‘যিকিরের তাৎপর্য ও ফযীলত’ বইটি ডাউনলোড করুন অথবা অনলাইনে পড়ুন।

যিকিরের তাৎপর্য ও ফযীলত 

সংকলনে: আব্দুল্লাহ আল বাকী

 ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টার

 আল বুসর, বুরাইদাহ, আল কাসীম। সৌদী আরব। 

 বইটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। (মাত্র ৮৪০ কিলোবাইট)

ভূমিকা:

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে অসংখ্য শারীরিক  তথা  বাহ্যিক ইবাদত রয়েছে যে গুলো দ্বারা কেবল আল্লাহর যিকর করাই উদ্দেশ্য। বরং সকল মুমিনের জেনে রাখা উচিৎ যে আল্লাহর যিকর প্রতিষ্ঠা করার নিমিত্ত ঐ সব ইবাদতের প্রবর্তন ঘটেছে। তাহলে যিকরই কি সবচেয়ে বড় ইবাদত? পবিত্র কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ কি বলে? চার তরীকার বাইরেও কি আরও কোন যিকর আছে? কোথায়, কখন এবং কোন তরীকায় যিকর করতে হবে? বিশ্বময় মুসলিম সমাজে ইসলামের যত গুলো ইবাদত আজ অবহেলার শিকার হয়েছে, তারমধ্যে শীর্ষে রয়েছে যিকর। কিন্তু কেন?…..এসব প্রশ্নের তাত্ত্বিক সমাধান নিয়ে বক্ষ্যমাণ পুস্তিকা। আল্লাহ তায়ালা আমার আপনার সকলের পরকালিন নাজাতের সহায়ক করুন এই লিখনি!  বিনীত লেখক।          

আনন্দঘন মুহূর্তে প্রিয়তমের স্মরণ:

ঈদের অপর নাম আনন্দ। এমন কোন জাতী নেই যাদের আনন্দের বিশেষ দিন নেই। মুসলিম জাতীর নির্মল আনন্দের উপলক্ষ হল দুই ঈদ। ধনী-গরীব, ছোট-বড় সকলেই ঈদে যেন আনন্দে অবগাহন করে। কিন্তু রকমারি খাবার আর রকমারি পোশাকের সাথে ইদানীং বাজারী নারীদের সুরেলা কণ্ঠ আর বাদ্য যন্ত্র, কুরুচিপূর্ণ সিডি ইত্যাদি ছাড়া যেন ঈদের আনন্দই জমে না। এই আনন্দময় দিবস গুলোতে তরুণ-তরুণীরা যেভাবে একাকার হয়ে যায় তা দেখে মনে হয় লজ্জায় শয়তান দূরে বসে কাঁদে আর আফসোস করে বলে: এতো জঘন্য শয়তানী মানুষ করুক তা আমিও চাইনি। এ ভাবে ঈদের আনন্দ  ক্রমেই দুষিত হয়ে চলেছে।

অথচ অনাবিল আনন্দের এই দিন গুলোতে পবিত্র বিনোদনের পাশাপাশি প্রিয়তম মাবুদকে নিবিড় ভাবে স্মরণ করার কথা ছিল। কিন্তু তা জাতী আজ বেমালুম ভুলে গেছে। ঐ শুনুন আইয়ামে তাশরীক বা ঈদ  এবং বড় ঈদের পর তিন দিন সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কি  বলেছেন! তিনি বলেছেন: “তোমরা জেনে রাখ এই দিন গুলো (মজার মজার) খানা খাওয়া, (মজার মজার) পান করা আর মহান আল্লাহকে স্মরণ করার বিশেষ দিন।” (মুসলিম, মিশকাত হা: নং ২০৫০)

অন্য এক স্থানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে, যেই ত্বাওয়াফ কি না হজ্জের একটি অন্যতম রোকন- সেই ত্বাওয়াফ  দ্বারাও কেবল আল্লাহর যিকর ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য নয়। সফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা এমন কি জামারায় পাথর মারার দ্বারাও আল্লাহর যিকর করাই উদ্দেশ্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ভাষায়: “বাইতুল্লায় ত্বাওয়াফ, সাফা-মারওয়ায় সাঈ এবং জামরায় পাথর নিক্ষেপের বিধান কেবল মাত্র আল্লাহর যিকর বাস্তবায়ন করার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে।”

সুতরাং দেখা যায় ঈদে এবং হজ্জের শুরুতে, মাঝে, এবং শেষে সর্বদাই আল্লাহর যিকর রয়েছে। যেমন-ইহরাম বাঁধার পর তালবিয়া পাঠ, ত্বাওয়াফের মধ্যে বিভিন্ন দোয়া, হাজারে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানীর কাছে যিকরে ইলাহী, সাফা-মারওয়াতে উঠে আল্লাহর যিকর, সেখানে দাঁড়িয়ে কেবলা মুখী হয়ে আল্লাহর যিকর, আরাফায় অবস্থান কালে আল্লাহর যিকর, আরাফা হতে ফেরার পথে, মুযদালাফায় রাত্রি যাপন, মুযদালিফা হতে ফেরার সময় ফজরের পর, মিনায় এবং সর্বত্রই মহান আল্লাহর যিকর বিদ্যমান।

পরবর্তী পৃষ্ঠায় যেতে নিচের পৃষ্ঠা নং ক্লিক করুন

Leave a Reply