মাহে রামাজানের বিশটি স্পেশাল আমল


ডাউনলোড করুন (পিডিএফ)

ভূমিকা: বছর ঘুরে আবারো রামাজান আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রামাজানের রোযা ফরজ হওয়ায় আল্লাহর রাসুল ও তার সাহাবীদের জীবনে আমাদের মতো এত বেশি রমজানের রোযা ও ইবাদতের সুযোগ আসে নি। কিন্তু যে কয়টি রমজান তাঁরা পেয়েছেন, সেগুলোর সদ্ব্যবহার করে তারা সফলকাম হয়েছেন। তাদের মতো সফলতা পেতে এবং রমজান ও সিয়াম সাধনাকে সার্থক করতে হলে পরিকল্পিত প্রয়াস চালাতে হবে।
ঈমানদারেরও আমল ও ইবাদতের মৌসুম হলো মাহে রমজানুল মুবারক। অন্য সময়ের ইবাদতের ঘাটতি পুশিয়ে নেওয়ার সর্বোত্তম সময় এটি। আর সেজন্য এই মাসে অন্য সাধারণ আমলের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রমজানের বিশেষ আমল বা কর্মসূচীগুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে।

নিন্মে প্রতিটি কর্মসূচির সূত্র ও হাদীসের ভাষ্য উল্লেখ করা হল:
১/তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখবে চাঁদ দেখে ঈদ করবে। -বুখারী ও মুসলিম
২/তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রমজান মাস পাবে, সে যেন রোযা রাখে। -সুরা বাক্কারা১৮৫
৩/যে ব্যক্তি রমজান মাসে রাতে জেগে নামায আদায় করবে আল্লাহ তার পিছনের গুনাহ মাফ করে দিবেন। -বোখারী ও মুসলিম
৪/মানুষ কল্যাণের মধ্যে থাকবে যাবত বিলম্ব না করে ইফতার করবে এবং শেষ সময়ে সাহরী খাবে। -বোখারী ও মুসলিম।
৫/মানুষ কল্যাণের মধ্যে থাকবে যাবত বিলম্ব না করে ইফতার করবে এবং শেষ সময়ে সাহরী খাবে। -বোখারী ও মুসলিম
৬/তিন ব্যক্তির দু’আ ফিরিয়ে দেওয়া হয়না।….রোযাদার ব্যক্তি-ইফতারের আগ পর্যন্ত।-তিরমিযি আহমদ ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বান।
৭/যে ব্যক্তি (রোযা রেখে) মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করলো না, তার উপবাস থাকায় আল্লাহর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। -আহমদ আবু দাউদ তিরমিযি।
৮/কেউ তাকে (রোযাদারকে) গালি দিলে বা ঝগড়া করলে সে যেন বলে আমি রোযাদার।-বোখারী ও মুসলিম।
৯/যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, তাকে রোযাদারের সম পরিমাণ ছওয়াব দেওয়া হবে। তবে রোযাদারের ছওয়াবে কোন কর্তন করা হবে না।-তিরমিযি
১০/রমজানের প্রতি রাতে জিবরীল আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাত করতেন এবং তাকে কুরআনের দারস দিতেন।-আহমদ, বোখারী।
১১/সকলের মধ্যে আল্লাহর রাসুল ছিলেন সবচেয়ে দানশীল আর তিনি রমজানে অধিক দানশীল হতেন যখন তার কাছে জিবরীল আগমন করতেন।-বোখারী ও মুসলিম।
১২/আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রোযা রেখে মিসওয়াক করতে দেখেছি। তার সংখ্যা গুনে আমি শেষ করতে পারবো না। -বোখারী
১৩/রমজান মাসে উমরা করা হজ্জের সমতুল্য।–বোখারী ও মুসলিম। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে আমার সাথে হজ্জের সমতুল্য।
১৪/আল্লাহর রাসুল (রমজানের) শেষ দশকে (ইবাদতে) যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন অন্য কোন সময় তা করতেন না। শেষ দশক এলে তিনি কমর বেঁধে নিতেন, রাত জাগতেন এবং পরিবারের লোকদের জাগিয়ে দিতেন।–মুসলিম
১৫/আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ই’তিকাফ করতেন। -বোখারী ও মুসলিম।
১৬/তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত সমূহে শবে কদর অন্বেষণ করো।–বোখারী।
১৭/আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিতর ধার্য করেছেন রোযাদারের অনর্থকতা ও পাপাচার থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিন ব্যক্তিদের খাদ্য হিসেবে। যে ব্যক্তি তা ঈদের নামাযের পূর্বে আদায় করবে তা গ্রহণযোগ্য এবং যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পরে আদায় করবে তা সাধারণ সাদকা বলে গণ্য হবে।– আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ।
১৮/আর (এই মাসে) অনেক লোককে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নাম হতে মুক্ত করেন। আর তা প্রতি রাতে।–সহীহ ইবনে খুযাইমাহ আহমদ ও ইবনে মাজাহ। অন্য হাদীসে এসেছে-আল্লাহর রাসুল বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ তার গুনাহ মাপ হয়নি, অত:পর জাহান্নামে প্রবেশ করলো…। ইবনে হিব্বান ইবনে খুজাইমাহ বাইহাকী ও সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব।
১৯/রমজানের প্রথম রাতে একজন ঘোষক ঘোষণা দেয়, হে সৎ কর্মেচ্ছুক, অগ্রসর হও, হে মন্দ কর্মেচ্ছুক, বিরত থাক। -তিরমিযি ইবনে মাজাহ।
২০/তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। -বাকারা ১৮৩

লেখক: শাইখ আহমাদুল্লাহ, দাঈ, পশ্চিম দাম্মাম, ইসলামিক সেন্টার সৌদী আরব।

সম্পাদনায়: শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী, দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদী আরব।

This Post Has 8 Comments

  1. অসাধারণ একটি পোস্ট। সবগুলো আমল একনজরে সংক্ষিপ্ত সুত্রসহ খুবই কম দেখেছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  2. ভাল লাগলো।

  3. অসাধারণ একটি লেখা। আল্লাহ এটাকে উপকারী করুন। একসাথে সব আমলগুলো কোথাও দলীলসহ দেখিনি। অনেক ধন্যবাদ।

  4. আসসালামু আলাইকুম। শ্রদ্ধেয় শাইখ!
    আপনার সমৃদ্ধ সাইটটি দেখে অভিভুত। আল্লাহ আপনাকে আরো অনেকদূর অগ্রসর করুন। লেখাটি শেয়অর করার জন্য ধন্যবাদ। দেশেও কয়েকটি ম্যগাজিন ও দৈনিকে প্রিন্টের চিন্তা চলছে। তবে আপনি সবার অগ্রগামী! নিচে লেখাটির একটি ভুমিকাও দিয়ে দিলাম।
    দুআ করি আল্লাহ আপনার কল্যান অবধারিত রাখুন।

    “বছর ঘুরে আবারো রজমান আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। নবীজির হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রমজানের রোযা ফরজ হওয়ায় আল্লাহর রাসুল ও তার সাহাবীদের জীবনে আমাদের মতো এতবেশি রমজানের রোযা ও ইবাদতের সুযেগ আসেনি। কিন্তু যে কয়টি রমজান তারা পেয়েছেন, সেগুলোর সদ্ববহার করে তারা সফলকাম হয়েছেন। তাদের মতো সফলতা পেতে এবং রমজান ও সিয়াম সাধনাকে সার্থক করতে হলে পরিকল্পিত প্রয়াস চালাতে হবে।
    ঈমানদারেরও আমল ও ইবাদতের মৌসুম হলো মাহে রমজানুল মুবারক। অন্য সময়ের ইবাদতের ঘাটতি পুশিয়ে নেওয়ার সর্বোত্তম সময় এটি। আর সেজন্য এই মাসে অন্য সাধারণ আমলের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রমজানের বিশেষ আমল বা কর্মসূচিগুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে।

    একনজরে মাহে রমজানের ২০টি বিশেষ আমল
    ১-শা’বানের শেষ দিনে রমজানের চাঁদ দেখা। ২-দিনে রোযা রাখা। ৩-রাতে তারাবীর নামায পড়া। ৪-শেষ সময়ে সাহরী খাওয়া। ৫-বিলম্ব না করে সুর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা। ৬-ইফতারের আগে ও দিনভর দু’আ করা। ৭-কথা ও কাজে মিথ্যাচার এবং মুর্খতা বর্জন করা। ৮-বিবাদ-বিতন্ডা এড়িয়ে চলা। ৯-রোযাদারকে সাধ্যমতো ইফতার করানো। ১০-কুরআন তিলাওয়াত, মর্মচর্চা ও শিক্ষা করা। ১১-অধিকহারে দান সাদকা করা। ১২-মিসওয়াক করা। ১৩-সামর্থ থাকলে উমরা করা। ১৪-শেষ দশকে ইবাদতের জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করা। ১৫-শেষ দশকে মসজিদে ই’তিকাফ করা। ১৬-শেষ দশকের বেজোড় রাত সমুহে শবে কদর প্রাপ্তির জন্য ইবাদত করা। ১৭-সাদকাতুল ফিতর আদায় করা। ১৮-ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দু’আ করা। ১৯- সাধারণ নেক আমল অধিক হারে সুন্দরভাবে সম্পাদন করা। ২০-পাপাচার পরিত্যগ বা তাক্বওয়ার অনুশীলন করা।

    1. ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
      অসংখ্য ধন্যবাদ মুহতারাম শাইখকে মূল্যবান উপহার লেখা দেয়ার জন্য। আগামীতে আরও সুন্দর লেখা পাব বলে আশা করছি। জাযকাল্লাহু খাইরান।
      আর হ্যাঁ। আপনার ভূমিকাটি মূল লেখায় সংযোজন করে দিলাম।

  5. i like it

  6. আসসালামু আলাইকুম। রমজানের বিশেষ আমলগুলো প্রকাশ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ফী-আমানিল্লাহ।

  7. at first take my heartiest congratuilation on your briliant post for us to know manythings about ramadan. I hope this post will be milestone for the all muslimin. jajakallaho khairan.

Leave a Reply