৮ বোর্ডে প্রথম স্খান অধিকারীর ৭টিতেই সহশিক্ষাবিহীন স্কুলের ঈর্ষণীয় সাফল্য

বর্তমানে আমাদের দেশে ছেলে ও মেয়ে আলাদা­ এমন স্কুলগুলো সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ঈর্ষণীয় ভালো ফলাফল করেছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথম স্খান অধিকারী আটটি স্কুলের মধ্যে একটি মাত্র স্কুল, যেখানে সহশিক্ষার ব্যবস্খা রয়েছে। সেটি হলো ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্খান অধিকারী রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বাকি সাত বোর্ডে প্রথম স্খান অধিকারী সাতটি স্কুলই সহশিক্ষাবিহীন।
সাতটি শিক্ষা বোর্ডে প্রথম স্খান অধিকার সহশিক্ষাবিহীন এ স্কুলগুলো হলো­ কুমিল্লা বার্ডে কুমিল্লা জিলা স্কুল, যশোর বোর্ডে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, রাজশাহী বোর্ডে পাবনা ক্যাডেট কলেজ, সিলেট বোর্ডে সিলেট ক্যাডেট কলেজ, বরিশাল বোর্ডে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং দিনাজপুর বোর্ডে রংপুর ক্যাডেট কলেজ।
বিভিন্ন বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় যেসব স্কুলের নাম রয়েছে তার মধ্যে ৮০ ভাগেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহশিক্ষাবিহীন।
ঢাকা বোর্ডে সেরা ২০টি স্কুলের মধ্যে দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে যেখানে সহশিক্ষা ব্যবস্খা রয়েছে। রাজউক উত্তরা স্কুল ছাড়া অন্য স্কুলটি এস ও এস হারম্যান জি মাইনার স্কুল।
ঢাকা বোর্ডে সহশিক্ষাবিহীন অপর সেরা স্কুলগুলো হলো দ্বিতীয় স্খান অধিকারী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তৃতীয় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল। চতুর্থ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ। পঞ্চম বিন্দুবাসিনী গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল টাঙ্গাইল, ষষ্ঠ সেন্ট জোসেফ হাইস্কুল ঢাকা, সপ্তম মনিপুর হাইস্কুল ঢাকা, অষ্টম ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, নবম মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল ঢাকা, দশম মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, ১২তম ওয়াই ডব্লিউ সিএ হায়ার সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল ধানমন্ডি, ১৩তম হলি ক্রস গার্লস হাইস্কুল ঢাকা, ১৪তম গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল ঢাকা, ১৫ তম ফয়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউট সবুজবাগ ঢাকা, ১৬তম শহীদ বীরউত্তম আনোয়ারা গার্লস কলেজ ঢাকা, ১৭ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ১৮তম ময়মনসিং জিলা স্কুল, ১৯তম ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুল এবং ২০তম স্খানে রয়েছে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুল ঢাকা।
প্রতি বছরই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় দেখা যায় সহশিক্ষাবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর একক প্রাধান্য। ২০০৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশে সেরা ৮২টি স্কুলের মধ্যে মাত্র ১৮টি স্কুলে সহশিক্ষাব্যবস্খা রয়েছে।
বাকি ৬৪টি স্কুল সহশিক্ষাবিহীন। ২০০৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও সারা দেশের সেরা ২০০টি স্কুলের মধ্যে সহশিক্ষাবিহীন ছিল ১৬১টি এবং মাত্র ৩৯টি সহশিক্ষাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
২০০৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, দেশের সেরা তিনটি কলেজের তিনটিই সহশিক্ষাবিহীন। এগুলো হলো নটর ডেম কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০০৭ সালের পরীক্ষায়ও সেরা পাঁচটি কলেজের পাঁচটিই ছিল সহশিক্ষাবিহীন। এগুলো হলো নটর ডেম, ভিকারুননিসা, সিটি কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল এবং হলি ক্রস কলেজ।
সূত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত ১৪-০৫-২০১১
উপরোক্ত পরিসংখ্যান থেকে আমাদের শিক্ষা উন্নয়নের জন্য ভাববার কি সময় আসেনি? সহ শিক্ষার ফলে লেখা-পড়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে না অধ:পতন ঘটছে? তা ছাড়া এ কারণে আমাদের স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের উপর কি প্রভাব ফেলেছে তা তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা সম্পূর্ণরূপে হারাম। মেয়েদের উপর হিজাব পরা আবশ্যক। কিন্তু আমাদের স্কুল গুলোতে হিজাবের ব্যবস্থা তো নেই বরং মেয়েদের এমন স্কুল ড্রেস পরানো হয় যা দেখে উঠতি বয়সের যুবকেরা বিপথে ধাবিত হচেছ। বাড়ছে ইভটিজিং। সৃষ্টি হচ্ছে নারী নির্যাতন সহ অনেক সমস্যা। তারপরও কি আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র সহশিক্ষাকে অব্যাহত রাখবে? আইন করবে পর্দার বিরুদ্ধে? সুতরাং আমাদের উন্নত শিক্ষা বিকাশের স্বার্থে, উন্নত চরিত্রবান আগামীর নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে, সর্বপরি খাঁটি মুসলিম হিসেবে জীবন যাবনের প্রয়োজনে আসুন আমরা সহশিক্ষাকে ‘না’ বলি।

This Post Has 4 Comments

  1. Islam ak ti santir darmo. We should to maintain the rules of Islam.This is my father’s email adreess but now I am post This comment .

    1. ইসলাম নি:সন্দেহে শান্তির ধর্ম এবং মানব জাতির সবচেয়ে সুন্দর চলার পথ। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে ইসলামিক আদর্শগুলো মেনে চলার পাশাপাশি তা অন্য মানুষের নিকট পৌছানোর তাওফীক দান করেন।
      সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  2. জামায়াত ই ইসলাম রাস্ট্র খমতায় থেকেও এ ব্যাপারে কোন কথা বলে নাই।
    আমার দুখখ এখানেই। এ জন্য অনেক মানুস ইস্লামকে মনে প্রানে মানতে চায় না।
    নারী নেত্রিত্ত হারাম হলেও জামায়াত ই ইসলাম নারীর আচলের নীচে থেকে মজা নিতেছে।দেশে জামায়াত মানে ইসলাম এবং ইসলাম মানে জামায়াত।এখন জামায়াত যদি হয় খারাপ তখন ইসলাম হইয়ে যায় খারাপ।

    1. আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে তাদের জন্য কল্যাণকর বিষয়গুলো বুঝার তাওফীক দান করুন।আমীন।

Leave a Reply