেই উন্নতমানের একটা চাকুরী পেয়ে গেল’(টেক্সট বুক পৃঃ ১১৫)।

জবাব : ইসলাম মানুষকে তাকদীরে বিশ্বাস রেখে বৈধভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বলে। অথচ কোয়ান্টাম সেখানে আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে কথিত মনছবির পূজা করতে বলে।

  • ৭. কোয়ান্টামের মতে রোগের মূল কারণ হ’ল মানসিক। তাই সেখানে মনছবি বা ইমেজ থেরাপি ছাড়াও ‘দেহের ভিতরে ভ্রমণ’ নামক পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের নানা অঙ্গের মধ্য দিয়ে কাল্পনিক ভ্রমণ করতে বলা হয়। এতে সে তার সমস্যার স্বরূপ সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে এবং নিজেই কম্যান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সমাধান করতে পারে। যেমন, একজন ক্যান্সার রোগী তার ক্যান্সারের কোষগুলিকে সরিষার দানা রূপে কল্পনা করে। আর দেখে যে অসংখ্য ছোট ছোট পাখি ঐ সরিষাদানাগুলো খেয়ে নিচ্ছে। এভাবে আস্তে আস্তে সর্ষে দানাও শেষ, তার ক্যান্সারও শেষ’ (টেক্সট বুক পৃঃ ১৯৪)।
  • ৮. এদের শোষণের একটি হাতিয়ার হ’ল ‘মাটির ব্যাংক’। যে নিয়তে এখানে টাকা রাখবেন, সে নিয়ত পূরণ হবে। প্রথমবারে পূরণ না হ’লে বুঝতে হবে মাটির ব্যাংক এখনো সন্তুষ্ট হয়নি। এভাবে টাকা ফেলতেই থাকবেন। কোন মানত করলে মাটির ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হবে। পূরণ না হলে অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এখানে খাঁটি সোনার চেইন বা হীরার আংটি দিতে পারেন। ইমিটেশন দিলে মানত পূরণ হবে না (প্রশ্নোত্তর)। এর জন্য একটা গল্প ফাঁদা হয়েছে। যেমন, ‘মধ্যরাতে উঠে মাটির ব্যাংকে পাঁচশত টাকা রাখার সাথে সাথে মুমূর্ষু ছেলে সুস্থ হয়ে গেল’ (দুঃসময়ের বন্ধু..)।

প্রিয় পাঠক! বুঝতে পারছেন, কত সুচতুরভাবে মানুষকে আল্লাহ থেকে সরিয়ে নিয়ে তাদের কম্যান্ড সেন্টারে আবদ্ধ করা হচ্ছে এবং সেই সাথে মাটির ব্যাংকে টাকা ও গহনা রাখার ও তা কুড়িয়ে নেবার চমৎকার ফাঁদ পাতা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে রোগ ও তা আরোগ্য দানের মালিক আল্লাহ। আল্লাহর হুকুম আছে বলেই মুমিন ঔষধ খায়। ঔষধ আরোগ্যদাতা নয়। বরং আল্লাহ মূল আরোগ্যদাতা। এই বিশ্বাস তাকে প্রবল মানসিক শক্তিতে শক্তিমান করে তোলে। এজন্য তাকে মেডিটেশন বা কম্যান্ড সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। মাটির ব্যাংকে টাকা রাখারও দরকার হয় না। বরং গরীবকে ছাদাক্বা দিলে তার গোনাহ মাফ হয় (মিশকাত হা/২৯)।

  • ৯. অন্যান্য বিদ‘আতীদের ন্যায় এরাও কুরআন-হাদীছের অপব্যাখ্যা করেছে মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে দলে ভিড়ানোর জন্য।

যেমন-

  • (ক) ‘সকল ধর্মই সত্য’ তাদের এই মতবাদের পক্ষে সূরা কাফেরূনের ‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়া লিয়া দ্বীন’ শেষ আয়াতটি ব্যবহার করেছে। যেন আবু জাহলের দ্বীনও ঠিক, মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর দ্বীনও ঠিক। এই অপব্যাখ্যা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকরা ও তাদের পদলেহীরা করে থাকে। কোয়ান্টামের লোকেরাও করছে। অথচ ইসলামের সারকথা একটি বাক্যেই বলা হয়েছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। একথার মধ্যে সকল ধর্ম ও মতাদর্শকে অস্বীকার করা হয়েছে। কোয়ান্টামের অন্তর্গুরু নামক ইলাহটিকেও বাতিল করা হয়েছে।
  • (খ) তারা বলেন মেডিটেশন একটি ইবাদাত। যা রাসূল (ছাঃ) হেরা গুহায় করেছেন’। অথচ এটি স্রেফ তোহমত বৈ কিছু নয়। নিঃসঙ্গপ্রিয়তা আর মেডিটেশন এক নয়। তাছাড়া নবী হওয়ার পরে তিনি কখনো হেরা গুহায় যাননি। ছাহাবায়ে কেরামও কখনো এটি করেননি।
  • (গ) তারা সূরা জিন-এর ২৬ ও ২৭ আয়াতের অপব্যাখ্যা করে বলেছেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা গায়েবের খবর জানাতে পারেন। অতএব যে যা জানতে চায় আল্লাহ তাকে সেই জ্ঞান দিয়ে দেন’ (প্রশ্নোত্তর ১৭৫৩)।

অথচ উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারু নিকট প্রকাশ করেন না। এ সময় তিনি সামনে ও পিছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন’। অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর রাসূলের নিকট ‘অহি’ প্রেরণ করেন এবং তাকে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখেন। এই ‘অহি’-টাই হ’ল গায়েবের খবর, যা কুরআন ও হাদীছ আকারে আমাদের কাছে মওজুদ রয়েছে। রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘অহি’-র আগমন বন্ধ হয়ে গেছে। অতএব কোয়ান্টামের গুরুরা চাইলেও গায়েবের খবর জানতে পারবেন না।

  • (ঘ) তারা সূরা বুরূজ-এর বুরূজ অর্থ করেন ‘রাশিচক্র’।

যাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে রাশিচক্র অনুযায়ী মানুষের ভাল-মন্দ ও শুভাশুভ নির্ধারণের বিষয়টি তাদের শিষ্যদের মনে গেঁথে যায়। অথচ এটি হিন্দু ও তারকা পূজারীদের শিরকী আক্বীদা মাত্র।

  • (ঙ) তারা সূরা আলে ইমরানের ১৯১ আয়াতটি তাদের আবিষ্কৃত মেডিটেশনের পক্ষে প্রমাণ হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন (প্রশ্নোত্তর ১৭৫৩)।ঐ সাথে একটি জাল হাদীছকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছেন যে, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, সৃষ্টি সম্পর্কে এক ঘণ্টার ধ্যান ৭০ বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম’ (প্রশ্নোত্তর ১৭২৪)।অথচ উক্ত আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর সৃষ্টি বিষয়ে গভীর গবেষণা তাকে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রার্থনায় উদ্বুদ্ধ করে’।

কোয়ান্টামের কথিত অন্তর্গুরুর কাছে যেতে বলে না। আর হাদীছটি হ’ল জাল। যা আদৌ রাসূল (ছাঃ)-এর বাণী নয়। কোন কোন বর্ণনায় ৬০ বছর ও ১০০০ বছর বলা হয়েছে’ (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৭১)।

পরিশেষে বলব, কোয়ান্টাম মেথডের পূরা চিন্তাধারাটাই হ’ল তাওহীদ বিরোধী এবং শিরক প্রসূত। যা মানুষের মাথা থেকে বেরিয়ে এলেও এর মূল উদ্গাতা হ’ল শয়তান। মানুষকে জাহান্নামে নেবার জন্য মানুষের নিকট বিভিন্ন পাপকর্ম শোভনীয় করে পেশ করার ক্ষমতা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন (হিজর ৩৯)।

তবে সে আল্লাহর কোন মুখলেছ বান্দাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না (হিজর ৪০)। শয়তান নিজে অথবা কোন মানুষের মাধ্যমে প্রতারণা করে থাকে। যেমন হঠাৎ করে শোনা যায়, অমুক স্থানে অমুকের স্বপ্নে পাওয়া শিকড়ে বা তাবীযে মানুষের সব রোগ ভাল হয়ে যাচ্ছে। ফলে দু’পাঁচ মাস যাবত দৈনিক লাখো মানুষের ভিড় জমিয়ে হাযারো মুসলমানের ঈমান হরণ করে হঠাৎ একদিন ঐ অলৌকিক চিকিৎসক উধাও হয়ে যায়। এদের এই ধোঁকার জালে আবদ্ধ হয়েছিল সর্বপ্রথম নূহ (আঃ)-এর কওম। যারা পরে আল্লাহর গযবে ধ্বংস হয়ে যায়। আমরাও যদি শিরকের মহাপাপ থেকে দ্রুত তওবা না করি, তাহ’লে আমরাও তাঁর গযবে ধ্বংস হয়ে যাব। অতএব হে মানুষ! সাবধান হও!!(স.স.)

সংগৃহীতঃ- মাসিক আত-তাহরীক

This Post Has 31 Comments

  1. পুরোটা পড়লাম, অনেক অবাক লাগল ! অথচ এদের মহাগুরু সিডিতে ইসলামের বানী প্রচার করে

    1. এভাবেই চলছে আমাদের দেশে মুসলমানদের ঈমান বেচা-কেনা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঈমান-আমল হেফাজত করুন। আমীন।

      1. Dear Hadi Bhai “A little learning is a dangerous thing” .Meditation is proved science and science has deep relation with Holy Quran.

    2. Quantum এটা একটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে চিকিৎসা মাত্র । সাথে সাথে এরা কিছু সামাজিক সেবা মুলক কর্মকাণ্ড করে । এই জিনিসটাই আপনারা বুঝতে পারছেন না । শোনা কথায় বার বার একে মহান ইসলাম এর সাথে তুলনা করছেন ।

      1. আমার পরিবারের সকল সদস্যই কোয়ান্টাম গ্রেজ়ুয়েট…
        আমিও অনেকের মতো কোয়ান্টামের জয় গান করতাম।
        আমি একবার কোয়াণ্টামের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি যে, যখনই তাদের পীর সাহেব শহিদ আল বোখারী মহাজাতরক অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলেনই তখনই সকলে দাঁড়িয়ে গেলো…যা একটী জঘন্য কাজ, কেনো না সহিহ হাদিসে সরাসরি বলা হইয়েছে যে, দাঁড়িয়ে সম্মান দেয়া গোনাহের কাজ… এক মাত্র আল্লাহ’র সম্মানেই দাঁড়ানো যাবে।।
        তাছাড়া অনারা সকল ধর্মের মানুষ এর সাথে ইসলাম ধর্মকেও এক কাতারে রেখেছেন।। নাউযুবিল্লাহ…। আল্লাহ বলেছেন যে,”কেবল ইসলামই আমার নিকট এক মাত্র গ্রহনযোগ্য দ্বীন…। অথচ ওনাদের পীর সাহেব সকল ধর্ম গ্রন্থ নিয়ে লেকচার দেন্‌,।।এইটা কী রকম ব্যবসা???/।।// আপনি বাইবেলকে সত্য বলবেন, গীতা কে সত্য বলবেন আবার কোরআন কেও ছাড় দিবেন না… এইটা কোন ধরনের ভাওতা বাজি???…
        অবশ্যই জাহান্নামের ৭২ টি দল যাবে যারা ইসলামের নামেই নিজেদের পরিচয় দিবে।।[হাদিস]
        আল্লাহ পাক কুরআন এ বলেছেন ” অবশ্যই অধিকাংশ ইমানদার ,ইমান আনা সত্বেও মুশরিক{সুরা ইউসুফ ১০৬}।।
        মুশরিকদের জন্য জান্নাত হারাম ও জাহান্নাম অবধারিত…।
        আমাদের লক্ষ কাঊকে কষ্ট দেয়া নয়, শুধু মাত্র দাওয়াত পৌছানো…।
        যদিও আমরা জানি যে আমাদের কথা অনেকেই মানবেন না্‌, কেনো না আল্লাহ বলেছেন ,”আপনি হিদায়াত এর মালিক নন, মালিক কেবলই আল্লাহ”… তিনি আরও বলেন ”কিছু মানুষের অন্তরে মোহর মারা হয়েছে, অতএব তারা সত্যকে দেখেও প্রত্যাক্ষান করবে।

    3. ইসলামের যেসব বাণী প্রচারিত হয় তা শুনতে ভালো মনে হলেও অধিকাংশই ভুল। যেমন- সূরা বুরূজ এর অর্থ বলা হয়েছে রাশিচক্র। হয়তো মহাজাতক সাহেব নিজের আগের পেশাকে বৈধতা দেয়ার জন্যেই এই নামকরণ করেছেন।

  2. Dear Writer and Abdullahil Hadi………………Meditation is not a new method or not a new religion.It is proved science.Ask them those who are P.H.D IN SCIENCE. “SCIENCE WITHOUT RELIGION IS LAME AND RELIGION WITHOUT SCIENCE IS BLIND.”

    1. ওকে, আপনি জিতে গেলেন দুনিয়াতে, আমরা সবাই ভুল।
      তবে কবরে গিয়ে আসল খেলা বুঝতে পারবেন ,ইনশা আল্লাহ,
      অবশ্যই মুশরিকদের স্থান জাহান্নামে ও জান্নাত তাদের জন্য হারাম।।
      সময় থাকতে তাওবা করূন

    2. আপনি এই গ্রুপ এর এডমিন এর পরিচয় জানেন???/
      না জানলে কী , জানলেই বা কী। আপনাদের গুরুজীতো আপনাদের ইহকাল ও পরকালের অলী… আপনারা এডমিনের সাথে কথা বলারো যোগ্যতে রাখেন বলে আমার মনে হয় না। যতোটা কুরআন হাদীসের জ্ঞ্যান ওনার আছে, ততোটা আপনারা চেষ্টা করলে পারতে পারেন যদি আল্লাহ {সুবঃ] আপনাদের হিদায়াত দেন তবেই।

    3. এমন কোন সহীহ হাদিস দেখাতে পারবেন যেখানে রাসুল{স} ধ্যান করেছেন এমনটি লেখা আছে ও আরো কী দেখাতে পারবেন যে কোন সাহীহ হাদিসে রাসুলিল্লাহ{স} তার সাহাবা রেদওয়ানুল্লাহ আজমাইন ও উম্মাতে মুসলিমাহ কে ধ্যান করতে আদেশ করেছেন।।??? পারলে সহীহ সনদ, রাবি’র নাম ও কিতাব উল্লেখ করে প্রমান দিন।
      ইসলাম কোন মোল্লা, পীর, গুরু, বাবা ,বিজ্ঞ্যানীর বানীতে চলে না, ইসলামের চালিকা শক্তি কেবলই কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ, যা আল্লাহ সুবহানহু’তালা লাওহে মাহফুয এ সংরক্ষণ করেছেন।
      ইমাম শাফেয়ী{রাহিমাহুল্লাহ} বলেন ”তোমরা কোন ব্যক্তিকে পানির মধ্যে হাটতে দেখে তাকে অলী মনে কোরনা, যতক্ষন না পর্যন্ত সে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ’র অনুসরন করে”…
      অবশ্যই কিছু মানুষের কথা জাদুর মতো {according to Sunnah}
      অতএব কোয়ান্টাম গুরুজীর কথা ও যুক্তি আপনার যে ভালো লাগবে তাই স্বাভাবিক, আমারো লাগতো, তবে আলহামদালিল্লাহ, তাদের ভিতরের ব্যপার গুলোকে যখন কুরআন হাদীস দিয়ে যাচাই করলাম ,তখন বুঝলাম এরা সুফি ও শিরকী তরিকার বিশ্বাসী, যারা আধুনিক দূর্বল মুসলিমদের তাদের দলে প্রবেশ করাচ্ছে ও দল ভারি করছে।
      ড. সাহেব আপনি আমাদের মুরুব্বী, দ্বীন সম্পর্কে আপনিও কমবেশী জ্ঞ্যান রাখেন, বহু দল ইসলামকে বিজ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে প্রমান করতে গিয়ে নিজেরাই জাহান্নামী ফিরকা তৈরি করেছে। মনে রাখবেন জান্নাতী দল কেবল একটি হবে , যারা কেবল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মোতাবেক ইবাদত করবে…বাকি ৭২ টা ফিরকার অনুসারীরাও খুব নামাযী, রোযাদার, পরহেযগার হবে{কুরআন ও সুন্নাহ}//////……
      সময় থাকতে ফিরে আসুন, নয়তো মৃত্যু আপনার দারে পৌছে গেলে আর তাউবা করার সুযোগ থাকবে না। ফে আমানিল্লাহ।
      btw: কোয়ান্টাম এর একটি মন্ত্র হচ্ছে দাঁড়িয়ে সবাই ডান হাত উচা করে ”কুন” নামক এক চিহ্ন দেখায়, মনে রাখবেন এগূলো কুফরি কালামের অন্তর্ভূক্ত, ও ””কুন” শব্দটী কেবল আল্লাহই ব্যভার করতে পারবেন, মানুষ নয়। অতএব সাধু সাবধান, সহিহ করূন ইমান

      1. তার মানে রাসুলুল্লাহ্ যে হেরা গুহায় ধ্যান করতেন সেটা কি মিথ্যা?

        1. সহীহ বুখারীর বর্ণনায় যা আছে তা হল, كان يتحنث الليالي أي يتعبد অর্থাৎ “রাসুল সা. হেরাগুহায় কয়েক রাত ধরে ইবাদত করতেন।” (সহীহ বুখারী, ওহী নাজিল অধ্যায়) কিন্তু এটাকেই কিছু মানুষ তিনি ‘ধ্যান’ করতে বলে প্রচার করে থাকে। অথচ এটা ঠিক নয়। আরেকটি বিষয় হল, রাসুল সা. এর জীবনী পড়লে দেখা যায়, তিনি ঐ হেরা পর্বতে গিয়েছিলেন নবী হওয়ার আগে। যে দিন সেখানে ওহী নাযিল হওয়ার মাধ্যমে তিনি নবী হলেন সেদিন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আর কখনও সেখানে যান নি। সুতরাং রাসুল সা. এভাবে নির্জন গুহায় বসে চোখ বন্ধ করে ধ্যান মগ্ন থাকার বিষয়টি রাসুল সা. এর দিকে সন্বন্ধ করা সঠিক নয়। ধন্যবাদ।

    4. কোয়ান্টাম থেকে শির্‌ক কিভাবে করতে হয়, তা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম। আর তা বুঝতে পারার সাথে সাথেই ত্যাগ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ্‌।
      প্রো-মাস্টার কোর্স যারা করেছেন, তারা যদি অন্ধ না হয়ে থাকেন তাহলে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেন। কোর্সের সময় আসরের নামাজ সময়মত পড়তে দেয়া হয় নি; যে কোর্সে গিয়ে ফরজ ইবাদত করার সুযোগ থাকে না- সে কোর্স দিয়ে যে কোন লাভ হবে তা বিশ্বাস করি না।

  3. আল্লামা ড. এম শমশের আলী
    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য আল্লামা ড. এম শমশের আলী দেশের নেতৃস্থানীয় পদার্থবিজ্ঞানী। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক ও টিভি ব্যক্তিত্ব। জাতীয় জীবনে বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাভাবনা প্রসারে তিনি গ্রহণ করেছেন অগ্রণী ভূমিকা।
    বর্তমান “কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন” নামটাকে আমার খুব তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়। কোয়ান্টাম শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পরিমাণ। কিন্তু একজন পদার্থবিদ হিসেবে ‘কোয়ান্টাম’ শব্দের গুরুত্ব আমার কাছে আরো বেশি। কারণ দৃশ্যজগতে সবকিছু একইরকম হলেও বিজ্ঞানের চোখে ল’জ অব দ্য স্মল আর ডিফারেন্ট ফ্রম দা ল’জ অব দ্য লার্জ। অর্থাৎ বিজ্ঞানে বড় জিনিসের জগৎ আর ছোট জিনিসের জগৎ এক নয়। দৃশ্যজগতে শক্তিকে আমরা দেখি নিরবচ্ছিন্ন হিসেবে। কৌণিক ভরবেগ, এঙ্গুলার মোমেন্টাম- সবকিছুই নিরবচ্ছিন্ন। কিন্তু আমরা যদি ছোট জিনিসের জগতে যাই, তাহলে দেখবো সেখানে পদার্থের অণুরা যে গতি বিনিময় করছে তা নিরবচ্ছিন্ন নয়। থোকায় থোকায়, গুচ্ছে গুচ্ছে হয় এ শক্তি দেয়া-নেয়া। আর এটাই কোয়ান্টাম মেকানিক্স।
    এখন আমরা যদি আমাদের দেহের দিকে তাকাই, আমাদের সমস্ত চেতনার মূল হলো নিউরোন যা অতি সূক্ষ্ম। আর এ নিউরোনগুলো যে প্রক্রিয়ায় কাজ করে তা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আওতায়ই পড়ে। সুতরাং ‘কোয়ান্টাম’ নাম দেয়াটা খুব যথার্থ হয়েছে। কারণ কোয়ান্টাম শেখায় আত্মমগ্নতার মধ্য দিয়ে চেতনার গভীর থেকে একজন মানুষ কীভাবে পাবে তার অশান্তি, অসুস্থতা আর ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার পথ। কোয়ান্টাম শেখায় দেহ-মনের অফুরন্ত শক্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে কীভাবে একজন মানুষ তার কাজে লাগাতে পারে।
    দুঃখক্লিষ্ট মানুষের মনে শান্তির বাণী পৌঁছানো, তাকে আত্মবিশ্বাস যোগানো- এটাই হলো তার সবচেয়ে বড় সেবা। অর্থ দিয়ে এর কোনো পরিমাপ হয় না। গত ১৭ বছর ধরে নিরলস সেবার মধ্য দিয়ে কোয়ান্টাম এখন ৩০০ তম কোর্স সম্পন্ন করেছে। নিঃসন্দেহে এ এক মাইলফলক। কারণ মেডিটেশন কোর্সের মতো একটি বিষয়, যে সম্পর্কে সাধারণ মানুষের তেমন কোনো ধারণা ছিলো না, তার ৩০০ তম কোর্স হওয়াটাই প্রমাণ করে- এ কোর্স মানুষের জীবনে কোথায় স্থান করে নিয়েছে। একজন এসেছে, উপকার পেয়েছে, তার বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়কে বলেছে, নিয়ে এসেছে তাকেও। এভাবেই তো এগিয়েছে কোয়ান্টাম চেতনা।
    মোরাকাবা, তাফাক্কুর, ধ্যান, মেডিটেশন- এটা ইসলামের একটা উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি। যেমন নামাজ। মুসলমানদের দৈনন্দিন এ ফরজ ইবাদতটি আসলে ধ্যান এবং যোগাসনের একটি যুগপৎ উপযোগিতা। আমরা যখন নামাজ পড়ি, দুনিয়ার সমস্ত কোলাহল থেকে দূরে সরে গিয়ে নিবিষ্টচিত্তে স্রষ্টার কাছে আত্মনিবেদন করি। হয়তো স্রষ্টাকে দেখছি না, শুনছি না কিন্তু তিনি আমাকে দেখছেন, আমাকে শুনছেন- এই যে নিবিষ্টচিত্তে কল্পনা, একাগ্রচিত্ততা- এটাই তো ধ্যান।
    একবার হজরত আলী (রা)-র পায়ে তীর বিঁধলো। প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। কয়েকজন সাহাবী তীর খুলতে উদ্যত হলেন। কিন্তু তীরে হাত দিলেই আলী (রা) চিৎকার করে ওঠেন ব্যথায়। রসুল (স) বললেন, আলী যখন নামাজে সেজদায় থাকবে তখন তীরটা খুলে নিও। কারণ নামাজে সে এত নিমগ্ন থাকবে যে, ব্যথা কিছুই টের পাবে না। তা-ই হলো। আলী (রা) নামাজে দাঁড়ালেন। তীর খুলে নিলেন সাহাবীরা। তিনি টেরই পেলেন না।
    মোবাইল ফোনের এ যুগে এক দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের আরেক দেশে সরাসরি কথা বলা, কথা শোনা এখন খুব দৈনন্দিন একটি ব্যাপার। একসময় এটা যতই অকল্পনীয় ব্যাপার হোক না কেন, এখনকার বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ফলে আমরা জানছি যে, কলারের মোবাইল থেকে একটা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনাল ট্রান্সমিট হচ্ছে। সেই সিগনালটা রিসিভড্‌ হচ্ছে রিসিভারের মোবাইলে। আর সেটা সম্ভব হচ্ছে কলার এবং রিসিভারের মধ্যে একটা বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সিতে টিউনিং হচ্ছে বলে।
    একইভাবে বান্দা যদি আল্লাহকে ডাকতে পারে, টিউনিংটা যদি ঠিকভাবে হয়, তখন স্রষ্টার সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপিত হয়ে যায়। এজন্যে ওলি আউলিয়ারা ধ্যানের পরামর্শ দিয়ে গেছেন। নিবিষ্ট চিত্তে যিনি ধ্যান করেন তিনিই বুঝতে পারেন যে, কীভাবে ধ্যান করলে আল্লাহর সঙ্গে তার একটা সংযোগ হবে। এ যোগাযোগ বাইরের মানুষ টের পায় না। সেরকম এই বিশ্বস্রষ্টার সঙ্গে, যিনি আমাদের প্রভু, যিনি আমাদের প্রতিপালক, যিনি আমাদের জীবনের সবকিছুর বিধায়ক- তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পদ্ধতি হচ্ছে ধ্যানের পদ্ধতি।
    নামাজে যোগাসন বা ব্যায়ামের উপযোগিতাও আমরা লাভ করি। আমরা রুকুতে যাই, সেজদায় যাই, মাথা থেকে রক্ত চলাচল হয়। আমরা যখন আঙুলে গুণতে থাকি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ’- তখন আমাদের হাতের আঙুলের যে কতগুলো পয়েন্টের কমেপ্রশন তা রক্ত চলাচলকে স্বাচ্ছন্দ করে। সুতরাং দৈহিক, আত্মিক, মানসিক- সবদিক দিয়ে নামাজ আমাদের উপকার করে। ধ্যান থেকেও আমরা দৈহিক-মানসিক ও আত্মিকভাবে উপকৃত হই।
    বিক্ষিপ্ততা কাজের কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে। অন্যদিকে কনসেনট্রেশন বা সংবদ্ধতা এনার্জি বা শক্তিকে ফোকাসিং করে কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। ধ্যান বা মেডিটেশন এর ফলে অনেক বড় কাজও হয়ে যায় সহজে।

    1. এজন্যে ওলি আউলিয়ারা ধ্যানের পরামর্শ দিয়ে গেছেন।
      এই ধ্যানের পরামর্শ কি আল্লাহর নবী (সাঃ) কখনো দিয়েছেন? কোন সাহাবী কি ধ্যান করতেন? আমাদের মহামতি ইমাম ও মুহাদ্দেছদের মধ্যে কি কেউ এরূপ করতেন?

      1. রসুলুল্লাহ (স) ধ্যান করেছেন। কিন্তু তিনি আমাদের ওপর ধ্যান বা মেডিটেশন চাপিয়ে দেন নি। নবীজী (স) কখনো চান নি, তিনি যত কঠোর সাধনা করেছেন তার অনুসারীদের ওপর তা চাপিয়ে দিতে। অনেক কিছু তিনি নিজে করেছেন কিন্তু আমাদের জন্যে বলেছেন-তোমরা করলেও করতে পারো।
        এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ড. তারিক রামাদান তার বই “The Messenger : The meanings of the life of Muhammad (PBUH)” বলেন যে, “He did not demand of his companions the worship, fasting and meditation that he exacted of himself”. অর্থাৎ তিনি যেভাবে ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন এবং মেডিটেশন করতেন-তিনি তাঁর অনুসারীদের ওপর সে কঠোরতাকে চাপিয়ে দিতে চান নি। তিনি তাঁর অনুগামীদের ব্যাপারে অনেক নরম ছিলেন।

  4. Dear Owner of this web, please don’t delete any comment.give us freedom to post our comment and publish it.

  5. আমি এদের কার্যক্রমের পক্ষে । শুধু মুসলমান দের ই সেবা করা লাগবে এমন কোন কথা আছে । হিন্দু – বৌদ্ধ – খ্রিস্টান এরা কি মানুষ না ? । নাকি ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় – অন্য ধর্মের লোক দের নিচু চোখে দেখতে । শুধু অন্য ধর্মের শিশুদের সাহায্য করছে বলে , আমরা এদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করব ? । আপনাদের মত শাম্প্রদায়িক মানুষদের জন্যই আমাদের আজ মুসলিম বলে পরিচয় দিতে বাঁধে । ইসলাম মোটেও খারাপ না , খারাপ আপনাদের মত মানুষেরা । নামায পরেও বাংলাদেশ এর নামাযিদের যা অবস্থা । তার এক মাত্র শংশধনের উপায় আল্লাহ্‌ এর ধ্যান ও নামায কে এক করে আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা গ্রহন করা । যার ধাপ আপনাকে কোয়ান্টাম শিখাবে । এরা যেই ভাবে শংঘ বদ্ধ ভাবে মানুষের সেবা করে , পারলে এই রকম সেবা করে তারপর বড় বড় কথা বলবেন ।

    1. amar koyta Question er uttor din:
      1.Allah kothay achen??
      2.Muhammad{s} kiser toiri?
      3.Allah’r ki akar ache??
      4.pir oli ra ki bhobissot bolte pare??
      …..চলবে… parle uttor guli din,, pore soThik uttor dea hobe…

    2. আপনার মতো মুস্লিমদের জন্যই আমরা সর্বদা প্রশ্নের সম্মুক্ষিন হইযে, আপনারা এতো গোরা কেনো??///// অথচ আমরা কুরআন ও সহীস সুন্নাহ ব্যতিত কোন ধরনের মানব রচিত বানী প্রচার করি না

  6. Dear Owner of this website,You are very clever and bad aim thats why you are withdraw Reply option of Zulkar Nayeen comment.Please give reply option under the comment of Zulkar Nayeen comment.A branch of Sunni Islamic Scholar will give answer of Zulkar Nayeen Comment.Mr.Zulkar Nayeen GIVE FALSE AND WRONG TRANSLATION AND EXPLANATION OF QURAN AND HADITH AND ZULKAR NAYEEN IS TRYING TO MISGUIDING PEOPLE’S USING FAKE TRANSLATION AND EXPLANATION OF ISLAM.Zulkar Nayeen has bad and dangerous objective in his comment.

    1. আস-সালাম ওয়া আলাইকুম, কসম সেই আল্লাহ’র , যিনি মুহাম্মাদ{স} এর রব ।
      আমি যদি কোন রূপ ভুল কিছু তথ্য দিয়ে থাকি, অবশ্যই কাল কিয়ামাত এ আমাকেও প্রশ্ন করা হবে, সে দিন আপনিও সেখানেই থাকবেন।। কী থাকবেন না???
      ইনশা আল্লাহ শিরকীও বিদাতীদের জায়গা হবে জাহান্নামে, এটা নিশ্চিত।
      আমি নিজে বহুবার আপনাদের ধানমন্ডি শাখায় গিয়েছি ও শুক্রবারের বিকাল বেলার অনুষ্ঠানে গিয়েছি, সেখানে প্রথমে আপনাদের তথাকথিত পীর সাহেবের বানী পাঠ করা হয় ও জাল হাদীসের {যা হাদিস কনিকা নামে পরিচিতো} পাঠ করা হয়।
      sir, আপনার সাথে আমার কোন বেক্তিগত ঝামেলা নেই, আমি যদি আপনাদের একটা একটা করে গোপন রহস্য ফাস করতে থাকি ,তাহলে আপনি তো নিজেকে নিজেই মুখ দেখাতে পারবেন না????
      কী আপনি কি ”প্রো মাস্টার কোর্স ”করেছেন?? যেখানে আল্লাহ’র সাথে নিজেকে ও আপনাদের তথা কথিত মনগুরু{ইবলিশ শয়তান} এর সাথে শিরক ও তার সাথে রকেট দিয়ে বিশ্ব ভ্রমণ করে সকল জ্ঞ্যান আহরনের কাহীনি শিক্ষা দেয়া হয় অন্ধকাররুমে…।
      আপ্নারা কিছু বোকা মানুষ কে আপনাদের দলে আনতে পারবেন,মুসলিম দের নয়,
      অবশ্যই আপনারা মুসলিম নন ,যারা জানার পরেও এই দলের সাথেই আছেন।
      সময় থাকতে আকিদা সহিহ করুণ,কেনো না বেশির ইমানদার গন ইমান আনা সত্বেও মুশ্রিক{সুরা ইউসুফ ১০৬}

    2. আমরা যুলকার নাইন এর সাথে একমত

    3. আসসালাম ওয়া আলাইকুম, আমি যে কতো টা অপপ্রচার চালাচ্ছি ,তা আপনার কথার ভঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে, কোয়ান্টাম ভন্ড ক্লিন শেভড পীর সাহেব গুরুজী শহীদ আল বোখারী যে আপনাদের কোন টাইপের দীক্ষা দিচ্ছেন।
      আচ্ছা আপনি কী ”প্রো-মাস্টার”’?????… এখন কী প্রো মাসড়ার কোর্স এর শিরকী কাহিনী তুলে ধরবো??? যেখানে আপনাদের সাথে একজন গুরু থাকে{আস্লে সেই গুরু হলো ইবলিস}… ও আপনাদের তো সেখানে রাসুলিল্লাহ{স} এর মতো সিনাচাখ এর মনছবি করতে বলা হয়, ও আপনাদের দেহকে তিন বার পরিস্কার করা হয়্‌্‌ হায় আল্লাহ,শেষ পর্যন্ত আপ্নারা তো নিজেদের রাসুল ভাবতে শুরু করেছেন////// এখনি আকিদা ঠিক করেন ও আল্লাহ’র কাছে মাফ চান/
      আমাদের সাথে তর্ক করে দুনিয়াতে বিজয়ী হতে পারলেও আখিরাতে ইনশা আল্লাহ পরাজিত হবেন। মনে রাখবেন কবরে কিন্তু মনগূরু ও মনছবি করতে পারবেন না।
      আপনাদের শ্রদ্ধেও গুরু মাতা নাহার আল বোখারী মাজ়ি{ তথাকথিত পীরজাদি ফুরিদপুরী} যিনি আপনাদের উম্মুল উম্মাহ{আপ্নাদের দলের মা”} , তিনি এতোই কামেল মহিলা যে লিপসস্টিক ,মেকাপ করে আসেন , সামনে বড় বড় কথা বল্লেও , নিজের পারসোনাল রুমে কেউ সমস্যা নিয়ে আসলে তাকে অপমান করে বের করে দেন, ও যিনি তার ”কোয়ান্টাম বেয়াম” নামক বই এ মেয়েদের কড়া সুগন্ধী ব্যবহারের নিয়ম বলেছেন্‌,
      হায় হায় , অথচ রাসুলিল্লাহ{স} মেয়েদের সুগন্ধী ব্যবহারে মানা করেছেন যা পুরুষদের মন আকর্ষন করে।
      আর কতো মানুষের টাকা নিয়ে আপনাদের গুরু শয়তানি করবেন,
      আল্লাহ আপনি ও আপনার দলের মুমিন দের হিদায়াত দান করুক , আমীন
      আপনাদের তথাকথিত মহাগুরু ”শহীদ আল বুখারী ও মাজী নাহার আল বোখারীর ফিতনা হতে মুসলিম উম্মাহ কে হিফাযাত করুক ও তাদের উপর লানত নাযিল করুক,আমীন……।
      যদি এখনো আমার কথায় বিশ্বাস না হয়, তবে ইনশা আল্লাহ, হাশরের দিন আমার ও আপনার বিচারের সময় আল্লাহ’র ফয়সালা দেখে নিবেন , ইনশা আল্লাহ।
      ওয়াকুল জাআ হাক্কা ওয়া যাহাকাল বাতিল, ইন্না বাতিলা কানা যাহুকা।
      অবশ্যই সত্য এসেছে ও মিথা ধ্বংস হয়েছে ও মিথ্যার তো ধ্বংস অনিবার্জ ছিলোই

  7. মুহাম্মাদ (সঃ) এর শময় তো মায়িকে আজান দেওয়া হত না। এখন হয়। তাহলে কি এটা বিদআত হবে। কখনওই না। এটা নির্ভর করে নিয়েত এর উপর। নামাজেও মাইক্রোফোন ব্যবহার করা হচ্ছে। আর ধ্যান সে তো আমাদের নবী (সঃ) নিজে করতেন। আপনে মনে কি রাখছেন এটা হচ্ছে আসল বিষয়। আর এক জন মুসলিম কে এসব বলে গালি দিলে মনে হয় আপনার জন্য বেহেস্ত ফরজ হয়ে যাবে, না !!!!!!!!!!!!!!!!
    আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষের ভুল খুঁজে বেড়ান। নিজের টা দেখতে খারাপ লাগে, তাই না!!!! অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্কর। মনে রাখবেন জ্বর হলে নাপা হিন্দু, মুসলমান সবাই খায়। এখন বলেন এটা বিদআত।

    1. ভাই আমি যা বলতে চেয়েছিলাম তার কিছুটা বলে দিয়েছেন। আপনাকে ধন্যবাদ। আরো কিছু বলার ছিল, কিন্তু বলব না। যথেষ্ট। তবে আমিও কোয়ান্টাম মেথড পছন্দ করি না। তবে কারণ আলাদা।

  8. কোয়ান্টাম থেকে শির্‌ক কিভাবে করতে হয়, তা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম। আর তা বুঝতে পারার সাথে সাথেই ত্যাগ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ্‌।
    প্রো-মাস্টার কোর্স যারা করেছেন, তারা যদি অন্ধ না হয়ে থাকেন তাহলে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেন। কোর্সের সময় আসরের নামাজ সময়মত পড়তে দেয়া হয় নি; যে কোর্সে গিয়ে ফরজ ইবাদত করার সুযোগ থাকে না- সে কোর্স দিয়ে যে কোন লাভ হবে তা বিশ্বাস করি না।

  9. ….. আপনারা কোয়ান্টামের কোর্সটি করে তারপর কথা বলুন। উপরের ‘অভিনব প্রতারণা; ‘অন্তর্গুরুর ইবাদতে লিপ্ত করার’ ‘টাকা’ ইত্যাদি প্রবন্ধের অসংখ্য বিষয়ই আপনার মনগড়া। আমি নিজে কোয়ান্টামের কোর্স করেছি। কোয়ান্টামের ব্যাখ্যা বুঝুন তারপর আপনার যুক্তি প্রয়োগ করুন। একলোক হেঁটে গেলো আর আপনি যা মনে করলেন তাই লিখে দিলেন তা ঠিক নয়।….. প্রসঙ্গত যে, খ্রিস্টান মিশনারীর আধ্যাত্মিক ধর্মযাজকরা স্কুল-কলেজ দিয়ে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে পড়ানোর ছলে কীকরে তা কখনো খতিয়ে দেখেছেন? ওটা কিন্তু দেখবেন না কিংবা বলবেন না। কী ধরনের প্রতিনিধি তারা বানায় সেটা দেখুন। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি খ্রিস্টান মিশনারীর আধ্যাত্মিক ধর্মযাজকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি এ দেশে না থাকতো তাহলে দেশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সংঘাত, দরিদ্রতা, ইসলাম ধর্মের এমন করুন অবস্থা কখনোই থাকতো না। ওটা কিন্তু বুঝবেন না। লেগে থাকবেন ভালোকে নষ্ট করার। …… আমি একজন কোয়ান্টাম গ্রাজ্যুয়েট। আমি গুরুজী শহীদ আল বোখারী মহাজাতককে শ্রদ্ধা করি। আমি মনে করি গুরুজী শহীদ আল বোখারী মহাজাতক এদেশের জন্য আল্লাহর রহমত। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আপনার লেখাটির প্রতিবাদ করছি….

    1. মন নিয়ন্ত্রন করে শারীরিক সুস্থতা, মানসিক শান্তি অর্জন যদি সম্ভব হয় তবে তাকে আমরা খারাপ কিছু বলি না। কিন্তু এটাকে যখন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ইসলামের রঙ্গ লাগাতে যাবেন তখন কিন্তু নিশ্চয় বিপত্তি ঘটবে। আপনি যদি কোয়ান্টাম মেথড কোর্সর উচ্চ লেভেল শেষ করে থাকেন তবে টাইম মেশিনে চড়ে মদীনা যিয়ারতে যেতে পেরেছিলেন?

Leave a Reply