জাল ও য’ঈফ হাদীসঃ ১১–১৫

জাল ও য’ঈফ হাদীসঃ ১১–১৫

 


১১) “যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকে’য়াহ পাঠ করবে, তাকে কখনও অভাব (ক্ষুধা) গ্রাস করবে না।”

হাদীসটি দুর্বল।

সূত্রঃ হাদীসটি হারিস ইবনু আবী উসামা তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (১৭৮), ইবনুস সুন্নী “আমালুল ইয়াউম ওয়াল লাইলাহ” গ্রন্থে (৬৭৪), ইবনু লাল তার “হাদীস” গ্রন্থে (১/১১৬), ইবনু বিশরান “আল- আমালী” গ্রন্থে  (২০/৩৮/১)  বর্ণনা করেছেন আবূ শুযা’ সূত্রে আবূ তায়বাহ হতে।

 দুর্বল বলেছেনঃ ইমাম আহমাদ (রহঃ), আবূ হাতিম (রহঃ), ইবনু আবী হাতিম (রহঃ), দারা কুতুনী (রহঃ), ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ)।

  •  ইমাম মানাবী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসটি মুনকার। (আত্‌- তায়সীর)
  •  হাদীসটির রাবীদের সম্পর্কে ইমাম যাহাবী (রহঃ) বলেনঃ আবূ শুযাকে চেনা যায় না এবং আবূ তায়বাহ মাজহূল।
  •  ইমাম যায়লাঈ ( রহঃ ) হাদীসটি দোষণীয় হওয়ার কারণ উল্লেখ করেছেনঃ-
  1. এটির সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে ।
  2. হাদীসটির মতনে (ভাষায়) দুর্বোধ্যতা রয়েছে।
  3.  হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ দুর্বল।
  4.  এছাড়া ইযতিরাব রয়েছে।

 ১২) “যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকেয়াহ পাঠ করবে; তাকে কখনও অভাব গ্রাস করবে না। যে ব্যক্তি প্রতি রাতে লা-উকসিমু বি-ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ পাঠ করবে; সে কিয়ামত দিবসে আল্লাহর সাথে এমতাবস্থায় মিলিত হবে যে, তার চেহারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল থাকবে।”

                    হাদীসটি জাল।

 সূত্রঃ এটি দায়লামী, আহমাদ ইবনু উমার ইয়ামানী সূত্রে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন।

 হাদীসটি ইমাম সুয়ূতী (রহঃ) “যায়লুল আহাদীসুল মাওযূ’আহ” গ্রন্থে (১৭৭)  উল্লেখ করে বলেছেনঃ বর্ণনাকারী আহমাদ ইয়ামানী মিথ্যুক।

 ১৩) “আমি সে সময়েও নবী ছিলাম যখন আদম পানি এবং মাটির মাঝে ছিলেন।”

 নিম্নের হাদীসটিও এটির ন্যায়ঃ–  “যখন আদম ছিলেন না, পানি ও মাটি ছিল না তখনও আমি নবী ছিলাম।”

                     হাদীস দু’ টি জাল।

 জাল বলেছেনঃ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ  (রহঃ) এবং ইমাম সুয়ূতী (রহঃ) সহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সকল মুহাদ্দীস।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ  (রহঃ)  “বাকরীর প্রতিবাদ”   গ্রন্থের মধ্যে (পৃষ্ঠাঃ ৯)  বলেছেনঃ “কুর’আন ও হাদীসের মধ্যে এমন কি সুস্থ বিবেকেও এটির কোন ভিত্তি নেই। কোন মুহাদ্দিসই এটি উল্লেখ করেননি। এটির অর্থও বাতিল। কারণ আদম ( আলাইহিস সালাম )  কখনও পানি এবং মাটির মাঝে ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন দেহ এবং রূহ এর মাঝে।”

১৪)  “চীন দেশে গিয়ে হলেও তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ কর।”

                হাদীসটি বাতিল।

সূত্রঃ এটি যেসব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছেঃ “আখবারূ আসহাবান” (২/১০৬); “ আল-ফাওয়াইদ” (২/২৪১) ; “আল-আরবা’য়ীন” (২/১৫১) ; “আত্‌-তারিখ” (৯/৩৬৪) ; “কিতাবুল রেহালা” (১/২); “আল-মাদখাল” (২৪১/৩২৪) ; “আল-মুনতাকা” (১/২৮)। উপরের প্রত্যেকটি গ্রন্থে জাল হাদীসটি হাসান ইবনু আতিয়া সূত্রে  “আবূ আতিকা”  হতে বর্ণিত হয়েছে।

  • হাদীসটির বর্ণনাকারী “আবূ আতিকা” সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেনঃ তিনি মুনকারূল হাদীস।
  •  ইমাম নাসাঈ (রহঃ)  বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।
  • ইমাম উকায়লী (রহঃ)  বলেনঃ তিনি নিতান্তই দুর্বল।
  • ইমাম আবূ হাতিম (রহঃ) বলেনঃ তিনি যাহেবুল হাদীস।
  • ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ) ও ইমাম ইবনু হিব্বান ( রহঃ ) বলেনঃ হাদীসটি বাতিল।
  • ইমাম সুলায়মানী (রহঃ)  “আবূ আতিকাকে”  হাদীস জালকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
  • ইমাম সাখাবী (রহঃ) তার “মাকাসীদুল হাসানা” গ্রন্থে উপরোক্ত মত সমর্থন করেন।
  • ইমাম আহমাদ (রহঃ) এ হাদীসটিকে কঠোর ভাষায় ইনকার করেছেন।
  •  ইমাম সুয়ূতী (রহঃ)  “আল-লায়ালী ”  (১/১৯৩ ) গ্রন্থে বলেনঃ

হাদীসটির আরো দু’টি সূত্র রয়েছেঃ—

  ১) একটির সনদে রয়েছেন ইয়াকূব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আসকালনী।

           এ ইয়াকূব সম্পর্কে ইমাম যাহাবী (রহঃ) বলেনঃ সে মিথ্যুক।

 ২) দ্বিতীয়টির সনদে রয়েছেন আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ যুওয়াইবারী।

         যুওয়াইবারী হাদীস জালকারী।

১৫) “যে ব্যক্তি মাগরিবের পরে কথা বলার পূর্বেই ছয় রাকায়াত সালাত আদায় করবে; তা দ্বারা তার ৫০ বছরের গুণাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

                    হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

 সূত্রঃ এটি ইবনু নাসর “কিয়ামুল্লাহ” গ্রন্থে (পৃঃ ৩৩) মুহাম্মদ ইবনু গাযওয়ান দামেস্কীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

 হাদীসটি ইমাম ইবনু আবী হাতিম (রহঃ)  তার “আল-ইলাল”  গ্রন্থে এ সূত্রেই (১/১৭৮) উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেনঃ—

          ইমাম আবূ যুর’য়াহ (রহঃ) বলেনঃ তোমরা এ হাদীসটিকে পরিহার কর। কারণ এটি বানোয়াট হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মুহাম্মদ ইবনু গাযওয়ান দামেস্কী মুনকারুল হাদীস।

চলবে ইনশাআল্লাহ….।

 জাল ও য’ঈফ হাদীসঃ ১–১০ 

 

This Post Has 8 Comments

  1. A‡bK A‡bK ab¨ev` †jLK‡K, †h Avgv‡`i A‡bK ARvbv‡K Rvbvi Rb¨ mvnvh¨ K‡i‡Qb Ges A‡bK wg_¨v‡K mZ¨ e‡j RvbZvg Zv `~i K‡i †`Iqvi Rb¨| AveviI ab¨ev`|

  2. Please give this file PDF version, thanks May ALLHA bless you……

  3. shaikh assalamualaikum.amader deshe ekjon pir bollen Nabi(sm) er payer dhulir morjada Allah’r arosher cheye beshi.eta kivabe somvob.e bepare hukum ki.r jara eta biswas korbe tader pichone ki namaj aday kora jabe???doya kore taratari ans.diben?

  4. শাইখ,আসসালামুয়ালাইকুম,এক পীর বলল,আল্লাহর আরশের চেয়ে নবী(সা)এর পায়র ধুলোর মর্যাদা বেশী।এক ইমাম বলল আলেম রা নাকি এ ব্যাপারে একমত।এ ব্যাপারে বিধান কি?তাদের পিছনে নামায আদায় করা যাবে কি??জানিয়ে বাধিত করবেন।

    1. আরশ বা নবীর ফজিলত নিয়ে তর্ক নেই যেমন নেই মা-বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্কের। কাউকে নিচু বানানো ছেলেমানুষি কাজ। এগুলো থেকে বিরত থাকা উচিতে। আরশ আর নবীর পায়ের ধুলা নিয়ে এত চিন্তা কেন? আর কোন কাজ নাই? হাদীসে আছে অলস মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা। আর অলস মস্তিস্ক দিয়ে এই সব উল্টা পাল্টা চিন্তাধারা সৃষ্টি হয়। আপনি তাকে জিজ্ঞেস করেন যে, প্রস্রাব বেশি নাপাক না পায়খানা বেশি নাপাক? তাছাড়া ইহুদী-খৃষ্টানরা বিভিন্ন মুসলিম দেশে তাদের গোয়েন্দা মাধ্যমে মুসলিম নামের ভন্ড আলেম তথা জালিম ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন উদ্ভট মন্তব্য দিয়ে, তাদের কথায় কান না দেয়াই ভালো।

  5. “যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকে’য়াহ পাঠ করবে, তাকে কখনও অভাব (ক্ষুধা) গ্রাস করবে না।” এই হাদিসটি দূর্বল তাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। খোদাহাফেজ।

  6. হাদি ভাই
    আসসালামু ওয়ালাইকুম

    আমার একটা বিষয়ে স্পষ্ট দলিল দরকার যদি একটু সাহায্য করেন তাহলে উপকার হয়, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন ইনশাল্লাহ।

    বাংলাদেশে আমাদের মহল্লার মসজিদে কিছু মানুষ তিন তলায় ওযুখানাও সহ একটা প্রশাবখানা, পায়খানা এবং গোসলখানা বানাতে চাচ্ছে। এগুলো স্থাপন করার জন্য স্থান হিসাবে মসজিদের বারান্দা ব্যবহার করতে চাচ্ছে।

    আমার কাছে জানতে চাইলে আমি সময় নিলাম এবং নিজে যতটুকু জানি তাই দিয়ে দলিল খুজতে থাকলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোন দলিল পাইনি যা দিয়ে বলতে পারি হা স্থাপন করা যায় কিংবা না এগুলো মসজিদের তিন তলার বারান্দায় করা যাবে না।

    নিজের চিন্তা থেকে যুক্তি দিয়ে বলেছি যে ওযুখানা করা গেলেও প্রশাবখানা, পায়খানা এবং গোসলখানা করা যাবে না। কিন্তু নিজের উপর ভরসা করতে পারছিনা দলিল না থাকার কারনে।

    আপনার কাছে অনুরোধ আপনি যদি এ বিষয়ে দলিলের ব্যবস্থা করতেন তাহলে খুব উপকার হতো, কারন একবার যদি প্রশাবখানা, পায়খানা এবং গোসলখানা করে ফেলে তাহলে সেটা ভাঙ্গা অনেক কষ্ট।

    আমার ইমেল [email protected]

    আপনার উত্তরের অপেক্ষায়
    আরেফিন
    টোকিও
    জাপান

Leave a Reply